টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কক্সবাজারে থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপন হবে দিনে

চট্টগ্রাম, ২৯ ডিসেম্বর (সিটিজি টাইমস): ৩১ ডিসেম্বর কক্সবাজারে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক মেগা বিচ কার্নিভাল২০১৬ সালকে পর্যটন বর্ষ ঘোষণা করেছে সরকার। এ উপলক্ষে দেশে প্রথমবারের মতো কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে আয়োজন করা হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক মেগা বিচ কার্নিভাল’। ৩১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে চলবে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত। একইসঙ্গে এ অনুষ্ঠান থার্টিফার্স্টে নতুনমাত্রা যোগ করবে বলে বিশ্বাস পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের। এ কারণে জেলা প্রশাসন ও ব্যবসায়ীরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছে পর্যটক বরণে। একইসঙ্গে ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।

দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে কক্সবাজারের সৌন্দর্যকে তুলে ধরতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও কক্সবাজার বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির যৌথ উদ্যোগে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মেগা বিচ কার্নিভাল। সঙ্গে যোগ হচ্ছে থার্টিফার্স্ট নাইটের অনুষ্ঠান। তবে সন্ধ্যার পর থেকে কোনও ধরনের অনুষ্ঠান না করার বিধি-নিষেধ বেঁধে দেওয়া হলেও সাগর পাড়ের তারকা হোটেলগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আয়োজন করছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পাশাপাশি ‘মনোমুগ্ধকর নানা বৈচিত্র্যপূর্ণ আয়োজনে সাজানো হচ্ছে এই মেগা বিচ কার্নিভাল। থাকছে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খেলাধুলা ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ওয়াটার স্পোর্টসের ব্যবস্থা। এছাড়া দেশি-বিদেশি স্বনামধন্য শিল্পীদের অংশগ্রহণে থার্টিফার্স্ট নাইটসহ তিনদিনই ওপেন কনসার্ট হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সব অনুষ্ঠান করতে হবে সন্ধ্যার আগেই। নিরাপত্তাজনিত কারণে জেলা প্রশাসন রাতের সব অনুষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে। ইতিমধ্যেই থার্টিফার্স্ট নাইট ও আন্তর্জাতিক মেগা বিচ কার্নিভাল উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন স্পটের ভবন ও দেয়ালগুলো ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে রাঙানো হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের তোরণও।

কক্সবাজার কটেজ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কাজী রাসেল আহমেদ নোবেল বলেন, সন্ধ্যার পর সব অনুষ্ঠান বন্ধ করলেও এবার কক্সবাজারে অন্যরকম থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপিত হবে। সব মিলিয়ে এক জমকালো আয়োজনে কক্সবাজারে রেকর্ট পরিমাণ পর্যটকদের আগমন ঘটবে।

কক্সবাজারের অন্যতম তারকা মানের হোটেল সী-গার্লের ম্যানেজার এমএ হাসিম বলেন, কক্সবাজারে কোথাও শিশুদের জন্য বিনোদনের জায়গা নেই। একমাত্র সী-গার্ল হোটেলেই মিনি শিশুপার্ক রয়েছে। এ কারণে থার্টিফার্স্ট নাইটে সী-গার্ল হোটেলে সব রুম অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। এছাড়া বিদেশি পর্যটক তো রয়েছেই।

তারকা মানের হোটেল লং বিচ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ তারেক বলেন, অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর অভূতপূর্ব সাড়া জাগিয়েছেন পর্যটকরা। লং বিচ হোটেলে রুম দিতে না পেরে অনেক পর্যটক ফেরত যাচ্ছেন। বিশেষ করে থার্টিফার্স্ট নাইটে প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তায় পর্যটকরা মহা খুশি।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় পুলিশ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পর্যটন স্পটগুলোতে পুলিশের নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত এলাকায় পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক কাজ করছে। সাদা পোশাকে নিয়োজিত পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশ, র‌্যাব ও অন্যান্য সংস্থার সদস্যরাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে কাজ করছেন।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, দেশে জঙ্গি সংগঠনগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। একের পর এক নাশকতার কথা বিবেচনা করে এ বছর নিরাপত্তাজনিত কারণে ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর থেকে আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সব ধরনের অনুষ্ঠান না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, গত ১৬ ডিসেম্বরের ছুটির দিন থেকে সমুদ্রসৈকত, প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন, টেকনাফ, শাহপরীর দ্বীপ, ইনানী, হিমছড়ি, রামু, চকরিয়ার ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, সোনাদিয়াসহ পুরো কক্সবাজারেই এখন উপচেপড়া ভিড় লেগেই আছে। থার্টিফার্স্ট নাইটের জন্য বসে না থেকে পর্যটকরা দল বেঁধে নানা অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত