টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চবিতে সমাবর্তনকে ঘিরে উৎসবের আমেজ

cuচট্টগ্রাম, ২৯ জানুয়ারি (সিটিজি টাইমস) :  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সমাবর্তনকে ঘিরে ক্যাম্পাসে লেগেছে উৎসবের আমেজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ বছরের ইতিহাসে এমন ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে চতুর্থ বারের মত। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৩১ জানুয়ারী হতে যাচ্ছে ৪র্থ সমাবর্তন। উপস্থিত থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য এবং রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। এদিকে সমাবর্তনকে ঘিরে উৎসবের রঙে সেজেছে ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছে আলোর ফোয়ারা।

এ বছর সমাবর্তন নিতে আবেদন করেছে ৭ হাজার ২৯৩ জন প্রাক্তন শিক্ষার্থী। যা পূর্বের সকল সমাবর্তন থেকে কয়েক গুণ বেশি। ফলে এই সমার্বতকে দিয়েছে অন্য এক মাত্রা। সমাবর্তন প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে র্দীঘ ১০ বছরের বিরতি। এর আগে তৃতীয় সমাবর্তন হয়েছে ২০০৮ সালে। এ বছর সমাবর্তনে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ইমেরেটরস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান।

এদিকে সমাবর্তনকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের বাগান কর্মীদের দিয়ে ক্যাম্পাসে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট, সোহরোওর্য়াদী মোড়, সহ বিভিন্ন মোড়ে বসানো হয়েছে আলোর ফোয়ারা। বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে মূল মঞ্চের কাজ প্রায় শেষ। ২৮জানুয়ারী বিকেল থেকে সমাবর্তন মঞ্চের আশেপাশে জন সাধারণের চলাচলে আরোপ করা হয়েছে বিধি নিষেধ।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিষ্ট্রার এবং সমাবর্তন কমিটির সচিব প্রফেসর ড. কামরুল হুদা বলেন, সমাবর্তন সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সকল আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সাথে বুধবার বিকেল তিনটায় উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে এক সভায় মিলিত হয়। সভায় মহামান্য রাষ্ট্রপতির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যাপারে অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলে বৈধ শিক্ষার্থীদের ছাড়া অবৈধ শিক্ষার্থীদের সমাবর্তনের আগের দিন থেকে সিট ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে সকল দোকানপাট সমাবর্তনের আগের দিন সন্ধ্যা থেকে পরের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত বন্ধ থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সমাবর্তন প্রার্থী ছাড়া তাদের কোন মেহমান সমাবর্তন এলাকায় প্রবেশ করতে পারবে না বলেও জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় সুত্রে জানা যায়, ১৯৬৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর একবার বিশেষ সমাবর্তন সহ মোট ৪ বার সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। যার মধ্যে ১৯৯৪ সালের ৬ ফেব্রয়ারী প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। সমাবর্তনে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এই সময় উপাচার্য হিসেবে ছিলেন প্রফেসর ড. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী যিনি (আর আই চৌধুরী) হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রথম সমাবর্তনে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে ছিলেন প্রয়াত উপাচার্য আব্দুল করিম। এরপর দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৯ সালের ১৩ মার্চ। এই সময় উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সভাপতি প্রফেসর ড. আব্দুল মান্নান এবং সমাবর্তনে উপস্থিত ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দ্বিতীয় সমাবর্তনে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে ছিলেন জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. জিল্লুর রহমান। সর্বশেষ ২০০৮ সালের ৫ নভেম্বর আয়োজিত তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় প্রফেসর ড. বদিউল আলম উপাচার্য থাকাকালীন সময়ে এবং ঐ সমাবর্তনে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে ছিলেন বিখ্যাত ভৌত বিজ্ঞানী প্রফেসর ইমেরেটরস জামাল নজরুল ইসলাম। দশ বছর আগে হওয়া ঐ সমাবর্তনে আচার্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদ।

তাছাড়া ১৯৮১ সালের ১৮ জানুয়ারী একবার বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সময় উপাচার্য হিসেবে ছিলেন ড. আব্দুল করিম এবং সমাবর্তন বক্তা হিসেবে ছিলেন তৎকালীন আচার্য এবং বিচারপতি আব্দুস ছাত্তার।

উল্লেখ্য,গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর সমাবর্তন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনিবার্য কারণবশত তা স্থগিত করা হয়। ২০১৬ সালে ৩১ জানুয়ারী পূণ নির্ধারীত তারিখ ঠিক করা হয়।

মতামত