টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কাউন্সিল নিয়ে টেনশনে চট্টগ্রাম বিএনপির নেতারা!

bnp newsচট্টগ্রাম, ২৭ জানুয়ারি (সিটিজি টাইমস) : একদিকে ‘এক নেতার এক পদ’ নীতি। অন্যদিকে কাউন্সিলের আগেই দেশের অন্যান্য জেলার মতো চট্টগ্রামেও তিন সাংগঠনিক কমিটিতে পরিবর্তনের কথা ভাবছে কেন্দ্র। এ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিএনপি নেতারা।

চট্টগ্রামের তিন সাংগঠনিক কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হলে কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পাবেন না। আবার কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার নিশ্চয়তা না থাকায় জেলা বা নগর কমিটিতে সম্পৃক্ত থাকবেন কি না তা নিয়েও সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছেন তারা।

বিএনপির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, গত ২৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে আগামী মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল করার। বৈঠকে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ‘এক নেতার এক পদ’ নীতি বাস্তবায়ন করারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে দলটির কোনো নেতা এক সাথে দুইটি সাংগঠনিক কমিটির পদে থাকতে পারবেন না।

চট্টগ্রাম মহানগর এবং উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির শীর্ষ পদে রয়েছেন এমন অন্তত এক ডজন নেতা রয়েছেন যারা বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির পদও বহন করেন। আসন্ন দলের ষষ্ঠ কাউন্সিলে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে দলটির শীর্ষ এক নেতা জানিয়েছেন।

২০১৫ সালের ৯ আগস্ট চট্টগ্রামসহ সারাদেশের জেলা ও নগর কমিটি পুনর্গঠনের জন্য সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিল কেন্দ্রীয় বিএনপি। ওই চিঠিতে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে থানা, ওয়ার্ড ও নগর পর্যায়ে কাউন্সিল করতে বলা হয়েছিল। চিঠিতে স্বাক্ষর করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান।

ওই সময় চট্টগ্রাম নগর বিএনপি ছাড়াও সারাদেশের ৬৫ জেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কাছেও একই ধরনের চিঠি পাঠানো হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়সীমা পার হলেও চট্টগ্রামের তিন সাংগঠনিক কমিটি পুনর্গঠনের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্র থেকে আরও এক মাসের সময় দেয়া হয় চট্টগ্রামকে। কিন্তু এবারও ব্যর্থ হয় চট্টগ্রাম। তবে এবার জাতীয় কাউন্সিলের আগেই কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়ে কড়া নির্দেশনা দেয়ার কথা রয়েছে। বর্তমানে দেশের বাইরে থাকা দলের যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান আগামী বুধবার দেশে ফিরে এলেই কমিটি পুনর্গঠনের চিঠি দেয়া হবে।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘এক নেতার এক পদ’ নীতিতেই এবারের কাউন্সিল করা হবে। এর ফলে এক নেতার দুই জায়গায় পদ বহন করার সুযোগ থাকবে না। তবে দুই এক জায়গায় এক্সেপশনাল হতে পারে যদি দল তা মনে করে।

জাতীয় কাউন্সিলের আগেই জেলা ও নগর কমিটি পুনর্গঠন করা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, চেষ্টা করা হবে কাউন্সিলের আগেই জেলা ও নগর কমিটি পুনর্গঠনের। যতটুকু পারা যায় করা হবে। না পারলে পরে।

কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা পাওয়ার নিশ্চয়তা না থাকায় যদি স্থানীয় নেতারা কমিটি পুনর্গঠনে অনীহা দেখান? এমন প্রশ্নের উত্তরে দলটির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, উদ্যোগ না নিলে দলের স্বার্থে বিকল্প উদ্যোগ নেয়া হবে।

সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম থেকে আবদুল্লাহ আল নোমান ও এম মোর্শেদ খান বর্তমানে কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান পদে আছেন। এছাড়া নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আছেন দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদে। একইপদে আছেন মীর মো. নাছির উদ্দিনও। গোলাম আকবর খোন্দকার আছেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পদে। এছাড়া উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক লায়ন আসলাম চৌধুরী আছেন কেন্দ্রের সহ-সাংগঠনিক পদে। উত্তর জেলার সাবেক সভাপতি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী আছেন কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে। নগর বিএনপির সহ-সভাপতি শামসুল আলম আছেন কেন্দ্রের সদস্য পদে।

উত্তর জেলার সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম, এস. এম ফজলুল হক, প্রফেসর কামালউদ্দিন, মোস্তফা কামাল পাশাও কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন পদে আছেন। এছাড়া নগরের বেগম রোজি কবির কেন্দ্রীয় শিশু বিষয়ক সম্পাদক এবং মাহবুবু রহমান শামীম আছেন সদস্য পদে। এর মধ্যে আবদুল্লাহ আল নোমান এবং আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দলের স্থায়ী কমিটিতে স্থান পেতে যাচ্ছেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর গুঞ্জন আছে।

জানা যায়, ২০১০ সালের জানুয়ারিতে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট নগর কমিটি ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় বিএনপি। এতে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সভাপতি এবং ডা. শাহাদাত হেসেনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এ ছাড়া শামসুল আলম, দস্তগীর চৌধুরী এবং আবু সুফিয়ানকে ওই কমিটিতে সহ-সভাপতি করা হয়েছিল। এর মধ্যে দস্তগীর চৌধুরী মারা গেলে চার সদস্য দিয়েই চলে আসছে নগর বিএনপির কার্যক্রম। তবে পাঁচ বছর ধরে মহানগরী বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় নেতাকর্মীরা হতাশ।

নগর কমিটি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী  বলেন, কমিটি পুনর্গঠন বা বর্ধিত করা নিয়ে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিষয়ে আমি অবগত নই। বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দলীয় চেয়ারপারসন বেগম জিয়া কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এ বিষয়ে আমি জ্ঞাত নই। কাউন্সিলের মাধ্যমে কী হয় না হয় সেটা কাউন্সিল হলেই জানা যাবে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, অবশ্যই কাউন্সিলের আগে নগর কমিটি পূর্ণাঙ্গ হবে। তাছাড়া কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা নিয়ে অলরেডি প্রক্রিয়া হয়েছে। তিন বছর আগে আমরা পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা মহাসচিবের হাতে দিয়েছিলাম। উনি যদি মনে করেন তাহলে সেই কমিটির ঘোষণা দিতে পারেন। যদি নতুন করেন চান সেটাও দিতে পারব। এটা মহাসচিবের ওপর নির্ভর করছে। তবে অতীতে যাদের তালিকা জমা দিয়েছি তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মারা গেছেন। এক্ষেত্রে হয়তো যারা মারা গেছেন তাদের নাম বাদ দিয়ে নতুন প্রস্তাব করা যাবে।

কিন্তু গত সেপ্টেম্বরে তো দলের যুগ্ম মহাসচিব স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যম কমিটি পুনর্গঠনের জন্য চিঠি দেয়া হয়েছিল? এমন প্রশ্নের উত্তরে ডা. শাহাদাত বলেন, চিঠি পেয়েছিলাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা কাজও শুরু করেছি। বিভিন্ন ওয়ার্ডে কমিটি করেছি। বেশিরভাগ থানায় আমাদের কমিটি রয়েছে। যেসব থানায় কমিটি নেই সেখানেও করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

শোনা যাচ্ছে নগর কমিটির সভাপতি দলের স্থায়ী কমিটিতে চলে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের জটিলতা হবে কি না জানতে চাইলে ডা. শাহাদাত বলেন, খসরু ভাইয়ের সাথে আমার কথা হয়েছে। উনি কোন ইন্সট্রাকশন দেননি আমাকে। এছাড়া কেন্দ্রীয় কোনো ঘোষণাও আসেনি। তাই তিনিই আমাদের সভাপতি।

এদিকে দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমটি গঠন করা হয়েছিল ২০১১ সালের অক্টোবরে। কমিটি গঠনের পর থেকেই সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক শাহাজাহান জুয়েল পৃথকভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। তবে সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে স্থানীয় নেতাকর্মীর অভিযোগ, তিনি বছরের বেশিরভাগ সময় কানাডায় অবস্থান করেন, যা দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে বিঘœ ঘটায়।

এ প্রসঙ্গে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী  বলেন, পৌরসভা ও উপজেলার কমিটিগুলো জাতীয় কাউন্সিলের আগেই পুনর্গঠন করে ফেলতে পারবো।

কাউন্সিলের আগে দক্ষিণ জেলার কমিটি পুনর্গঠনের কোনো সম্ভাবনা আছে কি না জানতে চাইলে তিানি বলেন, এটা কেন্দ্রের ওপর নির্ভর করছে। তবে সম্ভাবনা আছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উত্তর জেলাতেও আছে বিভক্তি। সর্বশেষ গত ২১ জানুয়ারি আহ্বায়ক লায়ন আসলাম চৌধুরীকে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেয়ার একক ক্ষমতা দেয় কেন্দ্র। এর আগে ২০১৪ সালের ২৬ এপ্রিল পুরোনো কমিটি ভেঙে উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এতে আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক লায়ন আসলাম চৌধুরীকে আহ্বায়ক এবং তৎকালীন রাউজান পৌর মেয়র কাজী আবদুল্লাহ আল হাসানকে সদস্য সচিব করা হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রের বেঁধে দেয়া ৪৫ দিনের জায়গায় ২১ মাস পার হলেও কাউন্সিলসহ থানা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন করতে পারেননি তারা।

উত্তর জেলা প্রসঙ্গে লায়ন আসলাম চৌধুরী বলেন, সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে এবং প্রতিটি ইউনিট কমিটি গঠন ও জেলার কাউন্সিল করতে আমাকে একক ক্ষমতা দেয়া হয়। কেন্দ্র যে লক্ষ্যে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন তা আমি পালন করবো। আশা করছি সবার সহযোগিতায় দলকে আরও গতিশীল করতে পারবো।-ঢাকাটাইমস

মতামত