টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

আইসিসির গবেষণার বিষয় ‘বাংলাদেশের ক্রিকেট’

spচট্টগ্রাম, ২৩ ডিসেম্বর (সিটিজি টাইমস):  বিশ্ব ক্রিকেটের দশম টেস্ট খেলুড়ে জাতি বাংলাদেশ। ক্রিকেটের অভিজাত আঙ্গিনায় প্রবেশের পর তিক্ত সব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই যেতে হয়েছে বাংলাদেশকে। যেখানে বাংলাদেশ না বলে দেশটাকে ক্রিকেটের ‘মিনোজ’ নামে সম্বোধন করাকেই রীতি বানিয়ে ফেলেছিলেন ক্রিকেট পন্ডিতরা। ক্রিকেট দুনিয়ার অলি-গলি মাড়িয়ে, অনেক ঝড়, চ্যালেঞ্জ, ত্যাগ-তীতিক্ষার পর ২০১৫ সালে এসে ক্রিকেটের মানচিত্রে বাংলাদেশ এক ‘প্রতিষ্ঠিত’ নাম।

কুলীন সমাজের টিপ্পনীর দিন শেষ। শির উঁচু করে চলার সময় এখন বাংলাদেশ ক্রিকেটের। সুবিস্তৃত ও চির জাগুরুক, ক্রিকেটে অন্তঃপ্রাণ সমর্থকের বহর, বিশ্বমানের ক্রিকেটীয় অবকাঠামো এবং মাঠের ক্রিকেটে শক্তিধর দলের আবাস এখন বাংলাদেশ। হ্যাঁ, বছর ৭-৮ আগেও উপহাসের পাত্র বাংলাদেশের ক্রিকেট আজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এর কাছে উন্নয়নের রোল মডেল।

লেখা পড়ে চোখ কপালে তুলবেন না! বরং গর্বিত বাঙালি হিসেবে জানুন, উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিবেচনা করে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নিয়ে গবেষনা শুরু করতে যাচ্ছে খোদ আইসিসি। আরও আনন্দের সঙ্গে পড়–ন সেই গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন আইসিসির ডেভলপমেন্ট অফিসার, বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক ও প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

গত কয়েক বছরে বিপুল বিক্রমে উন্নতি করছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। ২০১৪ সালের শেষভাগ থেকে ২০১৫ সালে এসে যা বিরাটাকায় রুপ নিয়েছে। এক টানা পাঁচটি ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। টাইগাররা হারিয়েছে ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিধর দলকে। বছরের প্রারম্ভে ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে ভূপাতিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল মাশরাফি বাহিনী।

টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেটের উত্থান, ক্রিকেটীয় সংস্কৃতি গড়ে উঠার বিষয়টির নিগুঢ় রহস্য বিশদ আকারে দেখতে চায় আইসিসি। বাংলাদেশের সফলতার রহস্যটা সহযোগী দেশগুলোর সামনে তুলে ধরবে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের কিছু দেশকে দেয়া হবে সেই গবেষণাপত্র। যা দেখে নিজেদের ক্রিকেটকে আরও সুসংহত করতে পারবে দেশগুলো। গবেষণার জন্য আইসিসি দায়িত্ব দিয়েছে মেলবোর্নের নামকরা ডেকেইন ইউনিভার্সিটির গ্রিন অ্যাসোসিয়েট পরিচালক ও স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞ শিলা এন এনগুয়েনকে। ঢাকায় এসে বাংলাদেশের ক্রিকেটের আদি-অন্ত খতিয়ে দেখবেন এই গবেষক। গোটা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

আগামী ১২ থেকে ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই গবেষণাপর্বের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, “এটা শুধু বাংলাদেশের জন্য গর্বের ব্যাপার নয়, দারুণ অনুপ্রেরণার ব্যাপারও বটে। আমাদের বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ক্রিকেট কিভাবে উন্নতিটা করছে, সেটা ওনারা বিশ্লেষণ করে দেখতে চান। আমাদের উন্নতিটা যে দৃষ্টি কেড়েছে, এটা অবশ্যই আমাদের জন্য অনেক বড় একটা গর্বের ব্যাপার। পাশাপাশি এতে আমরা অনুপ্রানিতও বটে। আমরা মনে করি, আমাদের আরও ভালো কাজ করায় এই ব্যাপারটি অনুপ্রেরণা জোগাবে।”

আইসিসির কর্মকর্তা বুলবুল এখন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার অফিসেই একটি কক্ষে বসেন। সেখানে বসেই আইসিসি, বিসিবি ও ডেকেইন ইউনিভার্সিটির ত্রিমুখী যোগাযোগটা করিয়ে দিয়েছেন তিনি। বুলবুল বলেন, “আইসিসি খেয়াল করেছে যে, বার্বাডোজের মতো কিছু দেশে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা কমছে। আবার অনেক চেষ্টার পরও নেপাল বা পাপুয়া নিউগিনির মতো কিছু দেশে জনপ্রিয়তা বাড়ছে না। অনেক দেশ আবার অনেক চেষ্টা করেও সাফল্য পাচ্ছে না। এই জায়গাগুলোতে তারা একটা মডেল খোজ করছিল, যে মডেলটা বিভিন্ন দেশে প্রয়োগ করা যাবে। এখন দ্রুত উন্নতি করায় বাংলাদেশ যে সেরা মডেল, আমাকে স্রেফ এটা বোঝাতে হয়েছে।”

বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নয়নের এই মডেলকেই কাজে লাগাতে চায় আইসিসি। সে জন্য চার দিনের এই সফরে বাংলাদেশের ক্রিকেটার, ক্লাব কর্মকর্তা থেকে শুরু করে বোর্ড পরিচালক বা প্রধান নির্বাহীর সাথে আলাপ করতে চান শিলা। গবেষনার ধরণ বিষয়ে বুলবুল বলেন, “উনি মূলত বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত ও সাক্ষাতকার থেকে পরিবর্তনটা বোঝার চেষ্টা করবেন। আমাদের এখানে ক্লাব ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা একটা বড় ব্যাপার। সেটা নিয়ে কাজ করবেন। কিভাবে ক্রিকেটাররা উঠে আসছে, দেখতে চাইবেন।”

মতামত