টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ফটিকছড়িতে স্বর্ণমূর্তি নিয়ে লঙ্কাকান্ড !

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি প্রতিনিধি

fotikchori_mapচট্টগ্রাম, ০৩  জানুয়ারি (সিটিজি টাইমস) : ফটিকছড়িতে কুঁড়িয়ে পাওয়া এক স্বর্ণমূর্তি নিয়ে লঙ্কাকান্ড ঘটেছে। প্রায় ১ কেজি ১ শত ত্রিশ গ্রামের স্বর্ণের মূর্তিটিকে অস্ত্র টেকিয়ে ঘর থেকে হাতিয়ে নিয়েছে দুই যুবক। শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভাধীন ফকিরহাট বাজার সংলগ্ন আমির হোসেন সওদাগরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ওই এলাকার ফরিদুল আলম প্রকাশ বাম্পার ফরিদের বড় ছেলে সিএনজি চালক দিদার (৩২) বিগত ১০ দিন পূর্বে মাইজভান্ডার দরবার শরীফে সিলেটের ছাতক এলাকা থেকে আসা এক মহিলার সাথে কথোপকথনে জানতে পারেন, তার কাছে একটি কুঁড়িয়ে পাওয়া স্বর্ণের মূর্তি রয়েছে। মহিলাটি ওই এলাকার পাথর শ্রমিকবলে জানান। পাথর তুলতে গিয়ে ওই স্বর্ণের মূর্তিটা কুঁড়িয়ে পান। এটি পাওয়াতেই ওই মহিলা মাইজভান্ডারে আসেন বলে জানান। মহিলাটি দরবার শরীফে প্রথম আসাতে রাস্তাঘাট অচেনা হওয়াতে সহযোগিতা চেয়ে সিএনজি চালক দিদারের সাথে পরিচয় ঘটে। এর কয়েকদিন পর দিদার ওই মহিলার সাথে যোগাযোগ করে সিলেটে তার বাড়ি চলে যান। সেখানে গিয়ে ওই মূর্তিটা স্বচক্ষে দেখে এবং এটি ক্রয় করবে বলে জানিয়ে সেটার একটি ক্ষুদ্র অংশ কেটে নিয়ে বাড়ি আসেন এবং ওই অংশটি স্বর্ণের দোকানে নিয়ে গিয়ে প্রকৃত স্বর্ণ কিনা যাচাই-বাছাই করেন। প্রকৃত স্বর্ণ নিশ্চিত হওয়ার পর মাত্র ১ লক্ষ দশ হাজার টাকার দামে মূর্তিটি ক্রয় করার জন্য সেখানে যান। দিদার যাতে কোন প্রতারণার শিকার না হয় সেই জন্য সাথে নিয়ে যান ভূজপুরের ইসমাইল নামক এক বৈদ্যকে। ইসমাইল বৈদ্য ছিলেন দিদারের ছোট ভাই ইকবালের (২৫) খুব ঘনিষ্টজন। দিদার ও ইসমাইল বৈদ্য শনিবার সকালে সিলেট থেকে ওই মূর্তিটা নিয়ে দিদারের বাড়িতে ফিরে এসে মূর্তিটি তার বাবা ফরিদুল আলমের কাছে গচ্ছিত রাখেন। কিন্তু সন্ধ্যা হতে না হতেই ঘটে যায় ভিন্ন চিত্র। হঠাৎ পাগলের মতো প্রলাপ করতে থাকেন দিদার। ফকিরহাট বাজারে গিয়ে উদ্ভট আচারণের সাথে সাথে চিৎকার করে সবাইকে বলতে থাকেন ‘আমার কাছে স্বর্ণের মূর্তি আছে’। ততক্ষণে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়। অন্যদিকে দিদারের ছোট ভাই ইকবাল মোটর সাইকেলযোগে বৈদ্য ইসমাইলকে নিয়ে ভূজপুরে বৈদ্যের বাড়ি যাওয়ার পথে ভাই দিদারের এমন অবস্থার কথা শুনে বৈদ্যকে নিয়ে ফকিরহাটে ফিরে আসেন। কিন্তু ফকিরহাট আসতেই তারা দু‘জনকে অজ্ঞাত কিছু যুবক তুলে নিয়ে যায়। এরইমধ্যে দিদারের বাড়িতে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করেন পার্শ্ববর্তী এলাকার মো.আলমগীর(৩৭) ও নুরুল আলম নুরু(৩৬) নামক দুই যুবক। তারা দিদারের বাবা ফরিদুল আলমের মাথায় অস্ত্র টেকিয়ে মূর্তিটি বের করে দিতে বলে। অন্যথায় তাকে হত্যা করবে, সাথে তার ছোট ছেলে ইকবালও তাদের জিম্মায় রয়েছে বলে জানিয়ে তাদেরকে যদি মূর্তি না দেওয়া হয় উভয়কে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেন। শনিবার রাতে এ প্রতিবেদককে এমনি লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা করলেন দিদারে পিতা ফরিদুল আলম।

ফরিদুল আলম আরো বলেন, ‘তারা আমাকে অস্ত্র টেকিয়ে বলেছিল ‘আমরা তৈয়ব ভাইয়ের লোক (সাবেক উত্তরজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক)। তৈয়ব ভাই মূর্তিটি দিয়ে দিতে বলেছে। আমি ভয়ে তাদেরকে মূর্তিটি দিয়ে দিই। আমার ছেলেকে ওই বৈদ্য বানটোনা করে পাগল করে ওই মূর্তিটি পুরো নিয়ে যাওয়ার পাঁয়তারা করেছিল।’

এদিকে খবর পেয়ে ফটিকছড়ির থানার এস.আই ছাদেক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল আসেন। মূর্তিটি নিয়ে যাওয়ার পর বৈদ্য ইসমাইল ও ইকবালকে ছেড়ে দেয় জিম্মিকারীরা।

জানতে চাইলে, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এইচ.এম আবু তৈয়ব বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে দাবী করেন।

এদিকে রাত একটার সময় বৈদ্য ইসমাইলকে এলাকাবাসী আটক করে রাখলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। অপরদিকে ঘটনার প্রায় চার ঘন্টা পর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেন দিদার।

দিদার বলেন, ‘আমার কি ঘটেছিল আমি কিছুই স্বরণ করতে পারছি না। ওই মূর্তির ওজন ছিল ১ কেজি ১ শত ত্রিশ গ্রাম। যার উপরে ৯৯৯ সহ মেইড ইন ফ্রান্স লেখা ছিল। আমি অনেক কষ্ট করে টাকা দিয়ে এ মূর্তি ক্রয় করে নিয়ে এসেছি। আমার মূর্তি আমি ফিরে পেতে চাই’ ।

মূর্তি ছিনতাইকারী ওই দুই যুবক এখন পলাতক। তাদের বাড়ি গিয়েও কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাদের মুঠোফোন খোলা থাকলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা ৬ টা) রিসিভ করছেন না।

ফটিকছড়ি থানার এস.আই ছাদেক বলেন, দিদার ও তার ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হাজতে নিয়ে আসা হয়েছে। পরে বিষয়টি তদন্ত করে মূর্তিটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া যাবে।’

মতামত