টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাউজানে গৃহবধু রহস্যজনক মৃত্যু: মামলা, স্বামী-শাশুড়ীসহ আটক ৩

এস.এম. ইউসুফ উদ্দিন
রাউজান প্রতিনিধি 

Raozan-murder-pic.jpg-2চট্টগ্রাম, ১০ জানুয়ারি (সিটিজি টাইমস) :  রাউজানের নোয়াপাড়ায় গৃহবধু উর্মী আকতারের (২৬) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় নানা গুঞ্জন চলছে। উর্মীর পিতা হাজী এনামুল হক থানায় নয়জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করলেও এটি হত্যা না আত্মহত্যা এ নিয়ে এলাকায় নানা রকম আলোচনা চলছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার ও সাধারণ লোকজন বলছে এটি একটি আত্মহত্যার ঘটনা। এদিকে পুলিশ গত শনিবার গভীর রাতে উর্মীর শাশুরী লায়লা বেগম (৬৫) ও তার বোন নুর বানু (৪০) ও উর্মীর স্বামী ইকবাল হোসেনকে আটক করেছে। তাদের আজ সোমবার আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশ জানিয়েছেন।

জানাগেছে ৯ জানুয়ারি শনিবার সন্ধ্যার পর গৃহবধু উর্মীর ঝুলন্ত লাশ কচুখাইন গ্রামের কাদের সওদাগরের শাশুর বাড়ির রান্না ঘর থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছিল। লাশ ময়না তদন্ত শেষে গতকাল রোববার বিকালে বাপের বাড়ি কাগতিয়ায় উর্মীর লাশ দাফন করা হয়েছে।

আজ রোববার বিকালে কচুখাইন গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে উর্মীর শাশুর বাড়ি পৃথক পৃথক ভবন গুলো খালি পড়ে আছে। বাড়িতে কোনো লোকজন নেই। ৭/৮ আলাদা আলাদা ঘরের সবগুলোতেই তালা দেওয়া।

সরেজমিন গিয়ে এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে আবদুল কাদের সওদাগরের পাঁচ পুত্রের মধ্যে চতুর্থ পুত্র ইকবাল হোসেন স্ত্রী উর্মী। ইকবালের সাথে তার ভাইদের মধ্যে সম্পত্তির ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল কয়েক বছর থেকে। এই বিরোধে জের ধরে স্থানীয় ভাবে বেশ কয়েক বার সালিশ নালিশ হয়েছে। এদিকে দাম্পত্য জীবনে ইকবাল ও তার স্ত্রী উর্মীর সাথে তেমন সখ্যতা ছিল না শাশুরীসহ ভাসুর পরিবারের সাথে। পারিবারিক এই অশান্তির মাঝে ইকবালও বিভিন্ন সময স্ত্রীর উশৃংখল জীবন যাপন দেখে মারধর করতো বলে জানাগেছে। স্থানীয়রা জানায়, উর্মী বিয়ের পর থেকেই শাশুর বাড়ীতে বেপরোয়া স্বভাবের হয়ে চলাফেরা করতো। তেমন কাউকে পাত্তা দিত না। বিভিন্ন সময় স্বামীর ইকবালের অবাধ্য হয়ে মার্কেট বাজারে চলে যেত। এছাড়াও উর্মীর সাথে কিছু উঠতি ছেলেদের সাথে পরর্কীয়া সর্ম্পক ছিল বলেও এলাকায় আগে থেকে প্রচার ছিল। এসব কিছুতে ইকবাল বাধাঁ দিতে গিয়ে স্ত্রী কর্তৃক মার খেয়েছে। একবার নোয়াপাড়া ইউপি কার্যালয়ের সামনে প্রকাশে ইকবালকে উর্মী চড় তাপ্পড় মেরেছে।

Raozan-murder-pic-3ভাসুর মোয়াজ্জম হোসেন, সিরাজুল ইসলাম তার ভাই বৌ আত্মহত্যা করেছেন দাবি করে বলেছেন উর্মী উশৃংঙ্খল জীবন যাপনে অভ্যস্ত ছিল। অনেক সময় সে স্বামীর গায়ে হাত উঠাতো। এই নিয়ে তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ পর্যায়ে গেলে দুপক্ষে সমঝোতায় আবার সংসার ঠিকে যায়। তার ভাষ্যানুসারে উর্মী বিভিন্ন সময় তার রাগ ক্ষোভ সহ্য করতে না পেরে দুইবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে।

এলাকার কয়েক সিএনজি চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিকদের বলেন একবার সিএনজি অটোরিক্সা থেকে লাফিয়ে পড়ে ও অন্যবার ঘুমের ৪১ টি ঔষধ খেয়ে নোয়াপাড়া পথেরহাটের পাইওনিয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল উর্মী। তখন তাদের অটোরিক্সাতে করেই ইকবাল স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে আসে।

এই বাড়ির এক প্রতিবেশি নিজের নাম গোপন রাখার শর্তে বলেছেন ইকবালের সাথে স্ত্রীর উর্মীর মধ্যে দুদিন ধরে ঝগড়া ঝাটি চলে আসছিল। শনিবার বিকালে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে এই বিবাদে মধ্যে জড়িয়ে পরে প্রতিবেশি (ইকবালের খালোতে বোন) নুর বেগম। তিনি ইকবালের পক্ষ নিয়ে উর্মীর সাথে ঝগড়া করতে গেলে দুজনের মধ্যে ধসতা ধস্তি হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম বলেছেন তিনি লোকজনের কাছে শুনে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে গেছেন। সেখানে গিয়ে দেখেন উর্মী ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে বেশকিছু বই পত্র ও আসবাব পত্রে আগুন দিয়েছে। ঘরের ভেন্টিলেটার দিয়ে দেখতে পান ঘরের পিছনের একটি কক্ষে পাখার সাথে ওড়নার সাথে ঝুলে আছে উর্মীর লাশ। তখন ঘরের উভয় দিকের দরজা জানালা ভিতর থেকে আটকানো ছিল। পরে ঘরের দরজা ভেঙ্গে তিনিসহ এলাকার লোকজন ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। এরপর পুলিশ এসে উর্মীর লাশ নামিয়ে নিয়ে যায়। ঘটনারদিন রাতে নিহতের আট বছরের সন্তান ইশতিয়াক হোসেন পুলিশ ও সাংবাদিকদের বলেছেন তার মা প্রথমে বাবা ও আামাদের কিছু বই পত্র ও ঘরের আসবাবপত্রে আগুন ধরিয়ে দেয়। তখন আমি ছোটভাইকে নিয়ে ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসি। এরপর আম্মু আত্মহত্যা করেছে। তবে এই দাবিকে নাকচ করে দিয়ে উর্মীর ভাই ইমতিয়াজ হোসেন বলেছেন তার বোনকে শাশুর পরিবারের সদস্যরা নির্মাম ভাবে হত্যা করতে চেয়েছিল গায়ে আগুন দিয়ে। তার দাবি অবুঝ সন্তানকে ভয় ভিতি দেখিয়ে মিথ্যা বলানো হয়েছে।

জানা গেছে উর্মীর স্বামী ইকবালকে মামলার আসামী করা হলেও সে পুলিশের কাছে ভিন্ন ভিন্ন জবানবন্দি দিয়েছে। প্রথমে তার ভাই ও তাদের পরিবারের সদস্যরা নির্যাতন করে স্ত্রী উর্মীকে হত্যা করেছে বলে জানলেও পরে উর্মী নিজেই আত্মহত্যা করেছে বলে জানায়। নিহতের পিতা এই হত্যা মামলায় আসামী করেছেন তাদের মধ্যে আছে মরহুম আবদুল কাদেরের স্ত্রী লায়লা বেগম, লায়লা বেগমের বোন ঝি নুর বেগম, পুত্র আকবর হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, সৈয়দ হোসেন,মোয়াজ্জেম হোসেন, ইকবাল হোসেনসহ আরো কয়েকজন। স্থানীয় চেয়ারম্যান আলহাজ্ব দিদারুল আলম বলেন, সরেজমিন ঘটনা পরির্দশন করে নিশ্চিত হওয়া গেছে এটি একটি আত্মহত্যার ঘটনা।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

One comment

  1. — বেয়াদ্দব মাইয়া ।

মতামত