টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

এখনো স্বজনদের খুঁজে পাননি সেই সুলতানা

চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

sচট্টগ্রাম, ০৬ ফেব্রুয়ারি (সিটিজি টাইমস) ::  স্বামী-সন্তান নিয়ে চট্টগ্রাম দোহাজারী রেলস্টেশনে শৈশবস্মৃতি খুঁজে ফেরেন নেদারল্যান্ডস থেকে আসা সুলতানা।

একটি রেলস্টেশন ও এর পাশে ব্যস্ত বাজার—শুধু এটুকু ঝাপসা স্মৃতি মনে নিয়ে ৩৭ বছর পর নিজের শিকড়ের সন্ধানে নেদারল্যান্ডস থেকে বাংলাদেশে ছুটে আসা সেই সুলতানা এখনো তাঁর স্বজনদের কাউকে খুঁজে পাননি। গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে তিনি তাঁর দাদার বাড়ি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী এসে রেলস্টেশনসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে শৈশবের স্মৃতি খুঁজে ফিরেছেন। কিন্তু স্বজনদের খোঁজ না পেয়ে বিকেলে চট্টগ্রাম শহরে ফিরে যান।

সুলতানা আসার খবরে এলাকায় লোকজনের ভিড় জমে যায়। অনেকেই তাঁর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে এলাকার জনপ্রতিনিধির কাছে ছুুটে যান। কিন্তু তথ্যগত ভুলের কারণে গতকাল পর্যন্ত তাঁর কোনো স্বজন খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়নি। সুলতানা জানান, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি তাঁর স্বজনদের খোঁজ করবেন। ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি নেদারল্যান্ডসের উদ্দেশে রওনা হবেন।

সুলতানা জানান, তাঁর জন্ম ১৯৭৫ সালে চট্টগ্রামের চন্দনাইশের দোহাজারী ইউনিয়নে। জন্মের পর মা-বাবা মারা যাওয়ায় দাদির আশ্রয়ে ছিলেন তিনি। কিন্তু চার বছর পরই দাদি তাঁকে ঢাকায় নেদারল্যান্ডসভিত্তিক একটি শিশুকল্যাণ সংস্থার হাতে তুলে দেন। সেখান থেকে এক ডাচ্ দম্পতি তাঁকে দত্তক সন্তান হিসেবে নেদারল্যান্ডসে নিয়ে যান। সেখানেই ডাচ্ নাগরিক হিসেবে বড় হয়েছেন তিনি। দত্তক মা-বাবা তাঁর নাম রাখেন সুলতানা ফন দ্য লেস্ত। পড়ালেখা শেষ করে ঢুকেছেন শিক্ষকতা পেশায়। বিয়ে করেছেন ডিজাইনার ইয়োরিস ইয়াকবসকে। স্বামী ও তাঁর ১০ বছর বয়সী একমাত্র ছেলে নোয়াহ আবেদ নাবিলা ইয়াকবসও তাঁর সঙ্গে বাংলাদেশে এসেছেন।

দত্তককালীন সময়ের একটি এফিডেভিটের কপি সম্বল করে গত ১ ফেব্রুয়ারি সুলতানা এ দেশে এসেছেন। ওই কপি অনুযায়ী, তাঁর দাদির নাম রহিমা খাতুন আর দাদার নাম মৃত কদম আলী। লেখা আছে, সুলতানার মা-বাবা বেঁচে নেই। তাঁর খরচ বহনে অক্ষম দাদি কোনো দাবি ছাড়াই নাতনিকে দত্তক দিয়েছেন।

মতামত