টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত না মানা চট্টগ্রামের ৩ সাংসদসহ ২১ জনকে আর মনোনয়ন নয়

চট্টগ্রাম, ০২ জানুয়ারি (সিটিজি টাইমস) :   সদ্য অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভান্ত্রেী শেখ হাসিনা মনোনীত মেয়র প্রার্থীদের সমর্থন না করে বিদ্রোহীদের সমর্থন করায় ২১ সাংসদকে আর সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ ছাড়া দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্রভাবে মেয়র পদে নির্বাচন করে যে ১৯ জন নির্বাচিত হয়েছেন তাদেরও আর ক্ষমা করে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হবে না।

জানা গেছে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থনকারী ২১ সাংসদের তৎপরতা নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরির প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন সাত সাংগঠনিক সম্পাদক। তাদের মধ্যে দুজন বলেছেন, কেন্দ্রীয়ভাবে স্থানীয় পর্যায়ে দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাংসদদের একটি তালিকাও তৈরি করা হয়েছে।

তাদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম-৪ আসনের দিদারুল আলম, চট্টগ্রাম-৬ আসনের এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের এমপি অধ্যাপক ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভী, বগুড়া-৫ আসনের হাবিবুর রহমান, পাবনা-৩ আসনের মকবুল হোসেন, যশোর-৩ আসনের কাজী নাবিল আহমেদ, চাঁদপুর-৪ আসনের ড. শামসুল হক ভূঁইয়া, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের রমেশ চন্দ্র সেন, নড়াইল-১ আসনের কবিরুল হক মুক্তি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের গোলাম রাব্বানী, কুষ্টিয়া-৪ আসনের আবদুর রউফ, দিনাজপুর-১ আসনের মনোরঞ্জন শীল গোপাল, দিনাজপুর-৬ আসনের শিবলী সাদিক, গাইবান্ধা-৪ আসনের আবুল কালাম আজাদ, বরগুনা-১ আসনের অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের মুহিবুর রহমান মানিক, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের আলী আজগার টগর, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের হাসিবুর রহমান স্বপন, মানিকগঞ্জ-১ আসনের এএম নাঈমুর রহমান দুর্জয় ও মৌলভীবাজার-২ আসনের আবদুল মতিন।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কার্যনির্বাহী সংসদের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বিশদ আলোচনা হয়েছে। দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং সেতু ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতারা পৌরসভা নির্বাচনের আদ্যোপান্ত নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। ওবায়দুল কাদের পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের প্রচার কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন।

আওয়ামী লীগের কয়েকজন নীতিনির্ধারক বলেছেন, বেশ কয়েকজন দলীয় এমপির বিরুদ্ধে পৌরসভা নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থন করার অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর কাছে রয়েছে। তিনি এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীদের সমর্থনকারী এমপিদের ভবিষ্যতে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ নেই।

তবে বৈঠকে সুনির্দিষ্টভাবে তিন এমপিকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা হচ্ছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের রমেশ চন্দ্র সেন, নড়াইল-১ আসনের কবিরুল হক মুক্তি এবং বরগুনা-১ আসনের অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ শম্ভু। এই তিন এমপি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীদের সমর্থন করেছেন বলে নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

পৌরসভা নির্বাচনের আগেই প্রধানমন্ত্রী বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীদের সমর্থনকারী কয়েকজন এমপিকে তিরস্কার করেছিলেন। নির্বাচনের একদিন আগে বিমানবাহিনীর শীতকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ উপলক্ষে যশোরে গিয়েও অভিযুক্ত এক এমপিকে সতর্কও করেছিলেন তিনি। এ অবস্থায় দু’একজন এমপি সরে এলেও অন্যরা শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহীদের সঙ্গেই ছিলেন।

আগামী ৯ জানুয়ারি শনিবার দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ ব্যাপারে বিশদ আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যারা কাজ করেছেন তাদের আগামী সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না দেওয়ার মনোভাবই ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

বিদ্রোহী এই মেয়রদের দলে ফিরিয়ে নেওয়া প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়েছে গত বৃহস্পতিবারের বৈঠকে। নেতারা তাদের দলে না নেওয়ার বিষয়ে মতামত দিয়ে বলেছেন, সামনে আরও ১৮৩টি পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন রয়েছে। তাই বিদ্রোহী মেয়রদের দলে ফিরিয়ে নিলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাহবুবউল আলম হানিফ জানিয়েছেন, দলীয় শৃঙ্খলার স্বার্থেই বিদ্রোহীদের ক্ষমা করার সুযোগ নেই। তবে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে।

পৌর নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের আগেই দল থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৯ জন নির্বাচিত হয়েছেন। দলীয় এমপিদের সমর্থন নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন দিনাজপুরের বিরামপুরে লিয়াকত আলী সরকার, বগুড়ার ধুনটে এজিএম বাদশাহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে এআরএম আজরী মোহাম্মদ কারিবুল হক, পাবনার চাটমোহরে মির্জা রেজাউল করিম দুলাল, চুয়াডাঙ্গা সদরে ওবায়দুর রহমান চৌধুরী, জীবননগরে জাহাঙ্গীর আলম, নড়াইলের কালিয়ায় ফকির মুশফিকুর রহমান, মানিকগঞ্জ সদরে গাজী কামরুল হুদা সেলিম, বরগুনা সদরে শাহাদাত হোসেন, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে সাদেকুর রহমান ও মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় শফি আলম ইউনুছ। এ ছাড়াও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মেহেরপুরের গাংনীতে আশরাফুল ইসলাম, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে আবদুস ছাত্তার, ত্রিশালে এবিএম আনিছুজ্জামান, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে আবদুল কাইয়ুম, নেত্রকোনার মদনে আবদুল হান্নান শামীম, ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে মোজাফফর হোসেন বাবলু মিয়া, সিলেটের কানাইঘাটে নিজাম উদ্দিন ও গোলাপগঞ্জে সিরাজুল জব্বার চৌধুরী।

সূত্র: সমকাল

মতামত