টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাউজানের চাঞ্চল্যকর উর্মী হত্যাকাণ্ডের মামলা যাচ্ছে ডিবিতে

Raozan-Urmi-hottakando-picচট্টগ্রাম, ১৮  জানুয়ারি (সিটিজি টাইমস) :  রাউজানের নোয়াপাড়া কচুখাইনে গৃহবধু কুলসুম আকতার উর্মীর (২৬) চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্তভার যাচ্ছে চট্টগ্রাম ডিবি পুলিশের হাতে। গতকাল সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থল কাদের সওদাগরের বাড়ী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এমন তথ্য জানান রাউজান থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। এসময় তিনি স্থানীয় মেম্বার ও ঘটনারদিন দরজা ভেঙ্গে উর্মীর লাশ যারা দেখতে পান তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেন। তিনি বলেন, ঘটনাটি খুবই স্পর্শ কাতর। অধিকতর তদন্তের প্রয়োজন এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। এ জন্য মামলাটি প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ডিবি পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হচ্ছে। ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, ঘটনাটি প্রথম থেকেই হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারনা ছিল পুলিশ প্রশাসনের। আজ সোমবার (১৮ জানুয়ারী) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটনা বলে আলামত পাচ্ছি। কারণ র্দীঘদিন থেকে উর্মীর শাশুর পক্ষের লোকজনের সাথে উর্মী ও তার স্বামীর বিরোধ চলে আসছিল। পরির্দশনের সময় পুলিশের সাথে উর্মীর বড় বোন নাজমা আকতার, মমতাজ বেগম পপি, আফরোজা, সুমিসহ অন্যান্য আত্মীয় স্বজন উপস্থিত ছিলেন। তবে উর্মীর স্বামী ইকবালের বাড়ীতে কাউকে পাওয়া যায়নি। আলাদা আলাদা ৩/৪টি ঘরগুলোর সবগুলোতেই তালা লাগানো ছিল।

উলে­খ্য গত ৯ জানুয়ারী উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কচুখাইন গ্রামের কাদের সওদাগরের ৪র্থ পুত্র চট্টগ্রাম বিভাগীয় খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ইকবালের স্ত্রী কুলসুমা আকতার উমীর্র উড়না পেছানো ঝুলন্ত লাশ ঘরের রান্নাঘর থেকে উদ্ধার করে থানা পুলিশ। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন হাটহাজারী পুলিশ সার্কেলের এএসপি মসিহুদ্দৌলাসহ পুলিশের একটি বিশেষ টিম। এসময় তারা ঘটনাস্থল কচুখাইন গ্রামের কাদের সওদাগরের বাড়ীটি পরিদর্শন করে ঘটনার বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। এছাড়াও স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে তথ্য জেনে ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করেন পুলিশের এই উর্ধতন কর্মকর্তারা। এসময় বাড়ীটির পরিবারের বিভিন্ন বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখেন।

এসময় নিহত উর্মীর বড় বোন নাজমা আকতার পুলিশ ও সাংবাদিকদের বলেন, উর্মীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের আমরা বিচার চাই। তিনি পালতক আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তারেরও জোর দাবী জানান পুলিশের কাছে।

রাউজান থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর বলেন, আসামী ইকবাল ও ননদ নুর বানু রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিঞ্জাসাবাদ করা হয়। কিন্তু এখনো তারা এটা আত্মহত্যার ঘটনা বলে বর্ণনা দিচ্ছেন।

এদিকে ঘটনার রাতে উর্মীর পিতা হাজী এনামুল হক থানায় নয়জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করলেও এটি হত্যা না আত্মহত্যা এ নিয়ে এলাকায় নানা রকম আলোচনা চলছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার ও সাধারণ লোকজন বলছে এটি একটি আত্মহত্যার ঘটনা।

এদিকে দাম্পত্য জীবনে ইকবাল ও তার স্ত্রী উর্মীর সাথে তেমন সখ্যতা ছিল না শাশুরীসহ ভাসুর পরিবারের সাথে। পারিবারিক এই অশান্তির মাঝে ইকবালও বিভিন্ন সময স্ত্রীর উশৃংখল জীবন যাপন দেখে মারধর করতো বলে জানাগেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম বলেছেন তিনি লোকজনের কাছে শুনে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে গেছেন। সেখানে গিয়ে দেখেন উর্মী ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে দিয়ে স্বামীর ডায়রীসহ বেশকিছু বই পত্র ও আসবাব পত্রে আগুন দিয়েছে। ঘরের ভেন্টিলেটার দিয়ে দেখতে পান ঘরের পিছনের একটি কক্ষে পাখার সাথে ওড়নার সাথে ঝুলে আছে উর্মীর লাশ। তখন ঘরের উভয় দিকের দরজা জানালা ভিতর থেকে আটকানো ছিল। পরে ঘরের দরজা ভেঙ্গে তিনিসহ এলাকার লোকজন ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। এরপর পুলিশ এসে উর্মীর লাশ নামিয়ে নিয়ে যায়।

জানা গেছে উর্মীর স্বামী ইকবালকে মামলার আসামী করা হলেও সে পুলিশের কাছে ভিন্ন ভিন্ন জবানবন্দি দিয়েছে। প্রথমে তার ভাই ও তাদের পরিবারের সদস্যরা নির্যাতন করে স্ত্রী উর্মীকে হত্যা করেছে বলে জানালেও পরে উর্মী নিজেই আত্মহত্যা করেছে বলে জানায়। এ মামলার আসামীদের মধ্যে রয়েছে মরহুম আবদুল কাদেরের স্ত্রী লায়লা বেগম, লায়লা বেগমের বোন ঝি নুর বেগম, পুত্র আকবর হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, সৈয়দ হোসেন, মোয়াজ্জেম হোসেন, ইকবাল হোসেন, ডেজি আকতারসহ আরো কয়েকজন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত