টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সাতকানিয়ায় গুলিতে সেচ্ছাসেবকলীগের দুই নেতা গুরুতর আহত

চট্টগ্রাম, ০৮ ফেব্রুয়ারি (সিটিজি টাইমস) :: দক্ষিন চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে এক সেচ্ছাসেবকলীগ নেতাসহ দুই ব্যাক্তি গুরুতর আহত হয়েছে। 

এ ঘটনায় আহতরা হলো চরতী ইউনিয়নের পানি চরতী এলাকার আব্দুল কাদেরের পুত্র মোহাম্মদ ফারুক (৩২) ও আব্দুর রহমানের পুত্র মোহাম্মদ শাহজাহান (৪০)।

গতকাল রবিবার রাত আনুমানিক নয়টার সময় চরতী ইউনিয়নের দুরদুরী পানি চরতী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় ফারুক ও শাহজাহান দুরদুরী ষ্টেশন থেকে মোটর সাইকেল যোগে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। আহতদের স্থানীয় উদ্ধার করে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরন করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন।

চরতী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করছিলেন।

গুরুতর আহত ফারুক সাতকানিয়ার কাঞ্চনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রমজান আলীর অনুসারী হিসেবে বেশ পরিচিত।

ঘটনার খবর পেয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ ফরিদ উদ্দিন খন্দকারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরির্দশন ও ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে।

সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাঞ্চনার চেয়ারম্যান রমজান আলী জানান, ফারুক চরতী ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ন আহবায়ক। আর শাহজাহান প্রথম সারির কর্মী।

তিনি বলেন, চরতীতে কোন ধরনের দলীয় কোন্দল নেই। যারা দেশে অস্থিতিশীল করতে চাই তারাই ফারুককে হত্যার উদ্যেশে গুলি করেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. সোমেন ধর বলেন, পারুকের বুকে ও মাথায় ১৮টি ও শাহজাহানের পিঠে ৩৭টি ছররা গুলি বিদ্ধ হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরনে প্রকাশ, ঘটনার আগে দুরদুরী ষ্টেশন থেকে মোটর সাইকেল চালিয়ে ফারুক ও শাহজাহান নিজ বাড়িতে ফিরছিল। এমন অবস্থায় আগে থেকে উৎপেতে থাকা সন্ত্রাসীরা ফারুককে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। এতে ফারুকের বুকে ও শাহজাহানের পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় গড়িয়ে পড়ে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসায় সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সাতকানিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।

তবে স্থানীয় সূত্র জানায়, আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রভাবশালী হয়ে উঠা ফারুকের সাথে এলাকার শালিস বিচার নিয়ে বেশ কিছু মানুষের বিরোধ চলে আসছিল। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে থানার দায়িত্বরত অফিসার এস আই লোকমান হোসেন বলেন, ঘটনার খবর পেয়েই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন খন্দকারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ঘটনার তদন্তের পাশপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে।  

মতামত