টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

স্বাধীনতা যুদ্ধের নায়ক জেনারেল জ্যাকব আর নেই

jচট্টগ্রাম, ১৩ জানুয়ারি (সিটিজি টাইমস) :  একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীকে আত্মসমর্পণের দলিলের খসড়া লিখেছিলেন যিনি, ভারতীয় সেই জেনারেল জেএফআর জ্যাকব আর নেই।

বেশ কিছুদিন অসুস্থতার পর ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এই লেফটেন্যান্ট জেনারেল বুধবার সকালে দিল্লির একটি সামরিক হাসপাতালে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে জেনারেল জ্যাকব এক অবিস্মরণীয় নাম। বাংলাদেশ সরকার মহান এই মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করেছে।

জ্যাকবের ব্যক্তিগত সহকারী কিম জানান, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় গত ১ জানুয়ারি জেএফআর জ্যাকবকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তিনি বলেন, ‘স্যার স্মৃতিভ্রমসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন। তবে শেষ সময়েও তার চেতনা জাগ্রত ছিল। একজন সৈনিকের মতোই মুখে হাসি নিয়ে তিনি মারা গেছেন।’

ইরাক থেকে প্রায় ১৫০ বছর আগে কলকাতায় বসতি গড়া এক ইহুদি পরিবারের সন্তান জ্যাকব ফার্জ রাফায়েল জ্যাকব। জন্ম ১৯২৩ সালে। ব্যবসায়ী বাবা ছেলেকে লেখাপড়ার জন্য পাঠিয়েছিলেন দার্জিলিংয়ের একটি স্কুলে।

১৯৪১ সালে ১৮ বছর বয়সে ব্রিটিশ সরকারের অধীন ভারতীয় সেনাবাহিনীতে নাম লেখান জ্যাকব। বাবা শুরুতে জ্যাকবের সেনাবাহিনীতে যোগদানের বিষয়টি মেনে নিতে না পারলেও দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে ইহুদিদের ওপর নাৎসী বাহিনীর নির্যাতনের বিভৎসতা তার মনোভাব পাল্টে দেয়।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল জ্যাকব ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারতের ইস্টার্ন আর্মির চিফ অব স্টাফ ছিলেন। একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীকে আত্মসমর্পণে রাজি করিয়ে নিজে হাতে দলিলের খসড়া লিখেছিলেন তিনি।

যুদ্ধের আগে ও যুদ্ধ চলাকালীন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার পালিত ভূমিকার জন্য ভারত সরকার তাকে পিভিসিএম পদকে ভূষিত করেন। একাত্তরের অবদানের জন্য ২০১২ সালের ২৭ মার্চ ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে জেনারেল জেএফআর জ্যাকবের হাতে সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জুলাই ১৯৭৮-এ জ্যাকব সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। অবসরের পর তিনি ভারতের পাঞ্জাবের গভর্নর ও চন্ডিগড়ের অ্যাডমিনিস্ট্রেটর হন।

সূত্র: দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

মতামত