টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে ভুল চিকিৎসায় মন্ত্রীর ভাতিজি’র মৃত্যুর প্রতিবাদে মানববন্ধন

চট্টগ্রাম, ১৩ জানুয়ারি (সিটিজি টাইমস) :  চট্টগ্রামে বেসরকারি ক্লিনিক সার্জিস্কোপে ভুল চিকিৎসায় বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির ভাতিজি’র মেহেরুন্নেসা রিমার (২৬) মৃত্যুর প্রতিবাদে এবং অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক শামীমা সিদ্দিকা রোজীর ফাঁসি দাবিতে মানববন্ধন পালন করেছে নিহত রিমার পরিবার আত্মীয়স্বজন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।

বুধবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এসময় বক্তরা সার্জিস্কোপ হসপিটালের লাইসেন্স বাতিল করে তা বন্ধ করে দেয়ার দাবী জানান। মানববন্ধনে রিমার বাবা খায়রুল বাশার বলেন, আমার সুস্থ সবল মেয়েকে তারা ভুল চিকিৎসা আর অবহেলা করে মেরে ফেলেছে। আমি এর বিচার দাবী করছি।

তিনি বলেন, ডা. রোজী ৯ জানুয়ারি রাতে আমাকে বলেছিলেন, সব দায়িত্ব তার। তার কথায় আস্থা রেখে, একজন ডাক্তার হিসেবে তাকে বিশ্বাস করে আমি অস্ত্রোপচারের ফরমে সই দিয়েছিলাম। টাকার লোভে তিনি সারারাত এখানে সেখানে ঘুরে ভোরে যেনতেনভাবে আমার মেয়ের অস্ত্রোপচার করেছিলেন। এতেই আমার মেয়ে মারা যায়। এ জন্য সার্জিস্কোপে কর্তৃপক্ষও সমান দায়ী।

তিনি ডা. রোজীকে অবিলম্বে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে প্রত্যাহার করে গ্রেফতারপূর্বক ফাঁসির দাবি জানান। একই সাথে সার্জিস্কোপ হসপিটালের লাইসেন্স বাতিল করে তা বন্ধ করার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, সন্তানসম্ভবা মেহেরুন্নেসা রিমাকে গত রোববার ভোরে নগরীর পাচঁলাইশস্থ বেসরকারী ক্লিনিকে সার্জিস্কোপ (ইউনিট-১) এ ভর্তি করা হলে তিনি একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেন। এরপর তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকলে কর্তৃপক্ষ বিকালে তাকে একই প্রতিষ্ঠানের ইউনিট-২ তে স্থানান্তর করেন। সেখানে তার পুনরায় অস্ত্রোপচার করা হলে ক্রমে শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এক পর্যায়ে রাত ৮টার দিকে মেহেরুন্নেসা রীমা মারা যান।

নিহত মেহেরুন্নেসা রীমা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির ছোট ভাই খায়রুল বাশারের মেয়ে এবং অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী আবদুল্লাহ আল মামুনের স্ত্রী।

চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় রীমার মৃত্যু হয়েছে এ অভিযোগ তুলে মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির স্বজনরা ক্লিনিকটি ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। এতে প্রতিষ্ঠানটি রিসিপশন রুমে কম্পিউটার, টেলিফোন সিস্টেমস, কাচ এবং চেয়ার টেবিল ভাঙচুরসহ অন্যা সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

মতামত