টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ঢাকার দিকে তাকিয়ে চট্টগ্রাম বিএনপি, মাঠে থাকবে আ.লীগ

চট্টগ্রাম, ০৪  জানুয়ারি (সিটিজি টাইমস) :  ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ পালনে ঢাকার দিকে তাকিয়ে আছে চট্টগ্রাম বিএনপি নেতাকর্মীরা। অপরদিকে চট্টগ্রামে বিএনপির গণতন্ত্র বিরোধী যে কোন কর্মসূচি ও সমাবেশ ঠেকাতে প্রস্তুত মহানগর আওয়ামী লীগ।

পাঁচ জানুয়ারি সকাল থেকে গণতন্ত্র রক্ষা দিবসের কর্মসূচি নিয়ে নগরজুড়ে মাঠে থাকার কথা জানিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। বিএনপির কর্মসূচি ঠেকাতে আওয়ামী লীগ নেতারা কেন্দ্রীয়ভাবে নির্দেশনাও পেয়েছেন।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, গত বছর ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালনের নামে বিএনপি পেট্টল বোমা মেরে ও আগুনে পুড়িয়ে অসংখ্য মানুষ হত্যা করেছে। দেশের প্রতি, দেশের জনগণের প্রতি ভালবাসা নেই । ফলে এই দলটির গণতান্ত্রিক রাজনীতি করার কোন অধিকার নেই।

তিনি বলেন, বিএনপি এবারও ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবসের নামে মাঠে নামার চেষ্টা করছে। আবারও তারা মানুষ মারবে। তাই তাদের মাঠে নামতে দেওয়া যাবে না। মাঠ দখলে রাখার জন্য ইতোমধ্যে ৫ জানুয়ারি সকাল থেকে নগরজুড়ে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের গণতন্ত্র রক্ষা দিবসের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিকেলে নগরীর লালদীঘি মাঠে সমাবেশ করা হবে। এ ব্যাপারে সিএমপির কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে পাঁচ জানুয়ারি নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে। চট্টগ্রাম নগরে বিএনপি কোন সমাবেশ করবে কি না বা এই দিনটি তারা কীভাবে পালন করতে সে ব্যাপারে দিক নির্দেশনাহীন দলের নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় নেতারা বলছেন তারা ঢাকার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। চট্টগ্রাম বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজধানীর সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশ করার অনুমতি পেলে চট্টগ্রামেও সমাবেশ করবে বিএনপি। অনুমতি না পেলে দলীয় নির্দেশনা মোতাবেক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে তারা।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ড. শাহাদাত হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাব দেখে মনে হচ্ছে, বিএনপিকে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার অনুমতি দিবে না। সরকারী দল আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে গতবারের ন্যায় সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশ করার কর্মসূচি দিয়েছে।

সেই থেকে মনে হচ্ছে, সরকার গতবারের মত পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে চাইছে। যে পরিস্থিতির কারনে বিএনপি গত বছর ৫ জানুয়ারি থেকে টানা তিনমাস অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। গণতান্ত্রিক এই আন্দোলন কর্মসূচিকেও সরকারের মদদপুষ্ট টোকাই দিয়ে পেট্টল বোমা ও গাড়িতে আগুন লাগিয়ে নাশকতা সৃষ্টি করে বিএনপির ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে কলঙ্কিত করেছে।

তিনি বলেন, আবার এসব নাশকতার দায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন থেকে শুরু করে তৃণমুলের এমন কোন নেতাকর্মী নেই যাদের বিরুদ্ধে ১০-১২টি করে মামলা দেয়নি। এসব মামলায় পুলিশ বাহিনীতে নিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাদের দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার বাণিজ্য চালাচ্ছে। দলের রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঠে নামতে দিচ্ছে না।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল বজায় রাখার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল বিএনপিকে নানাভাবে কলুষিত করে জনগণের মাঝে নেগেটিভ ধারণা তৈরির মিশনে নেমেছে। দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে বিএনপিকে নি:শেষ করতে চায়। গণতান্ত্রিক উপায়ে মোকাবেলা করার শক্তি ও সাহস কোনটাই সরকারি দলের নেই বলে দাবি করেন তিনি।

প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের দ্বিতীয় বর্ষপূতিতে গণতন্ত্র হত্যা দিবসের কর্মসূচি পালনে বিএনপি আরো তিন দিন আগে সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে ডিএমপিতে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত অনুমতি মেলেনি। আর এই অনুমতির উপর নির্ভর করছে চট্টগ্রামে সমাবেশ করব কিনা।

যদি সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হয়, সমাবেশের অনুমতি দেয় তাহলে চট্টগ্রামেও বিএনপি সমাবেশ করবে। এ জন্য সিএমপির বরাবরে অনুমতির জন্য আবেদনসহ চট্টগ্রাম বিএনপি পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া যদি অন্য যে কোন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামে সমাবেশ করার নির্দেশনা আসে তাতেও সমস্যা নেই, আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপির ভোট বর্জনের মধ্যে অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূতিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে বাঁধার মুখে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে।

সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) কামরুজ্জামান এ প্রসঙ্গে বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে ঢাকায় উত্তেজনা দেখা দিলেও চট্টগ্রামে এখনো সেরকম কিছুই নেই। তবে আগামিকাল সোমবার থেকে উত্তেজনা বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, গত বছর ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সমাবেশের কারনে অনেক আগে-ভাগে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। এবার এ ধরণের কোন সমাবেশের অনুমতি চেয়ে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি কোন আবেদন করেছে কি না আমার জানা নেই। আওয়ামী লীগও সমাবেশের জন্য অনুমতি চেয়েছে কি না তা আমি নিশ্চিত নই।

মতামত