টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ফটিকছড়িতে বাসররাতের দিন বর নিখোঁজ !

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি প্রতিনিধি

fatickchari(nikooj)-picচট্টগ্রাম, ২৬  জানুয়ারি (সিটিজি টাইমস) : বর সেজে বিয়ে করে বধু নিয়ে বাড়িও আসলেন। একটি দিনও পার করলেন সবার সাথে। শুধু বাকি ছিল ফুলশয্যা। সেটিই হওয়ার কথা ছিল সেদিন। কিন্তু বাসররাতের দিনেই হদিস নেই বরের। বাসর রাতের দিন বর নিখোঁজের এমনি চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভাধীন পূর্ব সুয়াবিল ভাঙ্গাদিঘীর পাড় এলাকায়। নিখোঁজ ব্যক্তির নাম প্রবাস ধর (৩০)। তিনি ওই গ্রামের বাবুল ধরের ছেলে। এ ব্যাপারে থানায় আজ (মঙ্গলবার) একটি নিখোঁজ ডায়েরী করেন তার বড় ভাই সুবাস কুমার ধর। প্রবাস নাজিরহাট বাজারের শেখর জুয়েলার্সের ম্যানেজারের হিসেবে চাকরি করেন।

সরেজমিনে তার বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, ওই গ্রামের জগমোহন মাষ্টার বাড়ির বাবুল ধরের দ্বিতীয় পুত্র প্রবাস ধর সামাজিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন বাশখালী উপজেলার কালিপুরের পম্পি ধরের সাথে। গতকাল সোমবার ছিল তাদের ফুলশয্যার রাত। ওই দিন সকালে প্রবাস নাজিরহাট বাজারে কেনাকাটা করতে যান। সকাল দশটায় বাজারে গেলেও দুপুর পার হলেও তার বাড়ি না ফেরায় বাড়ির লোকজন তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে ফোন করলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এর পর থেকে তাকে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ নিয়েও তার হদিস মেলেনি। নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পার হলেও তার কোন খোঁজ না পাওয়া উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যরা। আজ (মঙ্গলবার) পর্যন্তও তার ফোনটি বন্ধ রয়েছে।

এদিকে তার বাড়িতে গিয়ে কথা হয় তার মা বকুল বনিকের সাথে। তিনি বলেন, আমার ছেলে সকাল দশটায় ঘর থেকে ১৩ হাজার টাকা নিয়ে নাজিরহাট বাজারের উদ্দেশ্যে বের হয়। তার এক ঘন্টা পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ। দুই দিন পার হলেও তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। আমি আমার ছেলেকে ফিরে পেতে চাই।’

নববধু পম্পি ধর বলেন, ‘শুশুর বাড়ি আসার পর স্বামীর সাথে টুকটাক কথা হয়েছে। সেদিন ছিল আমাদের ফুল শয্যার রাত। তার কি হয়েছে ? কেন তিনি নিখোঁজ কোনভাবেই মাথায় আসছে না।’

নিখোঁজ প্রবাসের বড় ভাই সুবাস কুমার ধর বলেন, ‘কেন সে নিখোঁজ বুঝতে পারছিনা। বিয়ের পর সে হাসিমুখে ঘরে ছিল। কেউ তাকে অপহরণ করে থাকলে অন্তত ফোন আসতো। আমি থানায় ডায়েরী করেছি। আমার ভাইয়ের হদিস পেতে সবার সহযোগিতা চাই।’

প্রবাস ধরের কর্মস্থল নাজিরহাট বাজারের শেখর জুয়েলার্সের মালিক শেখর ধর বলেন, আমার জানা মতে তার সাথে কারো বিরোধ নেই। বিয়ে উপলক্ষ্যে তাকে ছুটি দিয়েছি।’

ভূজপুর থানার ওসি এ কে এম লেয়াকত আলী বলেন, ‘তার নিখোঁজের বিষয়টি সব থানায় পাঠানো হয়েছে। তার হদিস জানতে পুলিশ কাজ করছে।’

উলে­খ্য প্রবাস ধর বিগত দুই বছর পূর্বে আরো একবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ের মাত্র দু‘মাস পার হতেই তার স্ত্রী বাপের বাড়ি গিয়ে আর আসেননি। এক পর্যায়ে সামাজিকভাবে তাদের এ বিয়ের বিচ্ছেদ ঘটেছিল।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত