টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কলঙ্কিত করেছেন খালেদা: হানিফ

চট্টগ্রাম, ২২ ডিসেম্বর (সিটিজি টাইমস):  মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যা নিয়ে ‘বিতর্ক আছে’ বলে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।

‘এমন বক্তব্য দিয়ে খালেদা জিয়া মূলত রাজাকার ও পাকিস্তানিদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন। পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেবে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃত করছেন।’

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুর-১২ নম্বর গোল চত্বরে পল্লবী ও রূপনগর থানা আওয়ামী লীগ আয়োজিত মহান বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন মাহবুব উল আলম হানিফ।

সোমবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধাদের এক সমাবেশে খালেদা জিয়া তার বক্তব্যে বলেন, ‘বলা হয়, এত লক্ষ লোক শহীদ হয়েছে। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে যে, আসলে কত শহীদ হয়েছে মুক্তিযুদ্ধে, এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।’

মাহবুব উল আলম হানিফ বিএনপির চেয়ারপারসনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘উনি (খালেদা) নাকি অসুস্থ। তাই আদালতে গেলেন না। অথচ দেশের ইতিহাস বিকৃত করতে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে যেতে পারেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় বিএনপির মধ্যে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। তা দেখে দলটির নেত্রী মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাই বিএনপি নেতাদের বলব— আপনাদের নেত্রীর চিকিৎসা করান। আওয়ামী লীগ সুস্থ খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে শক্তিশালী বিরোধী দল প্রত্যাশা করে।’

ঢাকা-১৬ আসনের (মিরপুর) এমপি ইলিয়াস হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে এ আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সভাপতি মাঈনুল ইসলাম খান ও মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রহমান বক্তব্য রাখেন।

মেনন-বাদশার প্রতিবাদ
এদিকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্য ‘পাকিস্তানিদের অপকর্মকে আড়াল করার উদ্দেশ্যেই’ বলে মন্তব্য করেছেন ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃবৃন্দ।

মঙ্গলবার বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবং সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এক যুক্ত বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে এই দুই নেতা বলেন, ‘একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস, শান্তি কমিটির হায়েনারা ত্রিশ লাখ বাঙালিকে হত্যা করেছে— এ কথা আজ শুধু অনুমানই নয়, মীমাংসিত সত্য। এই জঘন্য গণহত্যাসহ ধর্ষণ, লুটপাট ও অন্যান্য মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধের বিচার এই মুহূর্তে বাংলাদেশ এগিয়ে নিয়ে চলেছে। এই বিচারের বিরোধিতা করে পাকিস্তান সরকার নিজেদের সে সময়ের অপকর্মকে অস্বীকার করার মতো ধৃষ্টতাও দেখিয়েছে।’

তারা বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চিহ্নিত ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধী সেনা সদস্যের বিচারের দাবিও বাংলাদেশে জোরালো হচ্ছে। ঠিক সেই মুহূর্তে পাকিস্তানি সরকার এবং যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামীর বক্তব্যের প্রতিধ্বনি শোনা গেল খালেদা জিয়ার কণ্ঠে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এবং এ দেশীয় যুদ্ধাপরাধীদের অপকর্ম হালকা করে দেখানোর হীন রাষ্ট্রবিরোধী উদ্দেশ্যেই খালেদা জিয়া এ বক্তব্য দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে প্রকারান্তরে তিনি যুদ্ধাপরাধীদের প্রত্যক্ষ সমর্থন জানালেন।’

যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নেওয়া এবং তাদের রাজনৈতিক আশ্রয়দানের অপরাধে খালেদা জিয়াকে বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বানও জানান ওয়ার্কার্স পার্টির এই দুই নেতা।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত