টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাজনীতি-বাক স্বাধীনতা দেখতে ইইউ প্রতিনিধি দল ঢাকায়

চট্টগ্রাম, ১০ ফেব্রুয়ারি (সিটিজি টাইমস) :: দেশের সার্বিক রাজনৈতিক, বাক স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও শ্রম পরিস্থিতি সরজমিন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল বুধবার সকাল থেকে ঢাকা সফর শুরু করছে। আগামী চার দিন ৪ সদস্যের ওই প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বাংলাদেশে থাকবেন।

সফরকালে তারা বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সুশাসন, পোশাক শিল্পকারখানার নিরাপত্তা ও শ্রমিকদের অধিকার বিষয়ে সরকার, বিরোধী নেতৃত্ব এবং বিভিন্ন স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলবেন।

ঢাকাস্থ ইইরোপীয় ইউনিয়ন ডেলিগেশন প্রধানের কার্যালয় জানিয়েছে, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এমপি জিন ল্যাম্বার্ট প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। ওই দলের অন্য ৩ সদস্যে হলেন- রিচার্ড হাওইট, ইভেন স্টিফেন্স এবং সাজাদ কারিম।

প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ঢাকার পথে রয়েছেন উল্লেখ করে ইইউ সূত্র জানায়, মঙ্গলবার মধ্যরাত এবং বুধবার ভোরে তারা ঢাকায় পৌঁছাবেন। বুধবার থেকে তাদের সফরের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইইউ সূত্র জানায়, সফরকালে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে পারেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাদের অ্যাপয়েনমেন্ট রয়েছে। এছাড়াও জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তারা বৈঠক করবেন। ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার আগে সফরের বিষয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন প্রতিনিধিদলের প্রধান।

বাংলাদেশ পরিস্থিতি সরেজমিন পর্যবেক্ষণে ইইউ পার্লামেন্টের সদস্যরা প্রায় প্রতি বছরই বাংলাদেশ সফর করেন। তবে এবারে তাদের সফরের বাড়তি তাৎপর্য রয়েছে বলে মনে করছেন ঢাকার কর্মকর্তারা।

গতকাল সফর-সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা মানবজমিনের সঙ্গে আলাপে বলেন, সামপ্রতিক সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার বিষয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বাংলাদেশবিষয়ক সর্বশেষ গৃহীত প্রস্তাবে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফরেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পেতে পারে।

এছাড়া গত কয়েক মাসে বাংলাদেশে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড বিশেষ করে দু্‌জন বিদেশী হত্যা, ব্লগার ও প্রকাশক হত্যা, সমালোচক নাগরিক সমাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে সরকারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাদের আলোচনা হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত মাসের শেষের দিকে শ্রম পরিস্থিতি, বিশেষ করে রানা প্লাজা পরবর্তী বাংলাদেশের শ্রমমানের উন্নয়নে পশ্চিমা দুনিয়ার সহযোগিতায় সরকার গৃহীত কর্মপরিকল্পনা ‘সাসটেইনিবিলিটি কম্প্যাক্ট’-এর অগ্রগতি পর্যালোচনায় অনুষ্ঠিত ঢাকা বৈঠকে অন্য দেশের সঙ্গে ইইউ প্রতিনিধিরাও যোগ দিয়েছেন। ওই পর্যালোচনায় বেশ কিছু বিষয়ে বাংলাদেশের অগ্রগতি প্রশংসিত হলেও শ্রমিক ইউনিয়ন নিবন্ধনে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইইউসহ পশ্চিমা প্রতিনিধিরা। ঢাকা সফরে আসা ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরাও এ নিয়ে কথা বলতে পারেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত