টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

পাইপলাইনে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসবে জ্বালানি তেল

চট্টগ্রাম, ২২ জানুয়ারি (সিটিজি টাইমস) :   স্বল্প খরচে অতি দ্রুত ঢাকায় জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত ২৩৭ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার।

এ জন্য পৃথক দুটি প্রকল্প গ্রহণ করবে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি ওই দুই প্রকল্পের প্রাথমিক পরিকল্পনার সারসংক্ষেপ অনুমোদন করেছেন।

শুক্রবার সমকাল পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করা হবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিশেষ আইনের মাধ্যমে। যে আইনটি সরকারি কর্মকর্তাদের ‘দায়মুক্তি আইন’ হিসেবে পরিচিত। অর্থাৎ এ প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো অনিয়ম-ত্রুটির বিচ্যুতি হলেও কারও বিরুদ্ধে আদালতে কোনো অভিযোগ বা মামলা করা যাবে না।

প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবনা প্রণয়নে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব নাজিম উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রস্তাব প্রক্রিয়াকরণ কমিটি গঠন হয়েছে। এরই মধ্যে কমিটি কার্যক্রম শুরু করেছে। শিগগির কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

সূত্র জানায়, দুটি প্রকল্পের মধ্যে প্রথম প্রকল্পে চট্টগ্রামে জ্বালানি তেলের ডিপো থেকে ঢাকার ডিপোতে জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে ২২০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন করা হবে।

এ জন্য প্রাথমিক আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার কোটি টাকা। এই পাইপলাইন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বছরে সরকারের ২০০ থেকে আড়াইশ’ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। এ ছাড়া নিরাপদে অতি দ্রুত চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় জ্বালানি তেল সরবরাহ হবে।

বর্তমানে জ্বালানি তেল ট্রেনে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। স্থানীয় পর্যায়ে ট্যাঙ্কলরি দিয়ে পাম্পে সরবরাহ করা হয়। হরতাল-অবরোধ থাকলে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। পাইপলাইন হলে এ সমস্যা থাকবে না। দ্বিতীয় প্রকল্পটি হলো শীতলক্ষ্যা নদীর কাঞ্চন ব্রিজ থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত।

এই ১৭ কিলোমিটার বিমানের জ্বালানি তেল (জেট ফুয়েল) সরবরাহের জন্য পাইপ লাইনস্থাপন করা হবে। এই প্রকল্পে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা।

এতে বছরে সর্বনিম্ন ৫০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে জানান জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা। তাছাড়া হরতাল-অবরোধ বা যানজটেও নিরাপদে অতি দ্রুত জেট ফুয়েল সরবরাহ করা যাবে বিমানবন্দরে।

তারা বলছেন, ট্যাঙ্কলরিতে জেট ফুয়েল সরবরাহ করার কারণে অনেক সময় জেট ফুয়েলের মান খারাপ হয়ে যায়। এ ছাড়া তেল চুরির ঘটনাও ঘটে। অন্যদিকে তেলের মান খারাপ হওয়ার কারণে বিদেশি বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জেট ফুয়েল না নিয়ে প্রতিবেশী দেশ থেকে সংগ্রহ করে। এতে বাংলাদেশ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়।

বিশেষ ক্ষমতা আইনে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজিম উদ্দিন চৌধুরী সমকালকে বলেন, বিশেষ আইনে করা হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি কোম্পানির সঙ্গে নেগোসিয়েশন করা সহজ হয়। এতে প্রকল্প ব্যয়ও কমে আসতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি চট্টগ্রামের মহেশখালী থেকে আনোয়ারা পর্যন্ত ৯১ কিলোমিটার এলএনজি পাইপলাইন প্রকল্পের উদাহরণ দেন।

তিনি জানান, এ প্রকল্পে নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে ১১৬ কোটি টাকা ব্যয় কমানো হয়েছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত