টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

২০৫০ সালে পশ্চিমাদের ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম, ১ জানুয়ারি (সিটিজি টাইমস) : ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ৬০ বিলিয়ন ডলার হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, উন্নয়নে ২০৫০ সালে পশ্চিমা দেশগুলোকেও ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ।

শুক্রবার বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা লক্ষ্য সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছি। উন্নত দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান অনেক ভাল। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে আছে। শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে মানুষ অর্থনৈতিক সুবিধা ভোগ করছে। আমাদের রিজার্ভ ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশের প্রশংসা করতে সবাই বাধ্য হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পণ্যের মানোন্নয়নের পাশাপাশি নতুন নতুন বাজার খুঁজে বের করতে উদ্যোক্তাদের তাগিদ দেন।

তিনি বলেছেন, পণ্যের বহুমুখীকরণ করতে হবে। আমাদের উৎপাদিত পণ্যের জন্য বিশ্বে বাজার খুঁজতে হবে।

তিনি বলেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ৯০ ভাগ আমরা নিজেদের অর্থায়নে করি। এখন আর আমাদের ভিক্ষা করতে হয় না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র দূরীকরণে বাংলাদেশ ভাল অবস্থানে রয়েছে। আমরা চাই আমাদের দেশ এগিয়ে যাক। সে দিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা কাজ করছি।

ব্যবসায়ীদের সব সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীদের সকল সুযোগ দেয়া হয়েছে। তবে পণ্যের গুণগত মান এখনো বাড়েনি। ব্যবসায়ীক পণ্যের গুণমান নিশ্চিত করতে হবে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো আয়োজিত এবারের মেলায় বিশ্বের পাঁচ মহাদেশের ২২টি দেশের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। সাতটি দেশ বাংলাদেশের এ মেলায় এসেছে এবারই প্রথম।

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় দেশি-বিদেশি ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে পরিচয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয় মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, এ আয়োজনে বাণিজ্য বৃদ্ধিরও সুযোগ সৃষ্টি হয়।

গতবছর এ মেলায় ৮৫ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ পেয়েছিলেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। তার আগের বছর পাওয়া যায় ৮০ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই মেলার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের আয়োজনের ফলে উৎপাদিত পণ্যের মান বৃদ্ধিরও সুযোগ সৃষ্টি হয়।

মরিশাস, ঘানা, জাপান, নেপাল, হংকং, মরক্কো ও ভুটান এবারের ঢাকা বাণিজ্য মেলার নতুন দেশ। এছাড়া রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, চীন, মালয়েশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি ও আরব আমিরাত।

খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে গুরুত্ব আরোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা মাছ প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে রপ্তানি করতে পারি। শুধু বিদেশে কেন, দেশেও প্রক্রিয়াজাত মাছের বাজার আছে।”

মুসলিম দেশগুলোতে ‘হালাল’ মাংসের চাহিদার কথা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা প্রশ্ন করেন, “মাংস প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানি করতে পারব না কেন?”

ফুল রপ্তানি নিয়েও উদ্যোক্তাদের সামনে একই প্রশ্ন রাখেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ উৎপাদন ও রপ্তানিতেও গুরুত্ব দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “রপ্তানির বহুমুখীকরণ হলে আমরা উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করতে পারব।”

বাংলাদেশ সম্পর্কে বিদেশিদের ধারণা পাল্টে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “যারা বাংলাদেশকে এক সময় করুণার চোখে দেখত, তারাই এখন বাংলাদেশের প্রশংসা করছে।”

তিনি জানান, এখন বাংলাদেশের ৭২৯ ধরনের পণ্য বিশ্বের ১৯২টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে যেখানে বার্ষিক রপ্তানি আয় ছিল দশ বিলিয়ন ডলার, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার তা ৩১ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে গেছে।

“অনেক উন্নত দেশের থেকে বাংলাদেশ ভালো করছে। অনেক উন্নত দেশ অর্থনৈতিক মন্দার কারণে তাদের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে না পারলেও বাংলাদেশ পেরেছে।”

অন্যদের মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমদ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য তাজুল ইসলাম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমেদ এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান শুভাশীষ বসু অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত