টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ধর্মভিত্তিক অনেক দলই বিএনপি জোট ছাড়ছে

চট্টগ্রাম, ০৯ জানুয়ারি (সিটিজি টাইমস) : ইসলামী ঐক্যজোটের প্রদর্শিত পথে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দল ছাড়তে পারে খেলাফত মজলিশ। আরেক ধর্মভিত্তিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একটি অংশও জোট ছাড়ার পথে। ইসলামী ঐক্যজোটের মতোই দলটির একাংশ জোটে থেকে যেতে পারে। জোটত্যাগী দলগুলো মিলে আরেকটি জোট গঠন করতে পারে। বিএনপি অভিযোগ করছে, জোট ত্যাগের পেছনে সরকারের মদদ রয়েছে।

যারা জোট ছাড়ছে, তাদের আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নেই। তারা আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে। দলগুলোর দায়িত্বশীল সূত্র সমকালকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল জামায়াতে ইসলামীও বিএনপির সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে চলছে। তবে জামায়াতের জোট ছাড়ার সম্ভাবনা নেই। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দল ছেড়ে যাওয়া ধর্মভিত্তিক দলগুলোর জোটে সর্ববৃহৎ ধর্মভিত্তিক দল জামায়াতের ঠাঁই হবে না। ২০১১ সালে নারী-নীতির বিরোধিতায় আট ধর্মভিত্তিক দল মিলে জোট করেছিল। পরে তা থেকে বেরিয়ে যায় সরকারের সমর্থনপুষ্ট চরমোনাইয়ের পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন। দলটি গত ছয় বছর বিনা বাধায় দলীয় কর্মসূচি পালন করেছে। এ দলটিই নতুন জোটের নেতৃত্ব দিতে পারে_ এমন সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে।

২০০৬ সালে শায়খুল হাদীস আজিজুল হকের নেতৃত্বে ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশ বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ছেড়ে পাঁচ দফা চুক্তিতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে যোগ দেয়। দু’দলই এতে সমালোচনার মুখে পড়েছিল।

নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত দল ইসলামী ঐক্যজোট, জমিয়ত ও খেলাফত মজলিশও নির্বাচন বর্জন করে। ২০০১ সালের সংসদে ইসলামী ঐক্যজোট ও জমিয়তের দু’জন করে এমপি ছিল। এই তিন দলের সব শীর্ষ নেতা কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামেরও দায়িত্বশীল পর্যায়ের। ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে হেফাজতের ‘ঢাকা অবরোধ’ কর্মসূচিতে ব্যাপক সহিংসতা হয়। এসব সহিংস ঘটনার মামলায় আসামি হয়েছেন এ তিন দলের নেতারা। অনেকে এখনও আত্মগোপনে রয়েছেন। মামলার ‘চাপেই’ দলগুলো বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ছাড়ছে বলে অনেকে মনে করেন।

একই কারণে জমিয়তের একাংশ জোট ছাড়তে পারে। জমিয়তের সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস বিভিন্ন মামলায় প্রায় দেড় বছর কারাগারে ছিলেন। গত বছরের শেষ দিকে জামিনে মুক্তি পান তিনি। এর পরপরই মহাসচিব থেকে দলের সভাপতি হন। মহাসচিব হন নূর হোসাইন কাসেমী। নূর হোসাইন কাসেমীর নেতৃত্বাধীন অংশটি বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে। সদ্যসমাপ্ত পৌর নির্বাচনে বিএনপি জমিয়তকে ছাড় না দেওয়ায় তার নেতৃত্বাধীন অংশ জোট ছাড়ার চাপ বাড়িয়েছে।

ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল্লাহ সমকালকে বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার মতো শক্তি অর্জন করতে চাই। বিএনপির জোটে থাকলে তা হতো না। তাই জোট ছেড়েছি।’ জোট ছাড়তে সরকারের চাপের কথা অস্বীকার করেন তিনি।

পৌর নির্বাচনে ছাড় না পেয়ে এককভাবে নির্বাচন করেছিল মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাকের নেতৃত্বাধীন খেলাফত মজলিশ। দলটি তাদের ক্ষোভ গত ২০ ডিসেম্বর জোটের মহাসচিব পর্যায়ের বৈঠকে প্রকাশ্যেই প্রকাশ করেছে। জোট কার্যকর আছে কি-না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন দলটির মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের।

সুত্রঃ সমকাল

মতামত