টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাই ট্র্যাজেডি: অবশেষে ঘটনাস্থলে নির্মাণ হচ্ছে স্মৃতিস্তম্ভ ‘অন্তিম’

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি 

Mirsarai-trazedi-Antimচট্টগ্রাম, ০৫  জানুয়ারি (সিটিজি টাইমস) :মিরসরাই ট্র্যাজেডি স্থলে ৫ বছর পর অবশেষে নির্মাণ হচ্ছে স্মৃতিস্তম্ভ ‘অন্তিম’। ট্র্যাজিডির পর পর দুর্ঘটনাস্থলে অন্তিমের নির্মাণের কথা থাকলেও তিন বছর পর গত বছরের ১০ জুলাই অন্তিমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন গৃহায়ন ও গনপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি। ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের দেড় বছর পর ট্র্যাজেডিতে নিহত হওয়া ছাত্রদের পরিবার ও মিরসরাইবাসীর দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসানে অবশেষে স্মৃতিস্তম্ভটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। গত ১ মাস আগে শুরু হয়েছে অন্তিমের নির্মাণ কাজ। প্রতিদিন ৮-১০ জন নির্মাণ শ্রমিক কাজ করছেন। আগামী দু’মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হয়ে যাবে জানান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। ৪র্থ বার্ষিকীতে গত ১১ জুলাই শোকসভায় গৃহায়ন ও গনপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মিরসরাই ট্রাজেডীর দুর্ঘটনাস্থলে স্মৃতিস্তম্ভ ‘অন্তিম’ নির্মাণের জন্য সরকারীভাবে ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্ধ পাওয়া ঘোষণা দিয়েছিলেন।

২০১১ সালের ১১ জুলাই সোমবার দুপুরে মিরসরাই স্টেডিয়াম থেকে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল ফাইনাল খেলা শেষে একটি মিনি ট্রাকে করে বিজয়ী এবং বিজিত উভয় দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকরা আবুতোরাব এলাকায় যাওয়ার সময় বড়তাকিয়া-আবুতোরাব সড়কের সৈদালী এলাকায় ৬০-৭০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ডোবায় উল্টে যায় মিনিট্রাকটি। ডোবার পানিতে ট্রাকটি উল্টে পড়ায় সব ছাত্র ট্রাকের নীচে চাপা পড়ে। পরবর্তীতে স্থানীয়রা উদ্ধারের সময় পানি থেকে একে একে উঠে আসে লাশ আর লাশ। পরে সে লাশের রথ গিয়ে থামে পঁয়তাল্লিশে গিয়ে।

‘অন্তিম’ নির্মাণের জন্য আঁকা নক্শায় দেখা গেছে, বৃত্তাকার বেদির ওপর স্থাপিত মূল স্তম্ভটির (অষ্টভুজ) উচ্চতা ২০ ফুট, তার চূড়ায় শিখা দুই দশমিক পাঁচ ফুট, তিন ধাপ বেদি দুই দশমিক পাঁচ ফুট এবং ভূমি থেকে সর্বমোট উচ্চতা ২৫ ফুট। মূল স্তম্ভকে ঘিরে এক থেকে পর্যায়ক্রমে সাত ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট সাতটি আয়তাকার পিলার সামনে থেকে একপাশ দিয়ে চলে গেছে। সপ্তম পিলারের ওপর থেকে উপ-বৃত্তাকার উড়াল পথে ছয় ধাপের একটি সিঁড়ি মূল স্তম্ভের মাঝামাঝি গিয়ে লেগেছে। ৫ নম্বর পিলারের ওপর থেকে একটি ভাঙা ¯েøট মূল স্তম্ভের গায়ে হেলে আছে। মূল স্তম্ভের পাশে একটি আয়তাকার পিলার আছে যেটিতে নিহতদের তালিকা থাকবে। বৃত্তাকার মূল বেদির তিনটি ধাপ থাকবে। তৃতীয় ধাপটির মাঝে বৃত্তাকার জলাধার থাকবে। তৃতীয় বৃত্তাকার ধাপ থেকে তিন ধাপের সিঁড়ি নেমে আসবে সংযোগ সড়কে।

মিরসরাই ট্র্যাজেডিতে সবচেয়ে বেশী ছাত্র নিহত হওয়া আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাফর সাদেক বলেন, দুর্ঘটনায় আমাদের স্কুলের ৩৪ জন ছাত্র মারা গেছে। তাদের শূন্যতা কখনো পূরন হবার নয়। ঘটনাস্থলে অন্তিমের নিমাণ কাজ শুরু হওয়ায় আমাদের দুঃখ কিছুটা হলেও কমবে। ট্র্যাজেডির সময় শিক্ষা-সচিব এসে আবুতোরাব বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করার ঘোষনা দিলেও অদ্যবদি কিছুই হয়নি। আমরা চাই ট্র্যাজিডির আগামী বর্ষপূর্তির আগে আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করা হবে।

অন্তিমের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সায়েম ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপক মো. লোকমান বলেন, দৈনিক আমাদের ৮-১০ জন নির্মাণ শ্রমিক অন্তিমের নির্মাণ কাজ করতেছে। আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে অবকাঠামো কাজ শেষ হয়ে যাবে। পুরো কাজ শেষ হতে হয়তো আরো ১ মাস সময় লাগবে।

মিরসরাই উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, মিরসরাই ট্র্যাজেডি এক বিভীষিকাময় নাম। ট্র্যাজেডির পর দুর্ঘটনাস্থলে মিরসরাইয়ের সাংসদ গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন স্মৃতিস্তম্ভ ‘অন্তিম’ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। গণপূর্তমন্ত্রীর একান্ত চেষ্টায় অন্তিম নির্মাণের জন্য ৩৫ লাখ টাকা বাজেট হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে স্মৃতিস্তম্ভটির নির্মাণের কাজ শেষ হয়ে যাবে।

মতামত