টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সৌদিতে প্রতি নারী কর্মীর সঙ্গে যাবে একজন পুরুষ

চট্টগ্রাম, ০৬ জানুয়ারি (সিটিজি টাইমস) :  প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি জানিয়েছেন, সৌদি আরবে নারী কর্মীদের সঙ্গে একজন নিকটাত্মীয় পুরুষ কর্মীও যাবে। সৌদি আরব দুই লাখ নারী কর্মী চেয়েছে, এর সঙ্গে আরও দুই লাখ পুরুষেরও কর্মসংস্থান হবে। এই সংখ্যাটি পাঁচ লাখ বা এরও বেশি হতে পারে। এসব কর্মীরা বিনা টাকায় সৌদি যাবেন বলে জানান মন্ত্রী।

আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবে ১২টি সিক্টরে শ্রমিক যেতে পারবে। এরমধ্যে রয়েছে ড্রাইবার, গার্ড, মালি ইত্যাদি সেক্টর। কিছু দিন আগে সৌদি সফরে গিয়েছিলাম। সেখানে নারী শ্রমিকদের নিয়ে সৌদির শ্রম মন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের বিশদ আলোচনা হয়েছে। তারা দুইলাখ নারী শ্রমিকের চাহিদা দিয়েছেন। আমরা তাদের সামনে নারী শ্রমিকদের বঞ্চনার বিষয়টি তুলে ধরেছি। তারা আমাদের বক্তব্যে ‘কনভিন্স’ হয়েছে। তারা বলেছে নারী কর্মীদের সঙ্গে নিরাপত্তার জন্য পুরুষ কর্মীও নেয়া হবে। এজন্য কোনো খরচ হবে না।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, শিগগিরই দুই দেশের জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটির সভায় বিষয়টি ঠিক করা হবে। তবে এটা দ্রুতই হবে বলে আশা করেন মন্ত্রী।

বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে নারীকর্মী নিতে কয়েক মাস আগে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হয়। কিন্তু দেশটিতে তুলনামূলকভাবে কম নারীকর্মী যাচ্ছেন। নানা অভিযোগের কারণে বাংলাদেশ থেকে নারীকর্মীরা সৌদি আরবে কম যাচ্ছেন বলে মত সংশ্লিষ্টদের।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে জনশক্তি রপ্তানির চিত্র তুলে ধরা হয়। মন্ত্রী জানান, ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে ৩০ শতাংশ বেশি বৈদেশিক কর্মসংস্থান হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৪ সালে চার লাখ ২৫ হাজার ৬৮৪ জন শ্রমিক বিদেশে গেছেন। ২০১৫ সালে গেছেন পাঁচ লাখ ৫৫ হাজার ৮৮১ জন শ্রমিক। এই সময়ে নারীকর্মীদের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বেড়েছে ৩৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ৩ হাজার ৭০৭ জন নারীকর্মীর বৈদেশিক কর্মসংস্থান হয়েছে। আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ৭৬ হাজার সাতজন। নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, এই সময়ে প্রবাসীদের পাঠানো আয়ও বেড়েছে। মালয়েশিয়ার সঙ্গে আটকে থাকা জনশক্তি রপ্তানির বিষয়ে শিগগিরই একটা সমাধান আসবে বলে আশা মন্ত্রীর।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়টি ওই দেশের ওপরই বেশি নির্ভর করছে। তারা চায় নির্দিষ্ট এজেন্সির মাধ্যমে শ্রমিক নেবে। কিন্তু আমরা এখাসে আপত্তি জানিয়েছি। একারণে বিষয়টি দেরি হচ্ছে। তবে আশা করছি খুব শিগগিরই এই সমস্যা সমাধান হবে।

মতামত