টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

নাজিরহাট পৌরসভাধীন সুয়াবিলের মন্দাকিনী খালে সেতু চায় এলাকাবাসী

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি প্রতিনিধি

fatickchari(monddajini-bridচট্টগ্রাম, ২৫ জানুয়ারি (সিটিজি টাইমস) : খালের ওপর বাঁশ-কাঠ এবং লোহার তৈরি নড়বড়ে সাঁকো। ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো পার হয়ে ফটিকছড়ির শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাতায়ত করে। কেবলি শিক্ষার্থীরা নয়, উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভাধীন সুয়াবিল মন্দাকিনী খালের দুই পারের পাঁচ গ্রামের বাসিন্দাদের যাতায়াতের অবলম্বন এই সাঁকো।

এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি একটি স্থায়ী পাকা সেতু। সা¤প্রতিক বছরগুলোতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা একাধিকবার সেতু তৈরি করে দেওয়ার প্রতিশ্র“তি দিলেও আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় হতাশ এ অঞ্চলের লোকজন।

সরেজমিনে দেখা যায়, পশ্চিম মন্দাকিনী, হাজিরখীল, পশ্চিম সুয়াবিল, চুরখাঁহাট, বেতুয়াসহ বেশ কিছু এলাকার পাশ ঘেঁষে বয়ে গেছে মন্দাকিনী খাল। এ ছাড়া এই খালের পাড়ে নাজিরহাট কলেজিয়েট উচ্চবিদ্যালয়, নাজিরহাট ডিগ্রী কলেজ, নাজিরহাট শিশু সোপান, নাজিরহাট আহমদিয়া মাদ্রাসাসহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে বহু বছর আগে খালের ওপর বাঁশ ও লোহার পাটাতন বসিয়ে একটি সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছিল। এই সাঁকো এখন পারাপারের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও যাতায়াত করছে গ্রামবাসী। মন্দাকিনী খালের পাড়ে অবস্থিত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হচ্ছে। নড়বড়ে সাঁকোতে পা দিলেই দুলতে থাকে। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, শুকনো মৌসুমে কোনোমতে সাঁকো পার হতে পারলেও বর্ষায় পাহাড়ি ঢলের কারণে খালটি ফুলেফেঁপে ওঠে। তখন অনেক শিক্ষার্থীই বিদ্যালয়ে যেতে পারে না।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মন্দাকিনী খালে একটি সেতু হলে লোকজনের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে। এখন প্রায় দু‘তিন কিলোমিটার জায়গা ঘুরে ফটিকছড়ি উপজেলা সদর এবং চট্টগ্রাম নগরে তাঁদের যাতায়াত করতে হয়।

নাজিরহাট শিশু সোপানের অধ্যক্ষ এস এম টিপু চৌধুরী বলেন, এখানে একটি সেতু নির্মাণ খুব জরুরি। বর্ষায় উজান থেকে যখন পাহাড়ি ঢল নেমে আসে, তখন খাল ফুলে-ফেঁপে ওঠে। শিশুরা ভয়ে সাঁকো পার হয় না। তাই এ সময়ে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যায়।

নাজিরহাট পৌরসভার এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রস্তাব পেলে সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

নাজিরহাট পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মন্দাকিনী খালে সেতু নির্মাণের দাবি বহুদিনের। স্থানীয় সাংসদ ও উপজেলা চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে বিষয়টি অবহিত করে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।’

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত