টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সুর পাল্টালো সাংসদ লতিফের

 albdচট্টগ্রাম, ০৭ ফেব্রুয়ারি (সিটিজি টাইমস) ::  বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতির অভিযোগ ওঠার পর থেকেই বিরোধী পক্ষকে দায়ী করে আসছিলেন চট্টগ্রামের আলোচিত সাংসদ এমএ লতিফ। বিরোধীরা ষড়যন্ত্র করে তার নামে পোস্টার ছাপিয়ে তাতে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতি করেছে বলে গতকাল শনিবারও দাবি করেন এই সাংসদ। তবে একদিনের মাথায় পাল্টে গেছে তার সুর। এবার তিনি এর দায় চাপালেন প্রেস মালিকের ওপর। হায়দার প্রিন্টার্সের (ছাপাখানা) মালিক ও কর্মচারীকে হাজির করে সংবাদ সম্মেলনে ক্ষমা প্রার্থনাও করিয়েছেন এমএ লতিফ।

এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের অপর একটি অংশকে দায়ী করে দেয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেন আলোচিত এই সাংসদ। তবে এ ঘটনার জন্য দলের যেকোনো সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নেবেন বলে জানান তিনি।

আজ রবিবার দুপুরে চট্টগ্রাম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন বন্দর-পতেঙ্গা আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ এম এ লতিফ।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম চেম্বারের পোস্টার ও ফেস্টুন তৈরির প্রতিষ্ঠান আন্দরকিল্লার হায়দার প্রিন্টার্স বঙ্গবন্ধুর ছবি বড় করতে গিয়ে এম এ লতিফের ছবি ব্যবহার করেছে। চেম্বারের কর্মচারী রাজীব দাসের মোবাইল থেকে মুজিব কোট পরা এম এ লতিফের ছবি দিয়ে বড় ফেস্টুন তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি।

সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতি করার ঘটনা উদঘাটন করতে পেরেছেন বলে দাবি করেন এমপি লতিফ।

এর আগে গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে লতিফ দৃঢ়তার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতির সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে এটাকে তার বিরোধী একটি চক্রের ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেন। বন্দর-পতেঙ্গা আসনে মনোনয়ন না পেয়ে একটি চক্র তার বিরুদ্ধে গত সাত বছর ধরে নানা রকমের অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীকে অভিযুক্ত করেও গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন লতিফ।

এদিকে, বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতি করার দায়ে সাংসদ লতিফকে তিন দিনের মধ্যে জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছে বন্দর-পতেঙ্গা এলাকার আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন। রবিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এ দাবি জানান। ক্ষমা প্রার্থনা না করলে বন্দর ও পতেঙ্গা এলাকায় এমপি লতিফকে অবাঞ্ছিত করার ঘোষণাও দেয়া হয়।

প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চট্টগ্রাম সফর উপলক্ষে চট্টগ্রাম-১১ আসনের এমপি এম এ লতিফের নামে নগরীর টাইগারপাস থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানের রাস্তার দু’পাশে ওই পোস্টার লাগানো হয়। এসব পোস্টারে ফটোশপের মাধ্যমে এম এ লতিফের শরীরের ওপর বঙ্গবন্ধুর মুখ লাগানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সব পোস্টারের নিচে এম এ লতিফের উদ্ধৃতি ছিল। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের আদালতে তার বিরুদ্ধে এক হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা করেছেন দলেরই সহযোগী সংগঠনের এক নেতা।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত