টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

এক বছর কোন ওয়ানডে ম্যাচ নেই বাংলাদেশের!

চট্টগ্রাম, ০৪  জানুয়ারি (সিটিজি টাইমস) : ১৯৯৭ সালে ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাওয়ার পর এমন একটি বছর আর কখনও আসেনি বাংলাদেশের ক্রীড়া সূচিতে। আইসিসির সূচি অনুযায়ী আগামী নভেম্বরের আগে কোন ওয়ানডে ম্যাচ নেই বাংলাদেশের। অথ্যাৎ, টানা এক বছর ওয়ানডে থেকে বাইরে থাকতে হবে টাইগারদের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথ চলার পর থেকে এত দীর্ঘ বিরতি আর কখনও পায়নি বাংলাদেশ।

অথচ ২০১৫ সালটা কী অসাধারণভাবেই না কাটলো বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের। গত বছর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা, ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ, ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকাকে সিরিজে হারিয়ে চমক সৃষ্টি করলেও, আইসিসি’র ওয়ানডে সূচিতে কোন স্থান নেই বাংলাদেশের।

২০১৫’র ১১ নভেম্বর সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। আইসিসি’র ক্রীড়াসূচি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের নভেম্বরের আগে কোন ওয়ানডে ম্যাচ বরাদ্দ নেই বাংলাদেশের। অথচ ২০০৬ সালের নভেম্বরে আর্ন্তজাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেকের পর থেকে এ পর্যন্ত মাত্র ৪৬টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলা বাংলাদেশের সামনে এ বছর ২০১৬ হাতছানি দিচ্ছে রেকর্ড সংখ্যক ১৭টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ।

জিম্বাবুয়ের সঙ্গে চলতি মাসেই ৪টি সংক্ষিপ্ত ভার্সনের ম্যাচের সিরিজ চূড়ান্ত হওয়ায় এ বছরটি বাংলাদেশের জন্য টি-টোয়েন্টির বছর হিসেবেই গণ্য করা হচ্ছে। এরআগে ২০১৪ সালে এক বছরে সর্বাধিক ১০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। এ বছরে সেই রেকর্ডও ছাপিয়ে যাচ্ছে তারা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বছরে রেকর্ড সংখ্যাক ১৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার হাতছানি তাদের সামনে। এমনকি এই বছরে আর কোন দল বাংলাদেশের মতো এতো আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে না।

টেস্ট ক্রিকেটে আইসিসি র্যাংঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ রয়েছে ৯-এ। অন্য দিকে, টি-টোয়েন্টি র্যাংঙ্কিংয়ে আফগানিস্তানের মতো আইসিসি’র সহযোগী সদস্য দেশ পর্যন্ত বাংলাদেশের উপরে (আফগানিস্তান ৯, বাংলাদেশ ১০)। ৫০ ওভারের ম্যাচের পরিবর্তে এশিয়া কাপের আসন্ন আসরটি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে হচ্ছে বলেই এ বছরে আইসিসির ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রামে (এফটিপি) টেস্ট এবং ওয়ানডে ম্যাচের মিলিয়ে ছাপিয়ে যাচ্ছে সংক্ষিপ্ত ভার্সনে ক্রিকেট ম্যাচের সংখ্যা। ২০১৬ সালে যেখানে বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে ৭টি টেস্ট এবং ৬টি ওয়ানডে, সেখানে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম পর্বের বাধা পেরিয়ে সুপার টেনে উঠতে পারলে বাংলাদেশ খেলবে ১৭টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি।

এক বছরে এতগুলো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার সুযোগকে কাজে লাগাতে চাইছেন বাংলাদেশ দলের সিনিয়র ক্রিকেটার মাহমুদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘এবছর অনেকগুলো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ পাচ্ছি। প্রথমে টি-টোয়েন্টি সিরিজ, এরপর ওই ফরম্যাটে এশিয়া কাপ, তারপর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। যেহেতু সামনে বেশির ভাগ টুর্নামেন্টই টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এবং আমরা এই ভার্সনের ক্রিকেটের সঙ্গে খুব একটা অভ্যস্ত নই, তাই এই ফরম্যাটের ক্রিকেট ম্যাচ যত বেশি খেলব, ততই আমাদের জন্য ভাল হবে।’

২০০৬ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এগারো বছর পর আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার যোগ্যতা অর্জনে বাংলাদেশকে কম পরীক্ষা দিতে হয়নি। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আইসিসি’র শর্ত পূরণ করতে হয়েছে। ২০১৫‘র সেপ্টেম্বরের মধ্যে ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে আট নম্বরের মধ্যে থাকার সে শর্ত মিটিয়েছে তারা। আইসিসি‘র ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ উঠে এসেছে ৭ নম্বরে। তবে আইসিসি’র সূচির জেরে ২০১৭ সালের জুনে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার প্রস্তুতিটা কিন্তু সেভাবে নেওয়ার সুযোগ আপাতত নেই মাশরাফিদের সামনে।

কারন, ২০১৬ সালে আইসিসি-র ক্রীড়াসূচিতে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ মাত্র ৬টি ওয়ানডে, তাও আবার বছরের শেষ দিকে ২টি সিরিজে। নভেম্বরে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে এবং ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ড সফরে সমসংখ্যক ওয়ানডে। আশ্চর্য হলেও সত্যি, আইসিসি’র সূচিতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে ৫ মাসে কোন আর্ন্তজাতিক সফরও নেই বাংলাদেশের। ২০১৭’র জানুয়ারি থেকে মে- এই ৫ মাস আন্তর্জাতিক ক্রিকেটহীন কাটাতে হবে বাংলাদেশ দলকে।

টেস্ট মর্যাদা পাবার পর ২০০১ সালে দ্বি-পাক্ষিক সফরসূচিতে ৬টি ওয়ান ডে ম্যাচে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে বাংলাদেশ দলকে। ২০১৬ সালেও আইসিসি’র এফটিপিতে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ ৬টি ওয়ানডে। ২০০৬ সালে রেকর্ড ২৮টি, কিংবা ২০১০ সালে ২৭টি, ২০০৮ সালে ২৬টি, ২০০৭ সালে ২৩টি, ২০১১ সালে ২১টি’র ঘরে থাকা বছরগুলো এখন শুধুই অতীত। ২০১৫ সালে ওয়ানডে ক্রিকেটে অন্য উচ্চতায় উঠে আসা বাংলাদেশ দল খেলেছে মোট ১৮টি ওয়ানডে। তারপরও চারটি সিরিজের সব ক’টির ট্রফি ঘরে রাখার সৌভাগ্যের বছরেও কিন্তু পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ, তা বলা যাবে না। কারন,আইসিসি‘র পূর্ণ সদস্য ১০টি দেশের মধ্যে সংখ্যার দিক দিয়ে সবচেয়ে কম ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ।

তবে ২০১৬ সালে শুধুমাত্র এফটিপি‘র ওপর নির্ভর করছে না বাংলাদেশ। এর বাইরেও বেশ ক’টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলার সুযোগ তৈরিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকাকে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাহী নিজামুদ্দিন চৌধুরী সুজন। তিনি বলেন, ‘এফটিপি-র সূচিতে স্লট ফাঁকা থাকবে যাদের, তাদের সঙ্গে হোম অথবা অ্যাওয়ে সিরিজ নিয়ে কথা বলব আমরা।’ বাংলাদেশের মতো স্লট ফাঁকা আছে জিম্বাবুয়েরও। তবে হাতের নাগালে থাকা এই দলটির সঙ্গে এফটিপি-র বাইরে ওয়ানডে সিরিজ নয়, বিসিবি চায় ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে উপরের সারির প্রতিপক্ষ, তা না হলে অন্তত সমমানের প্রতিপক্ষ।

২০১৯ সালে ইংল্যান্ডে বসবে ১০দেশকে নিয়ে বিশ্বকাপের আসর। আইসিসি‘র এই মেগা আসরে সরাসরি খেলতে হলে ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে থাকতে হবে সেরা আটের মধ্যে। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আইসিসি‘র সেই ডেডলাইনও মাথায় রাখতে হচ্ছে বিসিবিকে। সে কারণে এফটিপি-র বাইরে ফাঁকা স্লট পেলেও র্যাংকিংয়ে নীচের সারির দলগুলোর বিপক্ষে ওয়ানডে খেলা থেকে বিরত থাকার কৌশলও নিয়েছে বিসিবি।-জাগোনিউজ

মতামত