টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

আগে জাতীয় নিরাপত্তা, পরে প্রাইভেসি

চট্টগ্রাম, ২১ ডিসেম্বর (সিটিজি টাইমস): এতো দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে যোগাযোগ বা কথা আদান প্রদানকে গোপনীয় হিসাবে মনে করা হতো।

কারো ফেসবুকে ঢুকতে হলে গোপন পাসওয়ার্ডের বিকল্প ছিল না।

কিন্তু সে পরিস্থিতি আর নেই। সরকার চাইলেই এখন যে কারো ফেসবুক আইডিতে ঢুকতে পারবে। ফেসবুকভিত্তিক সব ধরনের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবে।

এ নিয়ে নানা রকম প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেও বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষজ্ঞরা।

তাদের ভাষ্য, সবার আগে নিরাপত্তার বিষয়টিই দেখতে হবে। যদি কোনো ফেসবুক অ্যাকাউন্টের তৎপরতা সরকারের কোনো সংস্থার কাছে সন্দেহজনক মনে হয় তাহলে সেই ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার ঢোকার সুযোগ থাকাটা খুবই জরুরি।

ব্যক্তিগত গোপনীয়তার চেয়ে জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অযথা কাউকে হয়রানি করা ঠিক হবে না বলে মনে করেন তারা।

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ও গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ রোবায়েত ফেরদাউস বলেন, সবার আগে জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা। এরপর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা।

তিনি বলেন, কারো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট যদি সরকারের কোনো গোয়েন্দা সংস্থার কাছে সন্দেহ সৃষ্টি করে তবে ওই গোয়েন্দা সংস্থা তার ফেসবুকে সব তথ্য দেখতে পারে। তবে অযথা যেন কাউকে হয়রানি করা না হয় সে বিষয়ে দৃষ্টি দেয়া জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যেমন-যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আড়ি পাতা হয়। সুতরাং আামাদের দেশেও এটি হতে পারে।

তিনি বলেন, যেভাবে সারা বিশ্বে জঙ্গিবাদ মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে তাতে নিরাপত্তার বিষয়ে আমি কনসার্ন। সুতরাং এ বিষয়ে সরকারের যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।

জানতে চাইলে গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান বলেন, ‘নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে সরকার। তবে কেউ যেন খামাখা হয়রানির শিকার না হয়।’

এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বক্তব্য হচ্ছে- আইনশৃংখলা বাহিনী ও সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের যে সক্ষমতা আছে তা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। আধুনিক বিশ্ব যেভাবে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সন্ত্রাস দমন করে, তেমনটি বাংলাদেশেও শুরু হয়েছে। আধুনিক ডাটা সেন্টার স্থাপন, নানা ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তৈরি করাসহ এ সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্যই ঢেলে সাজানো হচ্ছে ‘ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি)। তিনি বলেন, ‘সরকার এখন ইচ্ছা করলেই যে কারও ফেসবুকে প্রবেশ করতে পারবে। আশার কথা হচ্ছে, এখন এ ধরনের প্রযুক্তি আমাদের হাতে এসেছে। তবে আমাদের টার্গেট তারাই যারা অপরাধ করবে।’

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কয়েকটি হামলার ঘটনার পর নাশকতাকারীরা ফেসবুক ব্যবহার করে তাদের আইডিগুলো নিষ্ক্রিয় করে দেয়। ফলে এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদ্ধার করতে সক্ষম হয়নি সরকারের সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু এখন থেকে আইডি নিষ্ক্রিয় করা হলেও সংশ্লিষ্ট ফেসবুকের যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা যাবে। এজন্য আনা হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকার চাইলে সন্দেহভাজন যে কারও ফেসবুকে লগইন করতে পারবে।- ঢাকাটাইমস

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত