টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাউজানের নোয়াপাড়ায় কোটি টাকায় নির্মিত ফ্রি মেডিক্যালসহ সেবামুলক প্রতিষ্ঠান 

এস.এম. ইউসুফ উদ্দিন
রাউজান প্রতিনিধি 

Raozan-samhaldar-para-picচট্টগ্রাম, ৩০  জানুয়ারি (সিটিজি টাইমস) :  চট্টগ্রামের রাউজানে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে পিতা-মাতার নামে ব্যক্তি উদ্যোগে নির্মাণ করা হয়েছে সেবামুলক প্রতিষ্ঠান। যেখানে রয়েছে বিনামুল্যে চিকিৎসা প্রদানের জন্য মেডিক্যাল সেন্টার, আবাসিক অনাবাসিক এতিমখানা ও হেফজখানা, কারিগরি ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। আয়েশা ম্যাডিক্যাল ও হাজী জালাল হেফজখানা ও এতিখানা নামের সেবামুলক এ প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে যাত্রা শুরু করবে ৩১ জানুায়ারী ২০১৬ইং রবিবার। এ প্রতিষ্ঠান নির্মাণের ফলে এলাকার গরীব অসহায় মানুষেরা তাদের সন্তানদের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলতে পারবে বিনা পয়সায়। পাশাপাশি অসহায়রা বিনামুল্যে উন্নতমানের চিকিৎসা সেবাও পাবে এখান থেকে।

উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কমলার দিঘি নেমে হযরত মোহাম্মদ শাহ সড়ক হয়ে সামহালদার পাড়া গ্রামের হাজী জালাল মঞ্জিলস্থ এ প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেছেন তরুণ ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মোহাম্মদ আলী। অত্যন্ত দৃষ্টি নন্দন ও বিলাস বহুল বিনামুল্যে সেবা নেয়ার এ প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে ধারণা এলাকাবাসির।

তবে প্রতিষ্ঠানটি যিনি নির্মাণ করেছেন তিনি এই প্রতিষ্ঠান নির্মাণে ব্যয় কত হয়েছে তা প্রকাশ করতে নারাজ। তিনি বলেন আমি জনগণের সেবা ও মহান আল­াহর সন্তুষ্ঠি অর্জনে এটি গড়ে তোলেছি। দেখানোর জন্য কিংবা প্রচার করার জন্যে নয়।

সরেজিমন প্রতিষ্ঠানটি পরির্দশনে দেখা গেছে অত্যাধুনিক কারুকাজে নির্মিত ৪ তলা বিশিষ্ট ভবনটির নিচ তলায় বড় পরিসরে খোলা হয়েছে বিনামুল্যে চিকিৎসাসেবার জন্য মেডেক্যাল সেন্টার। ২য় তলায় রয়েছে সুন্দর পরিবেশে কোরআন হেফজ করার জন্য হিফজুল কোরআন বিভাগ। ৩য় তলার পুরো ফ্লোরটি এতিমখানার আবাসিক ছাত্রদের থাকার হোস্টেলের জন্য বরাদ্ধ রয়েছে এবং ৪র্থ তলায় কারিগরি ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষণ গ্রহন করবে।

পরির্দশনের সময় কথা হয় প্রতিষ্ঠানের তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠাতার ছোটভাই লিয়াকত আলী, এয়াকুব আলী, শওকত আলী, লোকমান আলী, শিক্ষক মাওলানা ক্বারী ওসমান গণি ও হেফজ বিভাগের প্রধান হাফেজ আনোয়ার হোসাইনের সাথে। তারা জানান, এখন পর্যন্ত ২০ জন এতিম ছাত্র আবেদন করেছে। ইত্যিমধ্যে কয়েকজন ছাত্রকে আমরা ভর্তি করিয়েছি। বাকী গুলো ২ একদিনের মধ্যে ভর্তি কার্যক্রম শেষ হয়ে যাবে। এখানখার ভর্তিকৃত ছাত্ররা সম্পুর্ণ ফ্রিতে থাকা খাওয়া ও লেখাপড়া ও চিকিৎসা সেবার সুযোগ পাবে। তারা আরো জানান, বাবা মায়ের স্মৃতি ধরে রাখতে এ প্রতিষ্ঠানটি গড়েছেন মোহাম্মদ আলী ভাই।

জানতে চাইলে এটির প্রতিষ্ঠাতা তরুণ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী বলেন, এলাকার গরীব ও এতিম ছাত্ররা এখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভর্তির সুযোগ পাবে। লেখা পড়া, থাকা খাওয়া ও চিকিৎসাসেবাসহ তাদের সকল খরচ আমরা বহন করবো। পাশাপাশি কারিগরি ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়াও নিচ তলার ম্যাডিক্যাল সেন্টার থেকে সার্বক্ষণিক গরীর অসহায়রা বিনামুল্যে চিকিৎসা সেবা নিতে পারবে।

মতামত