টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাঙ্গুনিয়ায় নৌকা পেতে ১৫ ইউপিতে ৫০ জনের লড়াই: বিএনপি নিরব, তবে…

আব্বাস হোসাইন আফতাব
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি

Rangunia-up-pic-32-1চট্টগ্রাম, ১১ ফেব্রুয়ারি (সিটিজি টাইমস) ::সারাদেশের মতো রাঙ্গুনিয়ায়ও ইউপি নির্বাচন ঘনিয়ে এসেছে। ভোটারদের দরজায় কড়া নাড়ছেন ১৫ ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। জনপ্রিয়তা আর অজনপ্রিয়তা বিষয় নয়, কেউ কেউ আবার নিজে নিজেই দৌড়াচ্ছেন প্রার্থী হয়ে। প্রার্থীতার দৌড়ে জনপ্রিয় ও যোগ্য প্রার্থী যেমন আছেন, তেমনি বির্তকিত প্রার্থীরও অভাব নেই। প্রধান দুই দলেই আছে এদের দৌরাতœ্য। ১৫ ইউনিয়নের ১৩ টিতে রয়েছে ৫ বছর পূর্তির চেয়ারম্যান, ০২টিতে আছেন ভোটবিহীন ১৩ বছর পূর্তির চেয়ারম্যান। বর্তমানে ১৫ ইউপি চেয়ারম্যানের আমলনামা নিয়েও বিশ্লেষণের শেষ নেই স্থানীয়দের মাঝে। কে হচ্ছেন দলীয় প্রার্থী ? এনিয়ে যেমন জল্পনা কল্পনার শেষ নেই, তেমনি সম্ভাব্য প্রার্থীরাও নৌকার মাঝি ও ধানের শীষের পাহারাদার হতে দৌড়ঝাঁপ করছেন দলের কর্তা নেতাদের পেছনে। সাধারন মানুষ সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থা ও অবস্থান নিয়ে করছে বিচার বিশ্লেষন। চলছে সমীকরণ হিসেব নিকাশ। আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রাথীরা নৌকা প্রতীক পেতে লড়াই করেছেন। মরিয়া হয়ে উঠেছেন অনেকেই নির্বাচন কমিশন ঘোষিত আগামী মার্চ মাসে দলীয় পরিচয়ে অনুষ্ঠিত হবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে উপজেলার ১৫ ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য প্রার্থীদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা লবিং। দলীয় মনোনয়ন পেতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ছাড়াও জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে যোগাযো রক্ষা করছেন। চলছে জোর তদবিবর। শেষ পর্যন্ত কে নিয়ে আসছেন দলীয় প্রতীক তা নিয়েও চলছে নানা জল্পনা কল্পনা। এদিকে দীর্ঘ ১৩ বছর স্থগিত থাকা চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ও হোসনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগামী মার্চের ১ম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে বলে উপজেলা নির্বাচন অফিস নিশ্চিত করেছে। দীর্ঘ দিন ২ ইউনিয়নের নির্বাচন না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে নির্বাচন হওয়ার ঘোষণায় তা নিরসন হয়েছে বলে এলাকার সচেতন মানুষ মত প্রকাশ করেছেন। এ দুই ইউনিয়নে নির্বাচন হওয়ার ঘোষণায় এলাকার জনসাধারনের মাঝে খুশির জোয়ার বইছে। 

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল আলম জানান, কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের সাথে সীমানা জটিলতার কারনে হোসনাবাদ ও পৌরসভা রূপান্তর সংক্রান্ত জটিলতার কারনে চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ২০০৩ সালের পর থেকে স্থগিত ছিল। এ সংক্রান্ত জটিলতার অবসান হওয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে আর কোনো বাধা নেই।

ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ব্যানার, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, নানা শোভাযাত্রার মাধ্যমে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে শোডাউনের হিড়িক পড়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিভিন্ন বিয়ে, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে একটু আগ বাড়িয়ে অংশ নিচ্ছে। ভোটারদের জানান দিচ্ছেন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি। মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকায় রয়েছেন পুরাতনদের পাশাপাশি একঝাঁক নতুন মুখ। তবে দলীয় সিনিয়র নেতারা বলছেন প্রার্থীতা বিবেচনায় দলের জন্য ত্যাগ ও সক্রিয় নেতাকর্মীরাই অগ্রাধিকার পাবেন। গত নির্বাচনে চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ও হোছনাবাদ ইউনিয়ন নির্বাচন হয়নি। তবে এবার নির্বাচনে ভোট দেয়ার জন্য ইউনিয়ন ২ টির ভোটররা মুখিয়ে রয়েছেন।

নির্বাচনের ক্ষন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে নির্বাচনী উত্তেজনা। ইউনিয়নগুলোর আওয়ামীলীগ প্রার্থী ছাড়াও বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ইসলামী ফ্রন্টও প্রার্থী দেবে বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র। ১৫ ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে যাদের নাম শুনা যাচ্ছে তারা হলেন রাজা নগর ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন মোস্তফা জাহাঙ্গীর, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক(ভারপ্রাপ্ত) ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার, খালেদ মঞ্জু, দক্ষিন রাজা নগরে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক মিঞা, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুস সালাম সিকদার, জামাল উদ্দিন, ইসলামপুর ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুদ্দৌলাহ দুলাল, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ দপ্তর সম্পাদক কামাল উদ্দিন চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা ইকবাল হোসেন চৌধুরী মিল্টন, লালা নগর থেকে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম তালুকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক জসিম উদ্দিন তালুকদার, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম তালুকদার, হোছনাবাদ ইউনিয়নে উপজেলা যুবলীগ সহসভাপতি মির্জা সেকান্দর, আওয়ামী লীগের প্রকৌশলী মো. লোকমান, মো. আলমগীর, মো. মঈন উদ্দীন বিএনপি থেকে মো. সেকান্দর, স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান রহিম উদ্দিন চৌধুরী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক মো. নুুরুল­াহ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন রিয়াজ, মো. ইব্রাহিম, চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ইদ্রিছ আজগর, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন সম্পাদক ইলিয়াছ কাঞ্চন চৌধুরী,উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবু তাহের, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মঞ্জুর হোসেন, মো. সেকান্দর, বিএনপি থেকে আবদুস সালাম মেম্বার, হাজী শামসুল আলম কন্ট্রাকটর, মরিয়ম ইউনিয়নে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান মো, সেলিম, আওয়ামী লীগের করিম শাহ, সিরাজুল করিম সিকদার, আলতাফ হোসেন, শওকত হোসেন সেতু, ইকবাল হোসেন, মুজিবুর রহমান, সাজ্জাদ হোসেন, পদুয়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সেলিম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাহাবুবুল আলম, আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলম বাদশা, আবু জাফর, শাহাদাত হোসেন তালুকদার, যুবলীগের মো. সেলিম, শিলক ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান শহীদুল­াহ চৌধুরী আইয়ুব খাঁন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম তালুকদার, কোদালা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা নুরুল আজিম, আওয়ামী লীগের আবদুল কাইয়ুম তালুকদার, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মাষ্টার বদিউল আলম, সরফভাটা ইউনিয়নে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুজিবুল ইসলাম সরফি, প্রচার সম্পাদক নিজাম উদ্দিন বাদশা, কেন্দ্রীয় যুবলীগ সদস্য শেখ ফরিদ চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগ সদস্য মো. ইউনুছ, বেতাগী ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা বদিউল আলম তালুকদার উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি হাবীবুল্লাহ চৌধুরী, পোমরা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান ফজলুল কবির গিয়াসু, সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা জহির আহমদ চৌধুরী, মো. জাহেদুল আলম চৌধুরী আইয়ুব, সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দিন, পারুয়া ইউনিয়ন থেকে বতর্মান চেয়ারম্যান জাহেদুর রহমান তালুকদার, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মো.এখতেহার ,সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা নুর মোহাম্মদ মাষ্টার, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মো. জহরুল ইসলাম, বিএনপি থেকে সাবেক চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহিম।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য