টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ফটিকছড়ির গ্রামে দানবীর আবু, নগরীতে স্বর্ণ চোরাচালানের কিং !

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি প্রতিনিধি

fatickchari(abu-ahmad)-pic-চট্টগ্রাম, ২৭ জানুয়ারি (সিটিজি টাইমস) : নিজ গ্রাম ফটিকছড়ির জাহানপুরে তিনি দানবীর আবু নামে বেশ পরিচিত। তিনি যে নগরীতে স্বর্ণ চোরাচালানের কিং তা কোনভাবেই টের পাননি এলাকাবাসী। এলাকার গরীব দু:খী মানুষদেরকে সদায় সাহয্যের হাত বাড়িয়ে দেন তিনি। নিজস্ব অর্থায়নে বাড়ির পাশে নির্মাণ করেন দৃষ্টিনন্দন মসজিদ। প্রতিবছর মিলাদুন্নবী উদযাপন করতে বাড়িতে আয়োজন করেন একাধিক গরু দিয়ে বিশাল মেজবান। এলাকার শত শত বেকার ছেলেকে আরব আমিরাতসহ দেশে বিভিন্ন জায়গায় চাকুরির ব্যবস্থা করে নিজ গ্রামে বেশ জনপ্রিয় আবু আহম্মদ। গত সোমবার রাতে নগরীর রিয়াজ উদ্দিন বাজার বাহার মার্কেট থেকে উদ্ধার হওয়া লোহার সিন্দুক ভর্তি সাত কোটি টাকার স্বর্ণের বার ও নগদ ৬০ লাখ টাকার মূল হোতা আবু আহম্মদের নিজ গ্রাম ফটিকছড়ি উপজেলার জাফতনগরের জাহানপুর গ্রামে আজ (বুধবার) সরেজমিনে গিয়ে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

গ্রামের তার বিশাল বিলাসবহুল বাড়ি যে কারো নজর কাটবে। দুই বছর পূর্বে প্রায় দশ কোটি টাকা ব্যয়ে মা ‘জাহানারা ম্যানশন’ নামের এ অট্টালিকা নির্মাণ করলেও আবু এখানে আসেন মাঝে মধ্যে।

বাড়ির কেয়ার টেকার এমরান জানালেন, সর্বশেষ আবু আহম্মদ বাড়ি আসেন পঁচিশ দিন পূর্বে। সেবার তিনি এলাকায় আসেন মেজবান আয়োজন উপলক্ষ্যে। এমরান বলেন, স্যার মাঝে মধ্যে এসে রাত কাটিয়ে আবার চলে যান।’

fatickchari(abi-ahmed)pic-(এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, চলি­শের কাছাকাছি বয়সী আবু আহম্মদ স্থানীয় আমজাদ আলী আব্দুলহাদি ইনষ্টিটিউটে নবম শ্রেনী পর্যন্ত পড়ালেখা করেন। বাবা ফয়েজ আহম্মদ পাশ্ববর্তি মোহাম্মদ তকিরহাট বাজারের একটি সামান্য মুদি দোকানদার ছিলেন। অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে ফয়েজ আরব আমিরাতে পাড়ি দেন। পরে ছেলে আবু আহম্মদকেও নিয়ে যান আরব আমিরাতের দুবাইতে। আবু আহম্মদ সেখানে বোরকার দোকানে চাকুরি করতেন। বিগত ৭/৮ বছর পূর্ব থেকে এলাকাবাসী জানতে পারেন তিনি দুবাই এ বড় ব্যবসা করেন। আবু আহম্মদ এখন কোটিপতি। বিগত তিন বছর পূর্ব থেকে তিনি গ্রাম ছেড়ে পরিবার নিয়ে শহরে বসবাস করছেন।

আবু আহম্মদ পাশ্ববর্তি রাউজান উপজেলার এক কনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. বাবুল আক্তার বলেন, জুতার গুদামের আড়ালে সোনা চোরাচালান ও হুন্ডির ব্যবসা করতেন আবু আহম্মদ। ওই গুদামগুলো থেকে তিনি বিভিন্ন স্থানে সোনা পাচার করতেন। আবু আহমেদসহ দুই ব্যক্তির নামে দুটি সিন্ডিকেট চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার রাতে নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আফতাব হোসেন চোরাচালানের অভিযোগে আবু আহম্মদকে আসামি করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন। আবু আহম্মদ এখন পলাতক।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত