টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বাতিল হচ্ছে ‘বিতর্কিত’ ৫৭ ধারা

চট্টগ্রাম, ১০ জানুয়ারি (সিটিজি টাইমস) :  সাইবার অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের শাস্তির বিধান রেখে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ করতে যাচ্ছে সরকার।

এই আইন হলে তথ্য-প্রযুক্তি (আইসিটি) আইন-২০০৬ এর (সংশোধনী ২০১৩) ৫৭ ধারা বাতিল হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

রবিবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রণীত আইনের খসড়া নিয়ে সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক হয়।

বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৬ পাস হলে তথ্য-প্রযুক্তি ‍আইনের ৫৪, ৫৫, ৫৬ ও ৫৭ ধারা বাদ দেওয়া হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে তথ্য-প্রযুক্তি ‍আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো স্পষ্ট করা হবে। এ কারণে ৫৭ ধারা নিয়ে যে শঙ্কা তা আর থাকবে না।’

আনিসুল হক বলেন, নতুন আইনে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের শাস্তির বিধান রাখা হচ্ছে। এছাড়া অপরাধের ধরণ অনুযায়ী সর্বনিম্ন শাস্তিও নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।

নতুন আইনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘সাইবার ক্রাইম এক সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।’

বৈঠকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক উপস্থিত ছিলেন।

পরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় অপরাধের যে ধরণ-সংজ্ঞা ছিল, নতুন আইনে তা আরো স্পষ্ট করে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

নতুন আইনের আওতায় ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা যাবে বলেও জানান তিনি।

আইসিটি আইনের ৫৭ (১) ধারায় আছে—
‘কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেক্ট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উস্কানি প্রদান করা হয়, তাহা ইহলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ’।

‘(২) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন অপরাধ করিলে তিনি অনধিক চৌদ্দ বছর এবং অন্যূন সাত বৎসর কারাদণ্ডে এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন’।

এই আইনের পর ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই আইনের বাতিলের জন্য আন্দোলনে নামেন।

এক পর্যায়ে গতবছরের ২৬ আগস্ট এ আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে থাকা জাকির হোসেনের পক্ষে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদন দায়ের করেন আইনজীবী শিশির মো. মনির।

এছাড়া এই আইনের ৫৭ ও ৮৬ ধারা বাতিল চেয়ে সুপ্রিমকোর্টের এক আইনজীবী অপর একটি রিট আবেদন করেন, যা ৩০ আগস্ট হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে খারিজ করে দেয়।

তবে একটি রিট নিয়ে গতবছরের ১ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইন-২০০৬ এর (সংশোধনী ২০১৩) ৫৭ ধারাকে কেন সংবিধান পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে।

মতামত