টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাই ও বারইয়ারহাট: লড়াই হবে নৌকা-ধানের শীষে

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি 

চট্টগ্রাম, ২২ ডিসেম্বর (সিটিজি টাইমস):  কনকনে শীতও দমিয়ে রাখতে পারছেনা প্রার্থীদের। আগামী ৩০ ডিসেম্বর মিরসরাই ও বারইয়ারহাট পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। শুরু হয়েছে নৌকা-ধানের শীষ প্রতিকের ভোট যুদ্ধ। প্রার্থীরা প্রতীক সম্বলিত নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে ভোটারদের ঘুম ভাঙ্গাচ্ছেন প্রত্যেকটি দিন। দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধ মিরসরাইয়ের আওয়ামীলীগ ও বিএনপি। প্রতিদিন কাকডাকা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রার্থীদের পক্ষে গণসংযোগ শেষে দলীয় নেতা কর্মীদের নিয়ে মেয়র প্রার্থীদের গভীর রাত অবধি চলছে পরের দিনের কর্ম পরিকল্পনা। ইতোমধ্যে মেয়র প্রার্থীদের ৯টি ওয়ার্ডে গণসংযোগ শেষে এখন চলছে পাড়া ও উঠোন বৈঠক। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বিপনী বিতান সর্বত্র চলছে কে হচ্ছেন আগামীর নগর পিতা। ভোটাররা এ ক্ষেত্রে প্রার্থীর চেয়ে প্রতীককে গুরুত্ব দিচ্ছেন অনেকটা।

মিরসরাই পৌরসভায় মেয়র পদে নৌকা প্রতীকে গিয়াস উদ্দিন, ধানের শীষ প্রতীকে এজেডএম রফিকুল ইসলাম পারভেজ, হাতপাখা প্রতীকে আরিফ মঈন উদ্দিন আর বারইয়ারহাট পৌরসভায় নৌকা প্রতীকে নিজাম উদ্দিন, ধানের শীষ প্রতীকে মঈন উদ্দিন লিটন প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন।

বারইয়ারহাট পৌরসভায় আ’লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে পৌর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ফজলুল করিম লিটন ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম খোকন প্রথমে বিদ্রোহী প্রার্থী হলেও পরবর্র্তীতে তারা প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন। দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে লিটন ও খোকন দু’জনকে দেখা যায় নিজাম উদ্দিনের পক্ষে গণসংযোগ করতে। অন্যদিকে মিরসরাই পৌরসভায় আ’লীগের মনোনয়ন চেয়ে না পেয়েও দলীয় প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের পক্ষে গণ সংযোগ করতে দেখা গেছে বর্তমান মেয়র এম শাহজাহান, সিরাজ উদ দৌলা, মিয়া মো. হুমায়ুন কবিরকে। অপরদিকে বারইয়ারহাট পৌরসভায় বিএনপির দলীয় প্রার্থী মঈন উদ্দিন লিটনের পক্ষে কাজ করার জন্য নির্বাচনী কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে মনোনয়ন প্রত্যাশী পৌর বিএনপির আহŸায়ক দিদারুল আলম মিয়াজীকে। তাকেও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা করতে দেখা গেছে।

মিরসরাই পৌরসভায় আ’লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন বলেন, সারা দেশের ন্যায় মিরসরাই পৌরসভাতেও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে প্রার্থী হয়েছি। নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হলে মিরসরাই পৌরসভাকে পরিচ্ছন্ন মডেল শহর রূপে গড়ে তোলার জন্য তিনি পৌরসভায় বাস, ট্রাক টার্মিনাল ও সিএনজি ষ্টেশন তৈরী, পৌরসভার কাঁচা রাস্তাগুলো পাকা ও ভাঙ্গা রাস্তাগুলো সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নীত করণ সহ ড্রেনের আর্বজনা ও পানি নিস্কাশনের জন্য কর্মী নিয়োগ, পৌর কাঁচা বাজারকে দোতলায় রূপান্তর করা, পৌর উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে রূপান্তর সহ সাইত্রিশ দপা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন।

বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী এজেডএম রফিকুল ইসলাম পারভেজ বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের গণতন্ত্রকে ভুলণ্ঠিত করে এক দলীয় শাসন কায়েম করেছে। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সরকার বিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করতে আমি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি।’ তিনি মেয়র নির্বাচিত হলে মিরসরাই পৌরসভাকে একটি সমৃদ্ধশালী পৌরসভায় রূপান্তর করার জন্য ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠন, জলাবদ্ধতা নিরসন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সিএনজি চালিত ট্রেক্সির স্ট্যান্ড নির্মাণ, নাগরিক সেবা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও সড়কবাতি সহ দশ দপা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। তবে সুষ্ঠ নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন পারভেজ। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিক বরাদ্ধের পর থেকে আমার কর্মীদের উপর হামলা, মাইক ভাংচুর, পোষ্টার, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা সহ নির্বাচনী গনসংযোগ না করতে হুমকি দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। এসব ব্যাপারে রিটার্নিং অফিসার বরাবর একাধিক লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

বারইয়ারহাট পৌরসভার আওয়ামীলীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন বলেন, গত ৫ জানুয়ারীর আগে ও পরে বিএনপি-জামায়াত দেশে যেভাবে আগুন সন্ত্রাস চালিয়ে পৌর নির্বাচনে ভোটাররা তাদের প্রত্যাখান করবে। সারা দেশের সাথে বারইয়ারহাট পৌরসভায়ও উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে আমি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে প্রার্থী হয়েছে। তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত হলে পৌরসভার স্থায়ী ভবন নির্মাণ, পৌরবাসীর জন্য হেলথ কমপ্লেক্স চালু, সড়কবাতি লাগানো, পৌরসভর আয়তন বাড়ানো সহ পরিচ্ছন্ন একটি মডেল পৌরসভা নির্মাণ করবো।
বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মঈন উদ্দিন লিটন বলেন, বারইয়ারহাট পৌরসভা প্রথম শ্রেণীর হলেও এখানে কোন নাগরিক সুবিধা নেই। জন সাধারণের উপর করের বোঝা দিন দিন বাড়ছে। তিনি নির্বাচিত হলে পৌরবাসীর সার্বিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চত করার স্বার্থে পানি সাপ্লাইর ব্যবস্থা, রান্না বান্নার সুবিধার্থে গ্যাস লাইনের সংযোগ প্রদান, ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন স্থাপন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত সহ তের দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন।
মিরসরাই পৌরসভা বর্তমানে দ্বিতীয় শ্রেণীতে রয়েছে। পৌরসভার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো পৌরবাসীর জন্য স্বাস্থ্য কেন্দ্র না থাকা, বিনোদনের কোন পার্ক না থাকা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত হওয়া, সড়কের কার্পেটিং না থাকা। আর বারইয়ারহাট পৌরসভা প্রথম শ্রেণীর হলেও এখানে নেই গ্যাস সংযোগ। তাছাড়াও স্বাস্থ্য কেন্দ্র, পৌর ভবন না থাকা, বিনোদনের পার্ক, সড়কা বাতি সহ রয়েছে নানা সমস্যা। আসন্ন দুই পৌর নির্বাচনে প্রার্র্থীরা ভোটারদের কাছে এই দাবীগুলো বাস্তাবায়নের প্রতিশ্রæতি দিচ্ছে। মিরসরাই পৌরসভার মেয়র প্রার্থীর পারভেজের মত সুষ্ঠ নির্বাচন নিয়ে মঈন উদ্দিন লিটনও সংশয় প্রকাশ করেছেন। লিটন অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ প্রার্থীর লোকজন প্রতিনিয়ত আমার কর্মীদের মারধর করছে। প্রচারের মাইক ভাংচুর, বিএনপির সিনিয়র নেতাদের উপর হামলা ও আমার পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা করেছে তারা।

মতামত