টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

দেশের প্রথম বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র চট্টগ্রামে

ctgচট্টগ্রাম, ২৮ জানুয়ারি (সিটিজি টাইমস) : বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত বন্দর নগরী চট্টগ্রামে তৈরি হয়েছে বিশ্বমানের বাণিজ্যিক কেন্দ্র বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র (ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার)।  এটি দেশের প্রথম বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র। এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের সবচেয়ে আধুনিক ও সুউচ্চ ভবনটি এবার উদ্বোধনের পালা।  শনিবার (৩০ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটি উদ্বোধন করবেন। এর মাধ্যমে বিশ্বের ৩২৭টি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হচ্ছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। একই ছাদের নিচে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক কর্মকা- সম্পাদন হবে এ বনে।ভারতে ১৪টি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার রয়েছে। পাকিস্তানে রয়েছে তিনটি।

নগরীর বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদে এটি নির্মাণ করেছে চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ। ২৪ তলাবিশিষ্ট ভবনটি নির্মাণে খরচ হয় প্রায় ২০০ কোটি টাকা। চিটাগাং চেম্বারের নিজস্ব অর্থায়নে এটি নির্মিত হয়েছে। এ ভবনে দেশের রপ্তানিপণ্যের বিশালাকারের প্রদর্শনী কেন্দ্র। দেশের ১৩৮টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্যের প্রদর্শনী থাকবে এই কেন্দ্রে।

জানা গেছে,  বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের অনুরোধে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার নির্মাণের জন্য ৭৫ কাঠা জমি এক টাকায় (প্রতীকী মূল্য) চিটাগাং চেম্বারের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন। জমি প্রদানের পর ট্রেড সেন্টারের পাশের একটি জমি ওয়ার্ল্ড সেন্টারের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছিল। বাংলাদেশ রেলওয়ের এ জমিটি পাওয়া নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর চারদলীয় জোট ক্ষমতায় এলে  তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রেলওয়ের সে জমিও ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নামে প্রদানের ব্যবস্থা করেন। ২০০৬ সালে তিনি ওয়ার্ল্ড সেন্টার নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।

ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উচ্চতা প্রায় ৯১ মিটার (২৯৮ ফুট)। বর্তমানে এটি চট্টগ্রামের সর্বোচ্চ ভবন। তিনটি বেসমেন্ট ও ২৪ তলাবিশিষ্ট ভবন। নিচতলায় ব্যাংক ও অস্থায়ী এক্সিবিশন হল। দ্বিতীয় তলায় ব্যাংক, শপিংমল ও ফুডকোর্ট এবং তৃতীয়, ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায় অফিস, চতুর্থ তলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী এক্সিবিশন হল, পঞ্চম তলায় আইটি জোন, ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইনস্টিটিউট, সভাকক্ষ ও মিডিয়া সেন্টার, অষ্টম তলায় হেলথ ক্লাব, ব্যাংকোয়েট হল ও স্নোকার রুম, নবম তলায় টেনিস কোর্ট, সুইমিংপুল ও কনফারেন্স রুম এবং ১০ থেকে ২০ তলা পর্যন্ত থাকছে পাঁচ তারকা হোটেল আর ২৪ তলায় হেলিপ্যাড সুবিধা। পাঁচ তারকা হোটেল হিসেবে বিশ্ববিখ্যাত চেইন হোটেল গ্র্যান্ড হায়াতের সঙ্গে চুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, কোনো ধরনের ব্যাংকঋণ ছাড়াই প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার নির্মাণ করে আমরা প্রমাণ করেছি আন্তরিকতা থাকলে ভালো কিছু করা সম্ভব। এটি হবে দেশের গর্ব। যা বেসরকারি উদ্যোক্তাদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার উদ্বোধনের পাশাপাশি  ওইদিন চট্টগ্রাম চেম্বারের শত বর্ষপূর্তি উৎসবেরও উদ্বোধন করবেন। চেম্বার নেতাদের মতে দেশে প্রথমবারের মতো কোনো ব্যবসায়ী সংগঠন শত বর্ষপূর্তি পালন করছে। দুই অর্জন স্মরণীয় করে রাখতে পাঁচ দিনের জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে চট্টগ্রাম চেম্বার।

গত বুধবার দুপুরে এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম চেম্বার নেতারা অনুষ্ঠানের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

চট্টগ্রম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও শতবর্ষ উদ্যাপন কমিটির চেয়ারম্যান এম এ লতিফ এমপি বলেন, দেশের পর্যটন খাতের অমিত সম্ভাবনা সরেজমিনে বিদেশিদের কাছে তুলে ধরতে বিদেশি ব্যবসায়ীদের সরাসরি নিয়ে যাওয়া হবে রাঙামাটির মনোরম হ্রদে। ভ্রমণের পাশাপাশি সেখানে দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ট্যুরিজম কনভেনশনে চট্টগ্রামের সৌন্দর্য তুলে ধরা হবে। একইসঙ্গে হেলিকপ্টারে বিদেশিদের বান্দরবান, কক্সবাজার ও সুন্দরবনের অপরূপ দৃশ্য দেখানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এমএ লতিফ বলেন, আমরা ব্যবসা-বাণিজ্যেও হাজার বছরের ঐতিহ্যের ধারক। সাড়ে ৩০০ বছর আগে চট্টগ্রামে তৈরি জাহাজ ‘ফ্রিগেট অব ডয়েজল্যান্ড’ এখনো জার্মানির জাদুঘরে শোভা পাচ্ছে। এই ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে চট্টগ্রাম বন্দরে তিনটি বিশেষ জাহাজ আকর্ষণীয়ভাবে প্রদর্শন করা হবে।

আজ ২৭ জানুয়ারি থেকে কাল বুধবার লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো হবে পোর্ট স্টেডিয়াম থেকে আগ্রাবাদ পর্যন্ত। ৩০ জানুয়ারি বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উদ্বোধন করবেন। ৩১ জানুয়ারি সকালে র‌্যাডিসন ব্লু হোটেলে আন্তর্জাতিক বিজনেস কনফারেন্স ও বিকালে ইয়ুথ কনফারেন্স, ১ ফেব্রুয়ারি রাঙামাটির আরণ্যক কটেজে ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিজম সামিট এবং ২ ফেব্রুয়ারি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নেতারা জানান, আরো দুবছর আগেই দেশের প্রথম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল না থাকায় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যায়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মতি পাওয়ার পর গত ২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম চেম্বার নেতৃত্ব জরুরি বৈঠকে বসে ৩০ জানুয়ারি উদ্বোধন অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত