টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাইয়ে কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা

ব্যাংকের নিকট বন্ধক থাকা সম্পত্তি  জালিয়াতি করে রেজিষ্ট্রির অভিযোগ

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ২৬ জানুয়ারি (সিটিজি টাইমস) : ব্যাংকের নিকট বন্ধকি চুক্তি থাকা সম্পত্তি জালিয়াতির মাধ্যমে রেজিষ্টি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। আপন বোনকে কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার উদ্যেশ্যে এমন জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে তার তিন ভাই। মিরসরাই উপজেলার বারইয়ারহাট পৌরসভায় এমন ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে ভূক্তভোগী নাজমা আক্তার বাদী হয়ে চট্টগ্রাম যুগ্ম ২য় জেলা জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, উপজেলার বারইয়ারহাট পৌরসভায় অবস্থিত সোনাপাহাড় মৌজার আর.এস জরিপের ১২৬১ খতিয়ানের পি.এস জরিপের ১১৪৭ বি.এস জরিপের ১০৫৩ নং খতিয়ানের ৩১৩ দাগের ৩.২৫ শতক জায়গার খরিদ মূল্যে মালিক হন হাজ্বী মোহাম্মদ মোস্তফা। তিনি ১৯৯৫ সালে ওবায়দুল হক থেকে উল্লেখিত জায়গা ক্রয় করেন। ২০১২ সালের ২৮ আগষ্ট ২৮৯১ রেজিষ্ট্রিযুক্ত বন্ধকি চুক্তি (ডিড অপ মরগেজ) মূলে এনসিসি ব্যাংক (ন্যাশনাল ক্রেডিট এন্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেড) বারইয়ারহাট শাখা থেকে ২৫ লক্ষ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। ঋণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত বাংকের নিকট তপসীলোক্ত ওই সম্পত্তি ব্যাংকের নিকট দায়বদ্ধ থাকবে। ব্যাংক থেকে গ্রহন করা ঋণ দিয়ে বারইয়ারহাট পূর্ব বাজারে ৫ তলা বিশিষ্ট একটি ভবন (মোস্তফা টাওয়ার) নির্মান করা হয়েছে। এদিকে ওই সম্পত্তি ব্যাংকের নিকট দায়বদ্ধ থাকা অবস্থায় ২০১৪ সালের ১৪ এপ্রিল সম্পত্তির মালিক হাজ্বী মোহাম্মদ মোস্তফা ১ স্ত্রী, ৩ পুত্র ও ১ মেয়ে রেখে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন। তার মৃত্যুর পর ওয়ারিশসূত্রে জায়গার মালিক হন ১ স্ত্রী, ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে। তিনি মারা যাওয়ার পর ২০১৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ব্যাংক থেকে গ্রহণ করা ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য মোস্তফার স্ত্রী, ৩ ছেলে ও ১ মেয়ের নিকট এনসিসি ব্যাংকের বারইয়ারহাট শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ লোকমান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি প্রেরণ করেন। এদিকে ২০১৪ সালের ৩০ অক্টোবর মোস্তফার মেয়ে নাজমা আক্তারের নিকট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস থেকে নামজারী সংক্রান্ত একটি নোটিশ পাঠানো হয়। এরপর সে ভূমি অফিসে গিয়ে খবর নিয়ে দেখেন তপসিলোক্ত ওই সম্পত্তি তার বড় ভাই জাফর আহম্মদ নিজ নামে নামজারী সৃজন করেছেন। এরপর সে তার ভাইদের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তার ভাইয়েরা তার কাছে ওই সম্পত্তি রেজিষ্ট্রিকৃত হেবা ঘোষনার দলিল দেখায়। দলিলে দেখা গেছে ব্যাংকের নিকট দায়বদ্ধ থাকাকালীন হাজ্বী মোহাম্মদ মোস্তফার অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তিনি মারা যাওয়ার ৭দিন পূর্বে ২০১৪ সালের এপ্রিল জোরারগঞ্জ সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে ৩ ভাই তাদের নামে হেবা ঘোষণা করেন। রেজিষ্ট্রিকৃত হেবা দলিলে সম্পত্তির মূল্যে দেখানো হয়েছে ১১ লাখ টাকা। অথচ ওই সম্পত্তির দলিল দিয়ে এনসিসি ব্যাংকের নিকট বন্ধক দিয়ে ঋণ নিয়েছে ২৫ লাখ টাকা। মুলত কোটি টাকার সম্পত্তি থেকে বোনকে বঞ্চিত করতে মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছেন। এরপর ভূক্তভোগী নাজমা আক্তার তার ৩ ভাই জাফর আহম্মদ, মোহাম্মদ আলমগীর ফরিদ, জাহেদুল ইসলাম হাসানসহ ১০ জনকে আসামী করে চট্টগ্রাম যুগ্ম ২য় জেলা জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

মামলার বাদী নাজমা আক্তার বলেন, শুধুমাত্র আমাকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে আমার ভাইয়েরা চক্রান্ত করে ব্যাংকের নিকট দায়বদ্ধ থাকার পরও জালিয়াতির মাধ্যমে রেজিষ্ট্রি হেবা করেছে। যা অকার্যকর, এখতিয়ার বহির্ভূত ও ভুয়া দলিল করেছে। এ বিষয়ে সুষ্ঠ সমাধান চেয়ে ও ভূয়া রেজিষ্ট্রি বাতিলের দাবী করে আমি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি।
জোরারগঞ্জ সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের এক কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, কোন সম্পত্তি ব্যাংকের নিকট দায়বদ্ধ থাকা অবস্থায় রেজিষ্ট্রি হয়না। যদি ব্যাংক থেকে ওই সম্পত্তি দায়মুক্ত হয় তারপর ওই সম্পত্তি রেজিষ্ট্রি করা যাবে।
এ বিষয়ে জানতে মামলার ১ নম্বর বিবাদী ও নাজমা আক্তারের ভাই জাফর আহমদের সাথে যোগাযোগ করতে তার ব্যক্তিগত মোবাইলে ( নম্বর ০১৮১৫৪৪৬১৫২) একাধিকবার চেষ্টা করেও সংযোগ স্থাপন সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে এনসিসি ব্যাংক বারইয়ারহাট শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ লোকমান ছুটিতে দেশের বাইরে থাকায় তার বক্তব্যে নেয়া সম্ভব হয়নি।

ব্যাংকের বারইয়ারহাট শাখার সেকেন্ড ম্যানেজার মোহাম্মদ হারুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে তিনি কিছু বলার অপারগতা স্বীকার করে ব্যবস্থাপকের সাথে আলোচনার পরামর্শ দেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত