টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

নতুন বছরে ফোরজি

4gচট্টগ্রাম, ২৯ ডিসেম্বর (সিটিজি টাইমস): নতুন বছরেই চালু হচ্ছে বহুল আলোচিত চতুর্থ প্রজন্মের এলটিই বা ফোরজি প্রযুক্তি। নম্বর বদল না করেই মোবাইল ফোন অপারেটর পরিবর্তনের সুবিধা (এমএনপি) পাবেন গ্রাহকরা। এ ছাড়া ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে আসবে প্রথমবারের মতো বাংলা ডোমেইন। যার ফলে দেশের মানুষের প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আরও সহজ ও মসৃণ হবে। একই সঙ্গে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিমকার্ড নিবন্ধন, হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নিবন্ধন এবং সাইবার নিরাপত্তা বাড়াতে একাধিক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বিভিন্ন পদক্ষেপ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করায় প্রযুক্তির ব্যবহার নিরাপদ ও সহজ হবে। এতে টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি গ্রাহকবান্ধব হয়ে উঠবে। 

ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম সমকালকে বলেন, নিকট অতীতে টেলিযোগাযোগ সেবা নিয়ে গ্রাহকদের নানারকম বিরূপ অভিজ্ঞতার কথা শোনা গেছে। সেগুলো আমলে নিয়ে ২০১৬ সালকে সহজ, মানসম্পন্ন ও নিরাপদ সেবা নিশ্চিত করার বছর হিসেবে ধরা হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে বলেও তিনি জানান। তিনি আরও জানান, নতুন বছরে পাইকারি বাজারে ব্যান্ডউইথের দাম আরও কমবে। ফলে গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট প্যাকেজের মূল্যও কমবে।

আসছে ফোরজি :বিদায়ী বছরে দেশে ফোরজি প্রযুক্তি চালুর অনুমতি পেয়েছে ওয়াইম্যাক্স অপারেটররা। ওয়াইম্যাক্স অপারেটরদের লোগো, প্রচারপত্র এবং বিজ্ঞাপনে ‘ফোরজি’ শব্দটি থাকলেও এখনও তিনটি কোম্পানির কোনোটিই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে এ সেবা চালু করেনি। গ্রাহকরা এখনও বঞ্চিত ফোরজি সুবিধা থেকে। ওয়াইম্যাক্স অপারেটরদের গ্রাহক সংখ্যা অবশ্য মোবাইল ফোন অপারেটরদের তুলনায় খুব কম। মোবাইল ফোন অপারেটরদের ক্ষেত্রে ২১০০ মেগাহার্টজে ফোরজি চালুর অনুমতি রয়েছে; কিন্তু গ্রাহকদের ব্যবহারের ক্ষেত্রে হ্যান্ডসেটসহ অন্যান্য সুবিধা অপর্যাপ্ততায় ফোরজি লাভজনক না হওয়ায় কোনো অপারেটরই এ সেবা চালু করেনি; বরং নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে বেতার তরঙ্গ বরাদ্দ পাওয়ায় থ্রিজি সেবা গ্রাহকদের কাছে পেঁৗছে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতেই হিমশিম খাচ্ছে অপারেটররা। ফোরজি এখনও গ্রাহকদের কাছে অধরা স্বপ্নই হয়ে আছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তি নিরপেক্ষতার নীতি বাস্তবায়িত হলে ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের বেতার তরঙ্গে লাভজনকভাবে ফোরজি সেবা চালুর সুযোগ পাবে মোবাইল ফোন অপারেটররা। কারণ এই ব্যান্ডের বেতার তরঙ্গ সমর্থন করে এমন ফোরজি হ্যান্ডসেটসহ অন্যান্য প্রযুক্তিগত সুবিধা এখন পাওয়া যাচ্ছে। তাই গ্রাহকদের কাছে দ্রুতই ফোরজি সেবা পেঁৗছে যাবে। প্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার সমকালকে বলেন, ‘প্রযুক্তি নিরপেক্ষতার নীতি দ্রুত বাস্তবায়ন হওয়া উচিত। এর ফলে সহজ ও সুলভে সাধারণ মানুষ আরও বেশি সমসাময়িক প্রযুক্তিগত সেবা পাবে। সাধারণ মানুষের কাছে এ ধরনের সেবা পেঁৗছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিত।’

বিটিআরসি সূত্র জানায়, টুজির জন্য
১৮০০ মেগাহার্টজে এবং থ্রিজির জন্য ২১০০ মেগাহার্টজে বেতার তরঙ্গ নিলাম দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। এই নিলাম হওয়ার পর ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে প্রযুক্তি নিরপেক্ষতার সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে, তার আগে নয়।

সূত্র জানায়, ২০১৫ সালেই এ নিলাম হওয়ার কথা থাকলেও পূর্বের সিম প্রতিস্থাপন কর নিয়ে অপারেটরদের সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জটিলতা

দূর না হওয়ায় এবং গাইডলাইনের কয়েকটি শর্ত নিয়ে অপারেটরদের আপত্তি থাকায় নিলাম হতে পারেনি। এখন এসব বিষয়ের গ্রহণযোগ্য মীমাংসা করে নতুন বছরের শুরুতেই এ নিলাম অনুষ্ঠানের চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া ফোরজির জন্য ৭০০ মেগাহার্টজে ব্যান্ডের বেতার তরঙ্গ নিলামেরও পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও অপারেটররা এ মুহূর্তে ৭০০ মেগাহার্টজ নয়, ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডকেই ফোরজি চালুর জন্য উপযুক্ত ও লাভজনক বিবেচনা করছেন। বিটিআরসিকেও সেটি জানিয়েছেন তারা।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এ ব্যাপারে সমকালকে বলেন, ‘ফোরজি চালুর জন্য সব ক্ষেত্রই মোটামুটি প্রস্তুত রয়েছে। পেছনের সমস্যা যা-ই থাকুক, সবকিছু পেরিয়ে ২০১৬ সালেই এই চতুর্থ প্রজন্মের প্রযুক্তি সুবিধা পাবেন গ্রাহকরা।’ এ বিষয়ে তার অবস্থান দৃঢ় বলেই তিনি জানান।

এমএনপি সুবিধা পাবেন গ্রাহকরা :গত চার বছর ধরে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর পরিবর্তন না করে মোবাইল ফোন অপারেটর বদলের সুবিধা বা মোবাইল নম্বর পোর্টাবিলিটি, সংক্ষেপে এমএনপি চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে। প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই সেবা আরও আগে থেকেই চালু রয়েছে। বাংলাদেশে গত ২০১৩ সালের জুলাই মাসে কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসের মধ্যেই এমএনপি চালুর লক্ষ্যমাত্রা চালু করেছিল বিটিআরসি। কিন্তু এখানেও নানা জটিলতায় এমএনপি এখনও চালু করা যায়নি। তবে বর্তমান ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর দৃঢ়ভাবে এমএনপি চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় এএনএপি গাইডলাইন প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। এএনপি সেবার জন্য তৃতীয় প্রতিষ্ঠান নিয়োগে দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা চলছে। প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মোবাইল ফোন অপারেটরের প্রধানরাও নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন। এ কারণে এখন এএনপি চালু নিয়ে আর বাধা নেই।

প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম জানান, এএনপি চালুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন দিয়েছেন। নতুন বছরের শুরুর দিকেই গ্রাহকদের জন্য জরুরি এ সেবা চালু হবে বলে জানান তিনি।

চালু হচ্ছে ডটবাংলা ডোমেইন :ওয়েবসাইটে দেশের নামে ডোমেইন থাকলে সংশ্লিষ্ট দেশের গর্ব ও মর্যাদা ভিন্ন মাত্রা পায়। বর্তমানে ডটবিডি নামে ডোমেইন থাকলেও বাংলা ওয়েবসাইটগুলোকে পৃথকভাবে পরিচিত করার ক্ষেত্রে তা ভূমিকা রাখতে পারছে না। আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে তাই চালু হচ্ছে ডটবাংলা ডোমেইন। ফলে ওয়েব দুনিয়ায় বাংলা সাইটগুলোর পৃথক পরিচিতি ও মর্যাদা সুনির্দিষ্ট হবে। প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, ‘কোনো সংশয় নেই, ২০১৬ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিই চালু হবে ডটবাংলা ডোমেইন।’

কমবে ব্যান্ডউইথের দাম :আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে দেশে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের দাম বলতে গেলে আকাশচুম্বী ছিল। প্রতি এমবিপিএস ব্যান্ডউইথের মূল্য ছিল প্রায় এক লাখ টাকার কাছাকাছি। বিগত বছরগুলোতে সরকারি নির্দেশনায় ধারাবাহিকভাবে ব্যান্ডউইথের দাম কমে পাইকারি বাজারে বর্তমানে সর্বনিম্ন ৬২৫ টাকা প্রতি এমবিপিএস পর্যন্ত নেমে এসেছে।

প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম জানান, পাইকারি বাজারের মূল্য কমানোর সুফল যেন সাধারণ গ্রাহকরা পেতে পারেন সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর সুফল নতুন বছরের প্রথম ভাগ থেকেই পাবেন গ্রাহকরা। পাশাপাশি পাইকারি বাজারেও ব্যান্ডউইথের দাম আরও কমানো হবে।

প্রযুক্তির ব্যবহার আরও নিরাপদ হবে :এতদিন সঠিকভাবে সিমকার্ড নিবন্ধন না থাকায় অনিবন্ধিত সিমকার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাহকের নিরাপত্তা ঝুঁকি ছিল। এর ফলে বিগত বছরগুলোয় অনলাইনে ই-মেইল অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট হ্যাকের যন্ত্রণা ও প্রতারণার শিকার হওয়ার অসংখ্য ঘটনা ঘটে।

প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম জানান, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সঠিকভাবে সিমকার্ড নিবন্ধন শেষ হবে ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যেই। এর ফলে সিমকার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে গ্রাহকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সহজ হবে। একই সঙ্গে মোবাইল সংযোগ ব্যবহার করে যে ধরনের অপরাধ হয়, তাও বন্ধ করা সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই মোবাইল হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বর নিবন্ধন শুরু হবে। এতে অবৈধ ও নকল হ্যান্ডসেট বিক্রি বন্ধ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। গ্রাহকরাও প্রতারণার হাত থেকে বাঁচবেন।

এ ছাড়া একাধিক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মাধ্যমে সাইবার নিরাপত্তার পদক্ষেপগুলো সমন্বয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগও ২০১৬ সালেই বাস্তবে রূপ নেবে বলে তিনি জানান। তিনি মন্তব্য করেন, এতে বাংলাদেশে আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদে অনলাইন ব্যবহার সম্ভব হবে।

সুত্রঃ সমকাল

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত