টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

এ মৌসুমে রাউজান-রাঙ্গুনিয়ার ইটভাটায় জ্বলবে পৌনে দুই’শ কোটি টাকার কাঠ

এস.এম. ইউসুফ উদ্দিন
রাউজান প্রতিনিধি 

BRICK-FILED.RAOZANচট্টগ্রাম, ০৮ জানুয়ারি (সিটিজি টাইমস) :  রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ার শতাধিক ইটভাটায় এই মৌসুমে প্রায় পৌনে দুই’শ কোটি টাকার জ্বালানী কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। ভাটা মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতি মন জ্বালানী কাঠ তারা সংগ্রহ করেন দেড়’শ টাকা ধরে। প্রতি ভাটায় এক মৌসমে(পাঁচ মাস) জ্বালানী কাঠ দরকার হয় প্রায় এক কোটি মন।

সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়ক পথে রাউজানের পূর্বাংশ থেকে শুরু করে রাঙ্গুনিয়ার ঘাঘড়া পর্যন্ত এলাকায় সড়ক দুপাশে প্রায় এক’শ ইটভাটা রয়েছে। প্রায় প্রতিটি ভাটায় জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে বনাঞ্চলের গোল কাঠ। কোনো কোনো ভাটায় সামান্য পরিমান কয়লা দেখা গেলেও তা রাখা হয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনকে দেখানোর জন্য। বেশ কয়েকটি ভাটা মালিকের সাথে কথা বলে জানা যায়, কয়লার জোগান পেতে কষ্টসাধ্য হওয়ায় তারা জ্বালানী হিসাবে কাঠে ব্যবহার করছেন।

সরকারি বিভিন্ন বিভাগের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, ওই এলাকার প্রায় সবকটি ইটভাটা চালু রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে। এখানকার কোনো ভাটা চালু রাখার মত সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের বৈধ ছাড়পত্র নেই। সূত্র সমূহ থেকে জানা যায়, ইটভাটা প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত আইনে বলা আছে বনাঞ্চলের পাশে ভাটার প্রতিষ্ঠা করা ও কাঠ পোড়ানো যাবে না। আইনে এই বিষয়ে বিধি নিষেধ থাকলেও প্রভাবশালী ভাটা মালিকরা আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে বছরের পর বছর এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পরিদর্শনে দেখা গেছে রাউজানের ডাবুয়া, হলদিয়া, এলাকায় রাবার বাগানের ভিতরে বাইরে প্রায় ৫০টির মত ইটভাটা রয়েছে। ওসব ভাটায় মাটির জোগান দেয়া হচ্ছে ফসলী জমি ও পাহাড় টিলার মাটি কেটে। জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বনাঞ্চলের গোল কাঠ। যা সংগ্রহ করা হচ্ছে আশ পাশের বন জঙ্গল থেকে। এখানে দেখা গেছে ভাটা থেকে ইট পরিবহনের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে রাবার বাগানের ভিতর দিয়ে রাস্তা। হলদিয়া ইউনিয়নের জনসাধারণ অভিযোগ করেছেন ফসলী জমিতে এখানে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বেশ কয়েকটি ভাটা। ইউনিয়নের পূর্বাংশে বৃক্ষভানুপুর এলাকার বনাঞ্চলের সাথে প্রতিষ্ঠা করা একটি ইটভাটার মাটি জোগান দিতে নিবিচারের ধানী জমি খুন করা হচ্ছে। রাউজানের এই এলাকাটি পাব্বর্ত উপজেলা কাউখালীর সাথে সংযুক্ত হওয়ায় এই পথে প্রতিদিন শত শত আধিবাসী রাউজানসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করে। অধিবাসীদের যোগাযোগের গুরুত্বের কথা বিবেচনায় নিয়ে বৃক্ষভানুপুর সড়কটিসহ এই পথে দুটি ব্রিজ পাকা করে দিয়েছেন রাউজানের সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী। এই এলাকার জনসাধারণ অভিযোগ, বৃক্ষভানুপুর সড়কের শেষ প্রান্তে প্রতিষ্ঠিত একটি ইটভাটার মাটি জোগান দিতে সড়কটির পাশ ঘেঁষে বিশাল কুপ সৃষ্টি করায় এখন গোটা সড়ক হুমকির মধ্যে পড়েছে। স্থানীয়দের আশংকা বর্ষায় এই সড়কটি সৃষ্ট কুপে ধসে যেতে পারে। এই ইটভাটায়ও দেখা গেছে বিশাল কাঠে স্তুপ। রাঙ্গামাটি সড়ক পথের রানীর হাট পার হলেই সড়কের দুই পাশে চোখে পড়ে সারি সারি ইট ভাটা। ধানী জমি ও পাহাড়টিলার মাটি কেটে এসব ভাটার মাটির জোগান দেয়া হচ্ছে। সবকটি ভাটায় জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বনাঞ্চলের কাঠ। এলাকার লোকজন অভিযোগ করেছে রাউজান রাঙ্গুনিয়ার সবকটি ভাটার কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে বনবিভাগের বিট ও রেঞ্জ অফিস। তাদের নাকে ডগায় কাঠ পোড়ানোর মহোৎসব চললেও এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ একরকম নিবরতায় পালন করে চলার নীতি গ্রহন করেছে। এই নিয়ে কথা বললে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ভাটা মালিক বলেছেন ইট পোড়ানোর মৌসুমে মালিক পক্ষের চাঁদায় বিশাল একটি ফাণ্ড সৃষ্টি করেন। এই চাঁদার টাকা দেয়া হয় স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করতে। চাঁদার একটি অংশ যায়, কতিপয় সাংবাদিকের পকেটেও। তারা বলেন এই মৌসুমে সরকারি প্রশাসনের পক্ষে মাঝে মধ্যে অভিযান হয়। অভিযানে সমঝোতায় কিছু জরিমানা করা হয়ে থাকে। এই বিষয়টি জানতে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সাথে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাদের পাওয়া যায়নি।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত