টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সেই পুতুনীই কী, দোহাজারী থেকে হারিয়ে যাওয়া এই সুলতানা!

DSC0264চট্টগ্রাম, ০৮ ফেব্রুয়ারি (সিটিজি টাইমস) :: স্বজনদের খোঁজে দীর্ঘ ৩৭ বছর পর মার্তৃভূমিতে ফিরে এসেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক নেদারল্যান্ড নাগরিক সুলতানা ভ্যান ডি লিস্ট। এই নারী এখন হন্যে হয়ে খুঁজে ফিরছেন তার অতীত এবং নিকট স্বজনদের।

গত ১ ফেব্রুয়ারী পূর্ব পুরুষের সন্ধানে স্বামী ইউবি জ্যাকব ও সন্তান নোয়া আবেদ নাবিলা জ্যাকবস কে নিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন সুতানা।

এদিকে, ৩৭ বছর আগে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে হারিয়ে যাওয়া সুলতানা ভ্যান ডি লিস্টের স্বজনদের ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।

জানা গেছে, বর্তমানে তার স্বজনদের সবাই সৌদি আরবে ধনাঢ্য ব্যবসায়ী হিসাবে নিজস্ব মালিকানায় বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন।

গতকাল রোববার সকালে সৌদি আরব থেকে মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তি সুলতানার ভাই পরিচয়ে এ প্রতিবেদকের কাছে ফোন করে জানান, সুলতানা তাদেরই হারিয়ে যাওয়া ছোট বোন।

তিনি জানান, ১৯৭৫ সালের দিকে তার বাবা চান মিয়া ও মা গুলবাহার খাতুন ৬ ভাই ও দুই বোনসহ পুরো পরিবার নিয়ে মিয়ানমার (তৎকালীন বার্মা) থেকে বাংলাদেশে এসে সে সময়কার পটিয়া থানার দোহাজারী রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় বসবাস শুরু করে। ওই সময় মা বাবার সাথে এদেশে আসা তার ভাই-বোনেরা হলো হাজেরা খাতুন , আবু সিদ্দিক, সুলতান, সোলেমান, মোহাম্মদ, শফিক, রফিক ও শব মেরাজ পুতুনী। আজকের সুলতানা ভ্যান ডি লিস্টই (৪৩) তাদের হারিয়ে যাওয়া ছোটবোন শব মেরাজ পুতুনী, যে ৩৫/৩৬ বছর আগে দোহাজারী রেলওয়ে স্টেশন থেকে হারিয়ে গিয়েছিল।

মোহাম্মদ জানায়, ১৯৭৭ সালে তার বাবা মারা যায়। ১৯৭৯ বা ৮০ সালের দিকে তার ছোটবোনটি ঘর থেকে বের হয়ে হারিয়ে যায়। এরপরে তারা অনেক জায়গায় খোঁজ করেও বোনের সন্ধান পাননি বলেও জানান মোহাম্মদ।

তিনি আরো জানান যে, ১৯৮১ সালে তারা দুইভাই সৌদি আরব চলে যান। এরপরে পর্যায়ক্রমে মা গুলবাহারকে নিয়ে পরিবারের অন্যরাও সৌদি আরবে চলে যান। বর্তমানে তারা সৌদি আরবে স্ব স্ব ক্ষেত্রে সবাই প্রতিষ্ঠিত।

প্রসঙ্গত, গত ৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের বেসরকারি একটি চ্যানেলে সুলতানা ডি লিস্টের প্রতিবেদন প্রচারের পর তারা নিশ্চিত হন এই সুলতানাই তাদের হারিয়ে যাওয়া ছোটবোন শব মেরাজ ওরফে পুতুনী।

মোহাম্মদ আরো জানান, সুলতানাকে তাদের বোন হিসাবে পরিচয় নিশ্চিত করতে পুরো পরিবার নিয়ে বাংলাদেশে আসতে চান। প্রয়োজনে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে তাদের সবাই নেদারল্যান্ডে যেতেও প্রস্তুত। মোহাম্মদ আরো জানিয়েছেন টেলিভিশনে প্রতিবেদন দেখার পর থেকে তার মা মেয়ের চিন্তায় অস্থির হয়ে নাওয়া খাওয়া ছেড়ে দিয়ে শুধু কান্নাকাটি করে চলেছেন।

সৌদি আরব থেকে মোহাম্মদের দেয়া তথ্যের ব্যাপারে জানতে দোহাজারী রেলওয়ে স্টেশন এলাকার ৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ গোলাম ছোবহানের সাথে কথা বললে তিনি জানিয়েছেন প্রায় ৪০/৪২ বছর আগে চান মিয়ার পুরো পরিবার বার্মা থেকে এদেশে এসে তার বাড়ির পাশের একটি মাটির ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করে। এখানে আসার কয়েক বছর পর তাদের পুতুনী নামের ছোট মেয়েটি একরাতে হঠাৎ করে হারিয়ে যায়। গোলাম ছোবহানেরও ধারণা স্বজনদের খোঁজে নেদারল্যান্ড থেকে দোহাজারী আসা সুলতানাই চান মিয়ার ছোট মেয়ে পুতুনীই হতে পারে। একইভাবে এলাকার সালেহা বেগম (৬০) জানিয়েছেন, দোহাজারী থেকে হারিয়ে যাওয়া চান মিয়ার ছোট মেয়ে শব মেরাজ ওরফে পুতুনীই সুলতানা হবে বলে তার বিশ্বাস।

গতকাল ৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ডাচ তরুণী সুলতানা ভ্যান ডি লিস্ট স্বামী সন্তান নিয়ে স্বজনদের খোঁজে চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী, উল্লাপাড়া এবং সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া এলাকায় ঘুরে বেড়ান। এসময় একেকজন একেকভাবে সুলতানাকে নিজেদের বোন পরিচয় দিলেও কারো বক্তব্য তিনি নিজের জীবনের সাথে মেলাতে পারেননি। ফলে দ্বিতীয়দিনের মতোও তাকে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারিও তিনি দোহাজারী এলাকায় স্বজনদের খোঁজে চষে বেড়ান।

উল্লেখ্য ১৯৭৯ সালে মাত্র ৫/৬ বছর বয়সে সুলতানাকে এক ডাচ দম্পতির কাছে জনৈক মুসলেম উদ্দীন নামের এক ব্যক্তি দত্তক দিয়েছিলো বলে চট্টগ্রামে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান সুলতানা ভ্যান ডি লিস্ট। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো জানান, দত্তক দেওয়ার সময় তার মা বাবা মৃত বলা হলেও তার বিশ্বাস তার মা অথবা বাবা কেউ না কেউ এখনো বেঁচে আছেন

মতামত