টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরাজদের সামনে আজ ইতিহাস গড়ার হাতছানি

চট্টগ্রাম, ১০ ফেব্রুয়ারি (সিটিজি টাইমস) ::  ইতিহাস গড়ার এক ইস্পাতকঠিন প্রত্যয় নিয়ে বৃহস্পতিবার মাঠে নামছে টাইগার যুবারা।

আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে পারলেই স্বপ্নের ফাইনালে পৌঁছাবে স্বাগতিক বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো আইসিসি’র কোনো ইভেন্টের ফাইনালে লেখা হবে বাংলাদেশের নাম।

ক্রিকেট পণ্ডিতরা বলছেন, প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ বলেই বাংলাদেশের সম্ভাবনাটা বেশি। তারা ১৪ ফেব্রুয়ারির ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশকেই দেখছেন।

খেলা মাঠে গড়ানোর আগে ক্রিকেটেপ্রেমী লাখো বাংলাদেশির মনে যে প্রশ্ন ঘুরেফিরে আসছে তা হলো-মুশফিক-সাকিবরা যা পারেননি তাই কি করে দেখাতে চলেছেন মিরাজ-শান্তরা?

আর কয়েক ঘণ্টা পরই বৃহস্পতিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামেই সেই প্রশ্নের উত্ত। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেমিফাইনাল ম্যাচটি শুরু হবে সকাল ৯টায়।

বাংলাদেশ জিতলে ইতিহাসই রচনা হবে মিরপুরে।

এর আগে বাংলাদেশের যুবাদের কোনো দল বিশ্বকাপে সেমিফাইনালেও খেলতে পারেনি। সেখানে মিরাজ-শান্তরা ফাইনালে পৌঁছালে সেটি হবে বাংলাদেশের ক্রিকেটে বড় অর্জনগুলোর একটি।

যুবাদের অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ অবশ্য এত কঠিন করে দেখতে চান না এ ম্যাচটিকে। এমন এক গুরুত্বপূর্ন ম্যাচও ভাবনায় আচ্ছন্ন করতে পারছে না জুনিয়র টাইগারদের অধিনায়ককে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচটিকে ‘সেমিফাইনাল’ হিসেবেও মনে করতে চান না মিরাজ। অন্য সব ম্যাচের মতো করেই এ ম্যাচ নিয়ে ভাবছেন তিনি, সত্যি কথা বলতে, এটা ‘সেমিফাইনাল’ খেলা হিসেবে আমরা মাথায় নিচ্ছি না। আমার কাছে একটি জিনিসই মনে হচ্ছে, কালকে একটি ম্যাচ-ওটা জিততে হবে। আমরা যে কাজটা পারি, যেভাবে অনুশীলন করেছি সেটাকে মাঠে প্রয়োগ করবো। সেমিফাইনাল-দর্শক-চাপ এগুলো আমাদের মাথায় কাজ করছে না। একটাই চিন্তা কালকের ম্যাচে আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে।’

ম্যাচটিকে ‘সেমিফাইনাল’ না মনে করে খেলার পেছনে যুক্তিও দাঁড় করান মিরাজ, ‘আমরা যদি সেমিফাইনাল ভেবে রোমাঞ্চিত এবং আবেগী হয়ে যাই তাহলে কিন্তু ম্যাচটি জিততে পারবো না। ক্রিকেট খেলা এমন একটি খেলা এখানে প্রসেসে থাকতে হবে। আপনি যদি প্রসেস থেকে বের হয়ে যান, তাহলে সফল হতে পারবেন না। রোমাঞ্চ যখন নিজে থেকে অনুভব করা শুরু করবেন তখন চাপ কাজ করবে। তখন ন্যাচারাল খেলা খেলতে পারবেন না।’

বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই ওয়েস্ট ইন্ডিজকেই তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করে ছেড়েছে মিরাজরা। তাদের শক্তি-দুর্বলতা বেশ ভালো জানা স্বাগতিকদের। তবে এসব হিসেবের বাইরে রেখেই স্পিন বোলিং ও ব্যাটিংয়ে নিজেদেরই এগিয়ে রাখলেন মিরাজ, ‘দুই দলের মধ্যে পার্থক্য করলে আমাদের স্পিনাররা অনেক ভালো। ব্যাটসম্যানও অনেক ভালো। ব্যাটসম্যানরা ভালো সংগ্রহ দাঁড় করালে আমাদের স্পিনারদের জন্য কাজটা সহজ হয়ে যাবে। আমরা ওদের কাছ থেকে এগিয়ে আছি স্পিন আক্রমণ ও ব্যাটিংয়ে।’

অন্যদিকে বাংলাদেশের স্পিন নিয়েই বেশি ভাবছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাইতো নেট অনুশীলনে স্পিন বলেই বেশি সময় ব্যাটিং করেছে উইন্ডিজ ব্যাটসম্যানরা।

সংবাদ সম্মেলনে ম্যাচ জেতার ব্যাপারে প্রত্যয়ী মনোভাবের কথাও শোনা যায়নি অধিনায়ক শিমরন হেটমায়ারের কণ্ঠে। বললেন, ‘যতটুকু সম্ভব আমরা অনুশীলনে স্পিন খেলার চেষ্টা করেছি। আমার কাছে মনে হয় এটা আমাদের জন্য ভালো। বাংলাদেশের স্পিনারদের বিপক্ষে খেলার জন্য আমরা প্রস্তুত।’

আশা করা যায়, নিজেদের মাঠে এদিন গ্যালারিতে ‘বাংলাদেশ-বাংলাদেশ’ স্লোগানে গলা ফাটাবে দর্শকেরা। তবে এটাকে চাপ হিসেবে নিতে চান না উইন্ডিজ অধিনায়ক। তবে এটি যে চ্যালেঞ্জ হবে সেটি মানছেন তিনি, আমাদের দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটার এতো দর্শকের সামনে কখনও খেলেনি। তবে সবাই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত।’

হোম ভেন্যু হিসেবে বাংলাদেশ যে সুবিধা পাবে সেটিও মনে করিয়ে দেন হেটমায়ার, ‘যখন দর্শকরা আমাদের উৎসাহ যোগাবে না, তখন আমরা খুব বেশি স্বস্তিতে থাকবো না-এটাই স্বাভাবিক। তবে বিষয়টিকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিয়েছি। দলের সবাই তাদের মূল কাজটা ঠিকভাবে করতে পারলে আমাদের জেতার ভালো একটি সুযোগ আছে।’

বাংলাদেশ অবশ্য কোনো সুযোগই দিতে চায় না ক্যারিবীয়দের। আগে ব্যাটিং পেলে স্কোরবোর্ডে ২৫০ এর উপরেই রান দেখতে চান মিরাজ। তা হলে সুদৃঢ় স্পিন আক্রমণ দিয়ে প্রতিপক্ষকে এ রানের আগেই বেঁধে ফেলা সম্ভব বলে মনে করছেন জুনিয়র টাইগারদের সফল এ অধিনায়ক।

‘আগে ব্যাটিং করলে আমাদের লক্ষ্য থাকবে ২৫০ প্লাস করা। আমাদের দলে বেশ ভালো মানের বোলার আছে। আমার মনে হয় বোলারদের জন্য ২৫০ রান ভালো স্কোর। আমরা সবাই ভালো খেলতে মুখিয়ে আছি। যদি আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, অবশ্যই সফল হবো।’

বলা বাহুল্য, আজ মাঠে মিরাজদের সাফল্য দেখার অপেক্ষায় থাকবে পুরো বাংলাদেশ।

মতামত