টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও বৃদ্ধি পেয়েছে মাদক ব্যবসা: জেলা প্রশাসক

jচট্টগ্রাম, ১৮  জানুয়ারি (সিটিজি টাইমস) : চট্টগ্রাম জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও বৃদ্ধি পেয়েছে মাদক ব্যবসা, ভয়ানক এই ব্যবসা বন্ধে আইন শৃংখলা বাহিনীকে আরো তৎপর হতে হবে জানিয়ে বলেন  চট্টগ্রাম জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও বৃদ্ধি পেয়েছে মাদক ব্যবসা। এক শ্রেণির অসাধু চক্র নৌ-পথ ও সড়ক পথে ইয়াবাসহ নানা মাদক পাচার করছে। তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

সোমবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এই বৈঠকে জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন অনেক স্কুল আইন অমান্য করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায় করছে, এসব স্কুলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সভায় মেজবাহ উদ্দিন বলেন,  কতিপয় বিদেশি চক্রান্ত আইএস’র নামে জঙ্গি বাহিনীকে পৃষ্ঠপোষকতা করে এদেশে জঙ্গীবাদের আস্তানা গড়ে তুলতে চক্রান্ত করে যাচ্ছে, এদেশে যাতে জঙ্গীবাদের উত্থান না হতে পারে সে লক্ষ্যে সকলকে সচেষ্ট থাকতে হবে “

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, “ ইদানিং গভীর সমুদ্রে জলদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের অনেক জেলে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ডাকাত দলের হামলার শিকার হয়ে নগদ টাকা ও মাছ ধরার জালসহ মুল্যবান জিনিসপত্র হারাচ্ছে ।”

তাই জেলেরা যাতে নির্বিঘ্নে গভীর সমুদ্রে গিয়ে নিরাপদে মাছ ধরতে পারে সেজন্য নৌ-বাহিনী, নৌ-পুলিশ ও কোস্ট গার্ডকে আরো তৎপর হতে হবে, উল্লেখ করেন তিনি।

মেজবাহ উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রামের অনেক স্কুল সরকারের পরিপত্র না মেনে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমত বেতন ও পরীক্ষার ফি আদায় করে স্কুলকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেয়ার পর অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া অতিরিক্ত টাকা ফেরত দিয়েছে।”

“বাড়তি টাকা আদায়কারী অন্যান্য স্কুলগুলো নিয়মনীতির আওতায় না আসলে এবং বর্ধিত ফি ফেরত না দিলে স্কুলগুলোর এমপিও বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে, উল্লেখ করেন তিনি।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার বলেন । আগামী মার্চ-এপ্রিলে অনুষ্ঠিতব্য ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে সকল প্রকার ব্যবস্থা নেয়া হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে হানাহানির ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় প্রশাসন এখন থেকে সতর্ক রয়েছে। ।

তিনি বলেন, সম্প্রতি একটি জলদস্যু চক্র হাতিয়া থেকে ১১ জন জেলেকে ধরে এনে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর সমুদ্র উপকূলে একটি ট্রলারের কেবিনে আটকে রেখে বিকাশের মাধ্যমে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা আদায় করে তাদেরকে ছেড়ে দিয়েছে। অথচ এ বিষয়গুলো নিয়ে কেউ মামলা করেনি।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুর রশিদ, জেলা পিপ এডভোকেট একেএম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সিভিল সার্জন ডা. মো. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী, সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল কবির চৌধুরী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. সাহাবউদ্দিন, চিটাগাং চেম্বারের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ জামাল আহমদ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আলী আসলাম হোসেন, চট্টগ্রামের ১৪ টি উপজেলা চেয়াম্যানরা উপস্থিত ছিলেন ।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত