টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কাজীর দেউড়ি বাজারে ৩২০ কেজি ওজনের কোরাল

photo-Akmalচট্টগ্রাম, ১০ ফেব্রুয়ারি (সিটিজি টাইমস) ::  চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়ি বাজারে ৩২০ কেজি ওজনের কৈ কোরাল মাছ বাজারে ঢুকতেই উৎসুক মানুষের ভিড়।

সারা বাজারজুড়েই হৈচৈ। কেউ কেউ ক্যামেরা মোবাইল দিয়ে ছবি তুলতে ব্যস্ত। মানুষের ভিড় ঠেলে সামনে এগুতেই চোখ আটকে গেল সাত ফুট লম্বা বিশাল আকৃতির কৈ কোরালে।

আজ বুধবার নগরীর কাজীর দেউড়ি বাজারজুড়ে ভোজন রসিকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল বরফে ঢাকা ৩২০ কেজি ওজনের এই কৈ কোরাল।

সারাজীবন মাছ বিক্রি করতে গিয়ে সবচেয়ে বড় মাছটি নিজের মালিকানায় দেখে খুশিতে আত্মহারা মাছ বিক্রেতা মিজান সওদাগর ! আর মাছ সামলানোর চাইতেও উপচেপড়া জনতার ভিড় সামাল দিতেই হিমশিম খাচ্ছিলেন তিনি।

কাজীর দেউড়ি বাজারের ব্যবসায়ী মিজান সওদাগর মাছটি তার দোকানে( দোকান নং-৫৯) তুলেছেন।

মিজান জানান, কক্সবাজার এলাকায় গভীর সমুদ্রে কয়েকদিন আগে মাছটি জেলেদের জালে ধরা পড়ে। সেখান থেকে তিনি এটি কিনে বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছেন কাজীর দেউড়ি বাজারে।মাছটি কৈ কোরাল প্রজাতির। এর ওজন ৩২০ কেজি ।

মিজান সওদাগর আরো জানান, মাছটি কেটে কেজি হিসেবে বিক্রি করা হবে। প্রতি কেজির দাম ধরা হয়েছে ১ হাজার টাকা। শুক্রবার (১২ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭ টার দিকে কাটা হবে এটি । বুধবার থেকেই ক্রেতাদের কাছ থেকে মাছের অগ্রিম বুকিং নেয়া শুরু হয়েছে।

বিশাল আকৃতির এ মাছের স্বাদ সামুদ্রিক লাক্ষ্যা ও কোরালের মতোই, তবে বিশাল আকৃতির হওয়ায় এই কৈ কোরালের স্বাদ আরো বেশি হবে বলে জানান মিজান সওদাগর।

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ও বনেদি পরিবারের অনেকেই এধরনের মাছ কিনতে বাজারে ভিড় জমায়। চট্টগ্রামে বসবাসরত চীন ও কোরিয়ার নাগরিকরা এমনকি ঢাকা থেকেও কেউ কেউ এজাতীয় মাছ কেনার জন্য চট্টগ্রাম চলে আসেন।

বিক্রেতারা ইতোমধ্যে দোকানের বিশেষ ক্রেতাদের ফোন করে মাছের কথা জানিয়েছেন। প্রতি কেজি মাছ ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি করা হবে। সে হিসেবে পুরো মাছের দাম দাঁড়াবে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা !

এ ধরনের বড় মাছের ব্যাপক চাহিদা আছে উল্লেখ করে বিক্রেতা মিজান সওদাগর বলেন, মাছ কাটার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুরো মাছ বিক্রি হয়ে যায়। গতবারও প্রায় একশ ক্রেতা মাছ না কিনে ফেরত গিয়েছিল।

অনেকে আগে থেকে বলে রাখে, যেন মাছ আসার সাথে সাথে তাদের খবর দেই। বিক্রেতারা জানান, সুস্বাদু হওয়ার কারণে এধরনের মাছের চাহিদা দেশের বাইরেও রয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবসহ আরব দেশগুলোতে এ মাছের চাহিদা বেশি। সেখানে কৈ কোরাল হামুর নামে পরিচিত। প্রতি বছর দেশ থেকে প্রচুর কৈ কোরাল বিদেশে রপ্তানি হয়।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত