টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

উত্তেজনা সৃষ্টির জন্য পরিকল্পিত ভাবে কোরআন ছেঁড়ে

aচট্টগ্রাম, ২৮ জানুয়ারি (সিটিজি টাইমস) :  ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরীর জন্য সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলায় শিবির কর্মীরা পরিকল্পিত ভাবে কোরআন ছেঁড়ে বলে দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে খবর আসতে থাকে যে, বিভিন্ন মসজিদে মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ পবিত্র কোরাআন শরীফের পাতা ছেঁড়া অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি খুব স্পর্শকাতর হওয়ায়, পুলিশ তারাতারি স্থানীয় জনগনের সহাযোগীতায় ঘটনার অনুসন্ধানে নামে।

বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে একটার দিকে নগরীর ২ নম্বর গেটস্থ চট্টগ্রাম পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আকতার।

পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতকানিয়া উপজেলার কেরাণীহাটের ঢেঁমশা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার ওই এলাকার ছাত্রশিবিরের সভাপতি রিয়াদুল ইসলাম নিলয় (২২) কে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিলয় জানায়, উপরের নির্দেশে ৯ জানুয়ারি সকালে উত্তর ঢেঁমশা ইন্দ্রার দীঘির পার বড় মসজিদে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা এক গোপন বৈঠকে বর্তমান সরকারের পতনের লক্ষে কোরআন শরীফ ছিঁড়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করে দেশব্যাপী জাতিগত দাঙ্গা লাগানোর পরিকল্পনা করে। এ লক্ষে শিবির কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শিবিরের ফেসবুক পেজ বাঁশেরকেল্লাতেও পোষ্ট দেয়।

এসময় নিলয়ের দেয়া তথ্য অনুসারে অভিযান চালিয়ে শিবির নেতা রায়হান উদ্দিন মুহাম্মদ আসাদ উল্লাহকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে আসাদ উল্লাহও বিষয়টি স্বীকার করে। তার দেয়া তথ্য অনুসারে আরো দুই শিবির কর্মী আরমান (২০), আমিনুল ইসলাম টিপুকে (২০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে নিলয় ও আসাদ উল্লাহ বুধবার চট্টগ্রামের একটি বিচারিক আদালতে এ ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আকতার বলেন, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করে দেশব্যাপী জাতিগত দাঙ্গা সৃষ্টির লক্ষে শিবির কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কোরআন ছেঁড়ার বিষয়টি ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। শিবিরের ফেসবুক পেজ বাঁশেরকেল্লাতেও এ নিয়ে পোষ্ট করা হয়। তবে পুলিশের তাৎক্ষনিক প্রদক্ষেপ ও এলাকাবাসি সচেতন থাকায় তাদের সে পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যায়। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে আমরা এ ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট অনেকের নাম পরিচয় জানতে পেরেছি, তদন্ত অব্যাহত আছে।

এসময় দেশের সব এলাকায় এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে গণমাধ্যমকে আরো জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আকতার।

সাতকানিয়া থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার  বলেন, শিবিরের এ পরিকল্পনা ছিলো সূদুর প্রসারি, তারা সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার যে মসজিদ গুলোতে এ অপকর্মটি ঘটিয়েছে সেগুলোর অভিকাংশই সনাতন ধর্মালম্বী অধ্যুসিত। মূলত তারা চেয়েছিলো তাদের অপকর্মের দায় সনাতন ধর্মালম্বীদের ওপর চাপিয়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করে দেশব্যাপী জাতিগত দাঙ্গা সৃষ্টি করা।

যে সকল এলাকায় কোরআন ছেঁড়া হয় সেগুলো হলো- সাতকানিয়া উপজেলার ঢেঁমসা, কেউচিয়া, কাজলিয়া, খাগড়িয়া এবং লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ও বড় হাতিয়া জানান ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার।

মতামত