টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সীতাকুণ্ডের শিম যাচ্ছে বিদেশে

মো. ইমরান হোসনে
সীতকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

SHIM-Pictureচট্টগ্রাম, ০৫ ফেব্রুয়ারি (সিটিজি টাইমস) ::  ভূ-প্রকৃতিগতভাবে শিম চাষের অন্যতম হিসেবে স্বীকৃত সীতাকুণ্ড উপজেলা। শীতের শুরুতে পুরো উপজেলা নানা জাতের শিম গাছে ভরে উঠে মাঠ-ঘাট, রাস্তা ও বাড়ির আশপাশ। প্রতি বছরের ন্যায় এবারো সুস্বাদু শীতকালীন সবজী চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। গত বছরের সম পরিমান শিম উৎপাদন হওয়ায় বার্ষরিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে এই সবজী চাষে। অনেকটা খরচবিহীন সবজীতে অধিক লাভ হওয়ায় উৎসাহ ভরে চাষ করে সব শ্রেনীর মানুষ।

কার্তিক মাসের শুরুতে বীজ বপনের মাধ্যমে শুরু হয় শিম চাষের যাত্রা। কম খরচের সহজ লভ্য চাষে অধিক ফলন ঘরে উঠায় প্রতিটি পরিবার দুটি-একটি চারা রোপন করে বাড়ির আশ-পাশে পতিত জায়গায়। প্রকৃতিকভাবে সু-স্বাদু সবজীর একমাত্র আবাদ হয় সীতাকুণ্ড অঞ্চলের বেলে-দোঁআশ মাটিতে। তাই মহাসড়কের দু’পাশ হয়ে প্রতিটি জায়গায় অজস্র শিম গাছের সারি চোখে পড়ে। যা রীতিমত চোখে তাক লাগিয়ে যায় অন্যান্য অঞ্চলের মানুষদের। তবে সীতাকুণ্ডের প্রত্যান্ত অঞ্চলে শিমের ফলন হলেও উৎপাদনে খ্যাতি রয়েছে দারগাহাট,টেরিয়াইল,নুনাচরা,বটতল,শেখপাড়া,গুলিয়াখালি,গুপ্তাখালি,বাশবাড়িয়া ও বাড়বকুণ্ড এলাকায়। প্রকৃতিগত কারণে এই অঞ্চলের মাটিতে শিম চাষে বিশেষ বৈশিষ্ট রয়েছে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়।

কার্তিক মাসে লাগানো বীজ হতে এক মাসে ফুল ফুটা শুরু করে ফল দিয়ে যায় শিম গাছ। বীজ অংকুরদগমি হওয়ার সাথে সাথে লাগিয়ে দেয়া হয় খুটি। শীতের তীব্রতার সাথে বেড়ে উঠা গাছগুলো ফুল দেয়ার কিছু দিনের মধ্যে ফলন আসে ঘরে। প্রতি বছর এই সবজীর আয় দিয়ে বাকি ফসলের খরচ মিটায় কৃষকরা। এছাড়া দেখা যায় শীমের টাকায় ঘরে কিছুটা সঞ্চয় তোলে কৃষকরা। গত বছর ২ হাজার হেক্টর জমিতে শিম চাষ হয়েছিল। তা এবছর বাড়িয়ে ২ হাজার ৫’শ হেক্টরে দাড়িয়েছে । লাভ হওয়ায় ধানের জমিতে সবজীতে বেশী ঝুকছে চাষীরা। ২ হাজার ৫’শ হেক্টর ফসলী জমিতে সুরি শিম, কাতি কুটা,বাটা ও পুটি শিম চাষ করে থাকে কৃষকরা। যার মধ্যে বেশী চাষ হয় চুরি শিম। বর্তমানে প্রতি কেজি শিম ২০-২৫ টাকা এবং বীচি ৬০-৭০ দরে বাজারে বিক্রি চলছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর শিম চাষ হতে লক্ষ্যমাত্রার অধিক ফলস আসবে বলে ধারনা করছেন উপজেলা সহকারী কৃষি সুভাষ দে।

এদিকে অনাবাদী জমিতে সবজী চাষ করে খুবই খুশি কৃষকরা। টেরিয়াইল এলাকা কৃষকর শহিদুল ইকরাম শহিদ বলেন, কম খরচে শিম চাষে অধিক লাভ হওয়ায় কৃষকরা এই স্ববজী চাষে খুবই উৎসাহ পায়। তাই শীতের দিনে শিম গাছে ঢেকে পড়ে গ্রাম থেকে গ্রাম।

সীতাকুণ্ডে উৎপাদিত শিম দেশের অভ্যান্তরে যেমন নাম-ডাক অর্জন করেছে। তা দেশ পেরিয়ে বিদেশের মাটিতে গিয়ে অর্থ উপার্জন করে আনছে। বিশেষ করে প্রতি বছর ভারত,পাকিস্থান,কুয়েত,কাতার,সৌদী আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে এই সবজী। সারা বছর শিম চাষ যাতে করা যায় সে লক্ষে কাজ করছে উপজেলা কৃষি অফিস।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুশান্ত শাহা বলেন, ‘ বিগত সময়ের তুলনায় চাষী বেড়েছে, সে সাথে বেড়েছে আবাদী জমির পরিমান। তবে শিমের সারা বছর চাষ ধরে রাখার কোনো উপায় বের করতে পারলে এ অঞ্চলে শিমের আবাদ বহু পরিমান বেড়ে যাবে। আমরাও সে লক্ষে গবেষনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

মতামত