টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সীতাকুণ্ডে প্রার্থীদের প্রচারণা তুঙ্গে: সুষ্ঠু নির্বাচনে শঙ্কায় বিএনপি-সতন্ত্র প্রার্থীরা

মেয়র পদে ৬, কাউন্সিলর পদে ৪১, সংরক্ষিত পদে ৭

মো. ইমরান হোসেন
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

sitaknd-21চট্টগ্রাম, ২২ ডিসেম্বর (সিটিজি টাইমস):   সীতাকুণ্ডে প্রচারণার দিন থেকে শুরু করে একাধিক প্রার্থী মাঠে নেমেছে প্রচার-প্রচারনায়। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে ১৩ কাউন্সিলার প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেও মেয়র পদে সবাই বহাল। মনোয়ন জমাদানের শুরুতেই নতুন-পুরাতন প্রার্থীদের শত শত লোকে-লোকারন্য হয়ে উঠে উপজেলা পরিষদ। এ সময় আওয়ামীলীগ প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের তোড়জোড় দেখা গেলেও বিএনপি-জামাত প্রার্থীর কর্মীরা ছিল নিষ্ক্রীয়।

মনোনয়নপত্র জমার পর নির্ধারিত দিন থেকে প্রচারনা শুরু করে প্রার্থীরা। নৌকা প্রতিকে বদিউল আলম, ধানের শীষে সৈয়দ আবুল মুনচুর, নারকেল গাছে নায়েক (অব) সফিউল আলম, মোবাইল ফোনে তওহিদুল ইসলাম, জগ প্রতিকে সিরাজ উদ দৌলা ছুট্টু ও নাঙ্গঁলের ফলাই নুরুন্নবী ভূইয়া প্রচারনায় পাগলপান।

অন্যদিকে কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে অংশ নিতে প্রথমে ৫১জন সাধারণ আসনে ও ৭জন সংরক্ষিত আসনে প্রতিদ্বন্ধিতা করলেও পরে ১৩জন প্রার্থী মনোনয়ন করে বাকি নামেন প্রচার-প্রচারনায়। একই সাথে দলত্যাগী দুই আওয়ামীলীগের নেতা বর্তমান মেয়র নায়েক (অব) শফিউল আলম ও সিরাজ উদ দৌলা ছুট্টু স্বতন্ত্র মার্কায় প্রচারনায় নামেন নতুন উদ্যোমে। দল ত্যাগের ঘটনা নিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি হওয়ায় নেতা-কর্মীদের মাধ্যে দেখা দেয় দ্বিধা-দ্বন্দ। এরপরও প্রার্থীরা অপর প্রার্থীকে ঘায়েল করতে নানাভাবে প্রচার-প্রপাকান্ড চালিনোর অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। নানাভাবে প্রার্থীদের প্রচারনায় নানামূখী স্লোগানে মুখরীত হয়ে উঠেছে মাঠ-ঘাট ও দোকান-পাট। দুপুর ঘনিয়ে বিকাল নামতেই মাইকে শুরু হয় নানা রকম জয়ধ্বনি। কে-কার চেয়ে বেশী ভোটারের মনযোগ আকৃষ্ট করবে সেই দিকে নজর রেখে আওয়াজ তোলছে। আর প্রার্থীদের সিডিউল ভিত্তিক গনসংযোগ তো চলছে গ্রাম থেকে গ্রামে। প্রার্থীরা এতো বেশী ব্যস্ত যে সকাল হতে রাত পর্যন্ত এতোটুকু সময় নেই ব্যাক্তি ও সাংসারিক বিষয়ে কথা বলার।

স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী নায়ক সফিউল আলম বলেন,‘ বিগত দিনেও জনগনের পাশে ছিলাম বলে নির্বাচনেও তাদের খোজ খবর নিয়ে কৌশল বিনিময় করছি। আমি নতুন নয় যে ভোটারদের কিছু বুঝাতে হবে। অতিত ও বর্তমান কর্ম সন্তুষ্ঠ হলে অবশ্যই ভোট দিবে। তবে আমি নিশ্চিত কোনো প্রকার ঝামেলা না হলে, জনগন আবরো আমাকে নির্বাচিত করবে। অন্যদিকে আওয়ামীলী সরকারের শাসনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করছে নৌকা প্রার্থী আলহাজ্ব বদিউল আলম।

এ পরিস্থিতিতে দলের প্রার্থীর বিজয় নিয়েও শংকিত আওয়ামীলী। এছাড়া সুষ্ঠ নির্বাচন নিয়ে শংকা প্রকাশ করেন সতন্ত্র প্রার্থীরা। দলীয় প্রতিক বরাদ্ধের পর থেকে পোস্টোরে পোস্টারে পৌর এলাকা ছেয়ে গেলেও আওয়ামীলীগের ৩ প্রার্থী নিয়ে মাঠ সরগরম। ভোটাররা বলছে পুরান চালে ভাত বাড়ে। আবার কেউ কেউ দলকে প্রধান্য দেয়ার কথাও মন্তব্য করছে।

এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ আওয়ামীলীগের ৩ প্রার্থী নির্বাচনে মাঠে নামায় সুবিধা অবস্থানে রয়েছে বিএনপি প্রার্থী। দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে জেলা নেতাসহ কেন্দ্রিয় নেতারা মাঠে নেমেছে গনসংযোগে। হঠাৎ করে বিএনপির জেগে উঠাটা ভোটাদের মনে দাগ কাটছে প্রছন্ডভাবে। আওয়ামীলীগের দুই হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থানে থাকায় ভোটদানে কিছুটা হেরফের হতে পারে বলে মনে করছে সাধারণ ভোটারা। এ ক্ষেত্রে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ভোট চুরিরও আশংকা করছে বিএনপি প্রার্থী। বিএনপি মেনোনীত প্রার্থী সৈয়দ আবুল মুনচুর বলেন,‘ সুষ্ঠ ভোট হলে আওয়ামীলীগ ২% ভোট পাবে না। তাই দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে তারা নানা রকম পায়তারা শুরু করেছে বলে তিনি দাবী করছেন।

তবে সকল দলের প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনায় চালিয়ে যাচ্ছে সমানতালে। কোনো প্রকার বাধা বিঘেœর ঘটানা ঘটেনি। কিছুটা শংকা থাকলেও থেমে থাকেনি প্রার্থীদের প্রচারনা। গ্রাম-গঞ্জের আনাছে কানাচে ডেকে গেছে ব্যানারে-পোষ্টারে। এতেও নির্বাচনী আচরন বিধি লঙ্ঘ যাতে বিঘœ না গড়ে দিকে কঠোর নজরধারী রেখেছে প্রশাসন।

এ বিষয়ে উপজেলা রির্টানিং অফিসার নাজমুল ইসলাম ভূইয়া বলেন,‘ সব দল সমানতালে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে। কোথাও যাতে কোনো প্রকার দ্বন্ধ-সংঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। আবার যাতে কেউ আচরন বিধি লঙ্ঘন করছে কিনা তাও নজরধাীতে রাখা হয়েছে।

মতামত