টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাউজানে গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু

এস.এম. ইউসুফ উদ্দিন
রাউজান প্রতিনিধি

Raozan-murder-picচট্টগ্রাম, ০৯ জানুয়ারি (সিটিজি টাইমস) : চট্টগ্রামের রাউজানের নোয়াপাড়া কচুখাইন গ্রামে উর্মী আকতার (২৬) নামের এক সরকারী কর্মচারীর স্ত্রীকে ঘরের মধ্যে আটকে ঘরে আগুন লাগিয়ে শ্বশুর বাড়ীর লোকজন কর্তৃক হত্যা করে লাশ ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে পালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে নিহতের স্বামী ও বাপের বাড়ীর লোকজন। গত ৮ জানুয়ারী শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে এ ঘটনা ঘটে পূর্ব কচুখাইন গ্রামের কাদের সওদাগরের নতুন বাড়ীতে।

নিহত দুই পূত্র সন্তানের জননী উর্মী ওই এলাকার কাদের সওদাগরের ৪র্থ পূত্র চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগের উপ-পরিদর্শক ইকবালের স্ত্রী। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে শনিবার রাত ৯টার দিকে থানায় নিয়ে যায়।

নিহত উর্মীর ভাই ইশতিয়াক হোসেন সুমন, বোন নাজমা আকতার পপি, আফরোজা সুলতানা বোনের শ্বাশুর বাড়ীতে লাশ দেখতে এসে সাংবাকিদের বলেন, গত ২০০৬ সনের ৭ এপ্রিল উপজেলার কাগতিয়া মজিতা পাড়া গ্রামের এনামুল হকের কন্যা উর্মী আকতারের সাথে বিয়ে হয় নোয়াপাড়া কচুখাইন গ্রামের কাদের সওদাগরের ছেলে ইকবাল হোসেনের। স্বামীর সম্পত্তির ভাগভাটোয়ারা নিয়ে উর্মীর স্বামী ইকবালের সাথে তার ভাইদের সাথে বিয়ের পর থেকে জগড়া বিবাদ চলে আসছিল। উর্মীর ওপরও একইভাবে নির্যাতন চলতো বলে জানান তারা।

শনিবার বিকেল ৩টার দিকে ইকবালের নুর বানু নামের এক খালার সাথে জগড়া বাঁেধ ইকবালের স্ত্রী উর্মীর। এক পর্যায়ে ইকবালের খালা বানুকে স্ত্রী উর্মী ঘুষি মেরে চোখে মুখে আঘাত করে। এ ক্ষোভ থেকে উর্মীর শাশুর বাড়ীর লোকজন উর্মীকে ঘরে আটকে ঘরে আগুন দিয়ে গলা টিপে হত্যা করে লাশ ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে পালিয়ে যায় বলে তাদের অভিযোগ।

নিহত উর্মীর দুই ছেলে সন্তানের মধ্যে ইশতিয়াক হোসেন (৮) ও ঈশানের বয়স ৪। তারা দুইজন তখন মায়ের সাথে বাড়ীতে ছিল।

ঘটনাস্থলে আসা ইকবালের মা বলেন, আমার ছেলেরা কেউই বাসায় ছিল না। গত দুইদিন ধরে ইকবালের সাথে স্ত্রী উর্মীর জগড়া চলছিল। তারা স্বামী স্ত্রীর মধ্যে জগড়া বিবাদে উর্মী ঘরে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

ঘটনার দিন রাতে নিহতের স্বামী ইকবাল নোয়াপাড়া পুলিশ ফাড়ীতে এসে বলেন, ঘটনার সময় আমি বাড়ীতে ছিলাম। আমার স্ত্রীর সাথে জগড়ার এক পর্যায়ে আমার ভাইয়েরা মিলে ঘরের দরজা আটকে ফেলে ঘরের হত্যা করে। তখন আমি প্রাণে বাঁচতে পালিয়ে যায়।

এদিকে ইকবালের বড় ভাই ব্যাংক কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম বলেন, ঘটনার সময় আমরা কেউ ই বাড়ীতে ছিলামনা। ইকবালের সাথে র্দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রী উর্মীর বিরোধ চলে আসছিল। যা স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বাররা সবাই জানেন। এ বিরোধে গতকাল শনিবারও তারা স্বামী স্ত্রীর মধ্যে জগড়া বাধেঁ। জগড়ার এক পর্যায়ে ইকবাল বাইরে চলে গেলে উর্মী ঘরে আগুন দিয়ে ফাঁিসতে ঝুলে আত্মহত্যা করে। নিহতের ভাই সুমন জানান, শনিকার রাতে রাউজান থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। এদিকে স্থানীয় চেয়াম্যান দিদারুল আলম বলেন, এটি একটি আত্মহত্যার ঘটনা। যা এলাকার লোকজনের কথাবার্তায় আমরা নিশ্চিত হয়েছি।

এ বিষয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর বলেন, লাশের অবস্থান দেখে হত্যা না আত্মহত্যা বলা যাচ্ছেনা। তবে অন্যান্য পরিবেশ দেখে বিষয়টি পুরো রহস্যজনক মনে হচ্ছে। ঘটনা টি খতিয়ে দেখে আসল রহস্য বের করার চেষ্টা চলছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত