টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

তামিমের সাথে রমিজ রাজার আচরণে নিন্দার ঝড়

captureচট্টগ্রাম, ০৭ ফেব্রুয়ারি (সিটিজি টাইমস) :: পাকিস্তান ক্রিকেট লীগের পুরস্কার বিতরণীকে কেন্দ্র করে আবারো বাংলাদেশী ক্রিকেটভক্তদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন পাকিস্তানি ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা।

শনিবার পিএসএলের ম্যাচ শেষে তামিম ইকবালকে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হিসেবে সাক্ষাতকার নেবার সময় তিনি প্রশ্ন বলেন, ‘আমি তোমার ভাষা জানি না, তুমি কি ইংরেজিতে বলবে নাকি…’

রমিজ রাজার এই প্রশ্নে চটেছেন বাংলাদেশী ক্রিকেটভক্তরা। এই ঘটনার ভিডিও শেয়ার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর কড়া সমালোচনা করছেন অনেকে।

অনেকে ধারণা করছেন, তামিম ইংরেজি কিংবা উর্দুতে কথা বলবেন কিনা সেটিই জানতে চেয়েছিলেন রমিজ রাজা। তবে এর আগেও রমিজ রাজা বিভিন্ন সময় তামিম ইকবালের সাক্ষাতকার নিয়েছেন এবং সেই ম্যাচেও এর আগে তামিমের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। তারপরও এধরণের প্রশ্ন করাটা অবাক করেছে অনেককে।

টুইটারে তারিফ নামের একজন লিখেছেন, ‘তামিম রমিজ রাজা থেকে ভালো ইংরেজি বলে, এমন বোকাভাবে তামিম ইকবালকে প্রশ্ন করা দেখে আমি অবাক…।’

ফেসবুকে বিনতে আদেল নামে একজন লিখেছেন, ‘রমিজ রাজার বাংলাদেশ, বাংলাদেশের ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের নিয়ে তাচ্ছিল্যের মাত্রা সীমা অতিক্রম করেছে…।’

লোপা হোসাইন নামে একজন লিখেছেন, ‘রমিজ রাজা যেন আর কোনোদিন বাংলাদেশের পবিত্র মাটিতে পা রাখতে না পারে, সে ব্যবস্থা নেয়া উচিত বিসিবির.. ’

ক্রিকেটপ্রেমী রাফিউল সাব্বির লিখেছেন, ‘একটা ক্রিকেট লিগ, যেখানে প্রচুর বিদেশি প্লেয়ার খেলতেছে, সেখানে একজন ধারাভাষ্যকার বিদেশি প্লেয়ারের কাছে কেন জানতে চাইবে কোন ভাষায় কথা বলবো, সেইটা বোধগম্য না। পাকিস্তানি ছাগলগুলা ইংরেজি পারে না, সো পাকিস্তানি না হইলে সে ইংরেজিতে কথা বলবে, হিসাব শেষ।…’

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেগুলোতে তাকে উদ্দেশ্য করে গালির তুবড়ি ছোটাচ্ছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। দেশ-বিদেশের অনেক মিডিয়ায়ও তাকে দেওয়া হচ্ছে ছি-ছিক্কার, দুয়োধ্বনি। ‘আসল ছাগল’, ‘বিরল প্রজাতির ছাগল’, ‘খবিশ রাজা’, ‘ছেঁচড়া’, ‘কানকাটা’, ‘বড় রাজাকার’, ‘অশিক্ষিত’, ‘গাধার বাচ্চা’ ইত্যাদি বিশেষ বিশেষণও জুটছে তার নামের সঙ্গে।

তবে তামিম ইকবাল হাসিমুখেই বলেন তিনি ইংরেজিতে কথা বলবেন এবং সাক্ষাতকারটিও তিনি ইংরেজিতেই দেন।

এর আগের দিন করাচি কিংসের হয়ে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হন বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান। সেদিনও ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হিসেবে প্রথমে লেন্ডন সিমন্সের নাম ঘোষণা করেন রমিজ রাজা।

পরে শুধরে নিয়ে ঘোষণা করেন সাকিব আল হাসানের নাম।

বিব্রত সিমন্স মঞ্চ ত্যাগ করলে সাকিব আল হাসান পুরস্কার গ্রহণ করেন।

রমিজ রাজার এই কাণ্ডকে মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় উপস্থাপক স্টিভ হার্ভির ভুলের সাথে তুলনা করে ব্যঙ্গ করছেন কেউ কেউ।

রমিজ রাজা এর আগেও বাংলাদেশী ক্রিকেটভক্তদের রোষানলে পড়েছেন।

২০১৫ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশ দল নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করায় বাংলাদেশী ক্রিকেটভক্তরা তার সমালোচনা করেন। সেসময় রমিজ রাজার কুশপুত্তুলিকাও দাহ করা হয় ঢাকায়।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত