টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাইয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর বেহাল অবস্থা

৩৫ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তার জন্য নেই চেম্বার-বাসস্থান, নেই চিকিৎসা উপকরণ

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ২৬ জানুয়ারি (সিটিজি টাইমস) :  মিরসরাইয়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। এতে করে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। উপজেলায় সম্প্রতি বদলী হয়ে আসা ২৮ জন চিকিৎসকসহ ৩৫ জন এমবিবিএস স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নেই চিকিৎসা চেম্বার, বাসস্থান ও চিকিৎসা উপরকরণ। আর এসবের অজুহাতে কর্মস্থালে অনুপস্থিত থাকেন প্রায় চিকিৎসক। বর্তমানে শীতের তীব্রতার সাথে বেড়ে চলছে ঠান্ডাজনিত কারণে রোগীর সংখ্যা। গত কয়েকদিন উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন করে দেখা গেছে উপজেলার সর্বত্র শিশুরা ডায়রিয়ায় ও বৃদ্ধরা শ্বাস কষ্টে ভুগছেন। অনেকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও অন্যান্য প্রাইভেট ক্লিনিকে নিচ্ছে চিকিৎসা।

উপজেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখা গেছে, সদর ইউনিয়ন, আবুতোরাব, কমরআলী, মহাজনহাট, চিনকি আস্তানা, তেমুহানী, ওয়াহেদপুর, মঘাদিয়া, খৈয়াছরা, ইছাখালী, ওচমানপুর ও জোরারগঞ্জ উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মস্থলে নেই কোন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। নেই তাদের বসার চেম্বার বা পরিবেশ। বাসস্থান আছে কিন্তু সেগুলো বসবাসের অনুপোযোগী। ভুতের বাড়ি হয়ে আছে সকল চিকিৎসকের আবাসিক ব্যবস্থা।

মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত কমিউিনিটি ক্লিনিক, স্বাস্থ্য উপকে›ন্দ্র ও পরিবার পরিকল্পনা মিলে ৩৮ টি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিটিতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নিয়োগ থাকলেও কোন স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই তারা থাকছেন না। সকল স্বাস্থ্য কেন্দ্র সহকারি দিয়েই চলছে। বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রে সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, প্রতিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে রোগীরা আসছে নানান রোগ নিয়ে। গত কয়েকদিনে শীতের প্রকোপ জনিত রোগিই বেশী। বৃদ্ধরা আসছেন স্বাস কষ্ট নিয়ে। গত সোমবার দুপুর ১২টায় ও মস্তাননগর হাসপাতালের ওয়ার্ডে ভর্তি রেজিষ্টারে দেখা যায় সকাল থেকে মাত্র কয়েক ঘন্টায় ভর্তি হয়েছে জিয়াউল হোসেন (৫ মাস), কামরুল ইসলাম ( ৫ বছর), নওশিন ( ৫ মাস), ইয়াছমিন (৯মাস) ও লামিয়া ( দেড় বছর) । এরা সবাই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী। এছাড়া কয়েকজন বৃদ্ধ ও আছেন শীতের প্রকোপে শ্বাস কষ্টের জন্য।

উপজেলার আবুতোরাব বাজারে অবস্থিত মায়ানী উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে স্বাস্থ্য সহকারি মোঃ হোসেন খন্দকারই চালাচ্ছেন পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থা। দায়িত্বরত চিকিৎসক সাবরিনা ইসলাম মাঝে মধ্যে আসেন। তবে এখানে চিকিৎসকের চেম্বারটি দেখা যায় ভাঙ্গা একটি চেয়ার আর টেবিল দিয়েই শেষ। নেই রোগী বসার টুল বা রোগী দেখার বেড। আবার চিকিৎসকের থাকার জন্য যেই বাসা সেটি পরিত্যক্ত ঘোষনা হয়েছে অনেক বছর আগেই। সেখানটা অনেকটা ভুতের বাড়ি হয়ে আছে। যেখানে সুস্থ মানুষ এলে ও ভয় পেয়ে অসুস্থ হয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে।

মঘাদিয়া উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে এর চেয়ে ও খারাপ অবস্থা। ভিজিটর জবা নাথই সেবা দিয়ে যাচ্ছেন যারা আসছে তাদেরকে। সেখানে নিয়োগ প্রাপ্ত চিকিৎসক বসার জন্য একটি কক্ষ আছে। কিন্তু নেই চেয়ার টেবিল । পাশের রোগীর কক্ষে পুরনো ভাঙ্গা চেয়ার আর রোগীর বেড সব ভেঙ্গে চুরে মাকড়শার স্তুপের ভেতর পড়ে আছে। দোতলায় চিকিৎসক থাকার কক্ষ কিন্তু সেখানে ভেঙ্গে-চুরে ভুতুড়ে অবস্থা। আর এভাবে একই দশা উপজেলার সকল স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রগুলোর।

এই বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দিল আংগিজ বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সকল কমিউনিটি ক্লিনিক ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর জন্য আসবাব পত্র, সরঞ্জাম এবং কিছু স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য আবাসিক সহ নতুন ভবনের প্রস্তাবনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। আশা করছি সরকার শীঘ্রই সকল মৌলিক সমস্যা সমাধান করবেন।

মতামত