টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে জব্দ সিন্দুক ভর্তি সোনার মালিক কোথায়?

fileচট্টগ্রাম, ২৭ জানুয়ারি (সিটিজি টাইমস) : চট্টগ্রাম মহানগরীর রেয়াজ উদ্দিন বাজারের বাহার মার্কেটের জব্দ করা সোনার মালিককে এখনো গ্রেফতার করা যায়নি।

তবে ৬০ লাখ টাকা ও আড়াইশ সোনার বার ভর্তি সিন্দুকের মালিককে চোরাচালানি এবং হুন্ডি ব্যবসায়ী বলে সন্দেহ করছে পুলিশ।

এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা হয়েছে।

বাহার মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, মার্কেটের ষষ্ঠ তলার জুতার গুদাম ও অন্য একটি কক্ষ কয়েক বছর আগে ভাড়া নিয়েছিলেন আবু আহমেদ নামের এক ব্যক্তি। রেয়াজুদ্দিন বাজারে তার আরও দুটি কসমেটিকসের দোকান রয়েছে। কিন্তু কেউ তাকে কখনো দেখেনি।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, রেয়াজুদ্দিন বাজারে স্বর্ণ, হুন্ডি ও ইয়াবা ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেটের প্রধান এ আবু আহম্মেদ। তারা ধারণা করছেন, স্থানীয় গরীর এলাকা থেকে ২০১৩ সালে আবু আহম্মেদ নামে এক ব্যক্তি অপহৃত হয়ে পরদিন এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত হন।তিনিই সেই ব্যক্তি।

আবু আহম্মেদের বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলার ফতেহপুর এলাকায় এবং বাসা নগরীর কসমোপলিটন এলাকায়। সোনা ভর্তি সিন্দুক আটকের পর থেকে আবু আহম্মেদের কসমেটিকসের দোকান দুটি বন্ধ রয়েছে।

বাহার মার্কেটের ম্যানেজার মো. ইলিয়াছ হোসেন জানান, মার্কেটের ষষ্ঠ তলায় গোডাউনটি প্রসাধনী দোকানের মালামাল রাখার জন্য ভাড়া নিয়েছিলেন আবু আহমেদ। বাহার মর্কেটে তার অন্য কোনো দোকান নেই। তবে রেয়াজ উদ্দিন বাজারের মোহাম্মদিয়া প্লাজায় তার কসমেটিকসের কয়েকটি দোকান রয়েছে। তিনি বাহার মার্কেটের ষষ্ঠ তলার ২-৩টি রুম গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করতেন।

মহানগরীর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর-দক্ষিণ) বাবুল আক্তার জানান, টাকা ও সোনা উদ্ধারের ঘটনায় আবু আহম্মেদের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার কোতোয়ালি থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে গোয়েন্দা পুলিশের এসআই আফতাব আহমেদ একটি করেছেন।

তিনি বলেন, আবু আহম্মেদের ব্যাংকে হিসাবগুলোও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে।

কক্ষগুলো থেকে জব্দ করা হিসাবের কাগজপত্রে ৫০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের বিবরণ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (গোয়েন্দা) কুসুম দেওয়ান বলেন, অবৈধ স্বর্ণ ও নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তিকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা হয়েছে। এ চালানের সঙ্গে আবু আহমেদের সম্পৃক্ততার কিছু তথ্য আমরা পেয়েছি।

উল্লেখ্য, সোমবার বাহার মার্কেটের ষষ্ঠ তলার আবুর ভাড়া করা দুটি কক্ষ থেকে ২৫০টি সোনার বার ও ৬০ লাখ টাকা ভর্তি তিনটি সিন্দুক উদ্ধার করে পুলিশ।

মতামত