টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাউজানে পরকিয়ায় প্রেম অপহরণে রূপান্তর, অতঃপর…

থানায় মামলা দায়ের হোটেল হতে উদ্ধার, আটক দুই

এস.এম. ইউসুফ উদ্দিন
রাউজান প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ১৭ জানুয়ারি (সিটিজি টাইমস):: চট্টগ্রাম রাউজান কলেজ মাঠে আয়োজিত কুটিরশিল্প মেলা হতে ফারজানা ইয়াসমিন (২০) এক প্রবাসীর স্ত্রীকে অপহরনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগের ভিত্তিতে রাউজান থানা পুলিশের একটি চৌকশ দল গত ১৭ জানুয়ারি রাতে নগরীর হোটেল জাহান থেকে অহৃতকে উদ্ধার করেন। অপহরনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ইমরান ও তার সহযোগী মুন্নাকে আটক করা হয়।

অপহৃত ফরজানা ইয়াসমিনের মা শামসুন নাহারের দায়ের করা মামলার এজহারের ভিত্তিতে জানা যায়, রাউজান পৌর এলাকার ৪ নং ওয়ার্ডের মৃত আব্দুল গফুরের পুত্র প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী এবং ৫ নং ওয়ার্ডের সৌদি প্রবাসী মুজিবুল হকের কন্যা ফারজানা ইয়াসমিন গত ১৫ জানুয়ারী বাবার বাপের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। ১৬ জানুয়ারী সন্ধ্যায় প্রতিবেশী এক ভাবীর সাথে রাউজান কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত মেলায় যান। প্রতিবেশী ভাবী মেলায় আসা অটোরেলে চড়তে গেলেও ফরজানা স্টলের ফটকে পাশে দাড়িয়ে থাকে। রেল চড়া শেষে প্রতিবেশী ভাবী ফরজানাকে খুঁজে না পেয়ে বাড়িতে এসে খবর দেয়। এ সময় ফরজানার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। সেই দিন রাতে সাড়ে ১০টার দিকে ফরজানার নম্বর থেকে তার মায়ের নম্বরে কল আসে । কল বিসিভ করলে এক অপরিচিত পুরুষ বলেন আপনার মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে। তাকে সুস্থভাবে পেতে চাইলে পাঁচ লক্ষ টাকা মুক্তিপন দিতে হবে বলে মোবাইল বন্ধ করে দেয়। পরের দিন বিকাল ৩:৪৯ টায় আবার একটি ক্ষুদে বার্তায় চারটি মোবাইল নম্বর পাঠায় অপহরণকারী। এই নম্বর গুলোতে পঁচিশ হাজার টাকা করে একলক্ষ টাকা বিকাশ করতে বলেন। বাকী গুলো পরের দিন পাঠাতে বলেন।

এই আভিযোগের ভিত্তিতে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশের পরিকল্পনায় এস আই সাইফুল ও এস আই মুরাদের নেতৃত্বে একটি চৌকশ পুলিশের দল অভিযানে নেমে মুক্তিপন দেওয়ার ফাঁদ পেতে রবিবার সন্ধ্যায় নগরীর বহাদ্দার হাট এলাকা থেকে বিকাশ এজেন্ট কক্সবাজার জেলার ঈদগাও এলাকার রাশেদ উদ্দিন মুন্না (২০) কে আটক করেন রাউজান থানা পুলিশ। রাসেদ উদ্দিন মুন্নার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিত্বে রবিবার দিবাগত রাতে মূল অপহরনকারী রাউজানের পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের রুপচান্দ নগর এলাকার সাবেক মেম্বার আনোয়ার মিয়ার পুত্র ইমরান হোসেন ইমন কে আটক করেন।

বিকাশ অপেরেটর মুন্নাকে পুলিশ আটক করেন। এস আই মুরাদ জানান, বিকাশ অপরেটর মুন্না এই অপরাধে জড়িত নন। অপহরণকারী ইমরান থাকে ব্যবহার করেছেন।

রাউজান থানায় পুলিশের হেফাজতে থাকা অপহরনকারী ইমরান জানান, ছয় মাস পূর্বে থেকে রাউজান সদরে আলো শাড়িজ নামে একটি কাপড়ের দোকানে চাকরি করাকালিন সময়ে দোকানের নিয়মিত ক্রেতা ফরজানার সাথে তার সম্পর্ক গড়ে উঠে। এই সম্পর্কের জের ধরে থাকে মেলায় আসতে বলে। সে সেখান থেকে স্বেচ্ছায় আমার সাথে পালিয়ে আসে। এক সাথে আমরা নগরীর হোটেল জাহানে অবস্থান করি। নানা সময়ে মোবাইলে তার সাথে কথাবার্তার রেকর্ট রয়েছে বলে দাবী করেন ইমরান। সে আরও দাবী করেন ফরজানার পরামর্শে তার মায়ের কাছ থেকে টাকা চাওয়া হয়েছে। ফরজানা উদ্ধারের পর অবশ্য ইমরার্নে এই দাবিকে আস্বীকার করেছে।

উদ্ধার হওয়া ফরজানা ইয়সিমিন জানান, তার সাথে ইমরানের কোন পরিচয় নেই্। ইমরান তাকে জানিয়েছেন তাকে নাকি আগের দিনও তাকে অপহরণ করতে চেয়েছিল, সাথে পরিবারের লোকজন বেশী থাকায় অপহরণ করতে পারেন নি। ঘটনার দিন তার ভাবী রেলে চড়তে গেলে সে ফটকে দাড়িয়ে থাকা অবস্থায় তারে অপহরন করা হয়। এর পর থেকে হোটেলে এসে তার জ্ঞান ফিরে । আবার বলেন তাকে ট্যাক্সিতে করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ সময় ফরজানার কথাবার্তা রহস্যজনক বরে মনে হয়।

স্থানীয়রা মানুষের মাঝে এ ব্যাপারে জেগেছে নানা কৌতুহল, রাউজানের দক্ষ পুলিশ প্রশাসনের কারনে আইন শৃঙ্খলা খুবই স্বাভাবিক। মেলায় রয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তাছাড়া এতগুলো মানুষের মধ্য থেকে কিভাবে এই অপহরণ সম্ভব? অপহরণে পর মেয়েটি কিভাবে স্বাভাবিকভাবে হোটেলে অবস্থান করল, জাহান হোটেলের মালিক বা কর্মকর্তা মধ্যে কেউ নিশ্চয় এই অপহরণের সাথে জড়িত। এই ধরনের নানা প্রশ্নের ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের মনে। সম্পূর্ণ ঘটনাটা খুবই রহস্যজনক।

মতামত