টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বারইয়াহাটে মেয়র প্রার্থীর স্ত্রী ও ভাইয়ের উপর হামলা, আহত ৬

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ২০ ডিসেম্বর (সিটিজি টাইমস):আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মিরসরাই ও বারইয়ারহাট পৌরসভা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই উত্তেজনা বিরাজ করছে। রবিবার (২০ ডিসেম্বর) বারইয়ারহাট পৌরসভায় বিএনপির সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মাঈন উদ্দিন লিটনের স্ত্রী কোহিনুর আক্তার, চাচি সাজেদা আক্তার ও ভাই জহির উদ্দিন রাসেলের উপর হামলা করে সন্ত্রাসীরা।। এসময় তাদের বাঁচাতে এগিয়ে এলে আরো ৪ জন আহত হয়। পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজ রোড় এলাকায় এঘটনা ঘটে। এসময় কোহিনুরের পেটে পিস্তল ধরে গণসংযোগ না করতে হুমকি দেয়। ঘটনার পর মেয়র প্রার্থী মাঈন উদ্দিন লিটন জোরারগঞ্জ থানা ও রিটানিং অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

বারইয়ারহাট পৌরসভার বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মঈন উদ্দিন লিটন অভিযোগ করেন, রবিবার সকালে ধানের শীষ প্রতীকে ভোটার চাইতে তার ছোট ভাই জহির উদ্দিন রাসেল ও স্ত্রী কোহিনূর আক্তার কয়েকজন আত্মীয় নিয়ে বারইয়ারহাট পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজ রোড় এলাকায় যান। এসময় কয়েকজন দূর্বৃত্ত তার ছোট ভাই ও স্ত্রীকে পিটিয়ে আহত করে। পরে তার চাচিসহ কয়েক জন আত্মীয় তাদের বাঁচাতে ছুটে এলে তাদেরও পিটিয়ে আহত করা হয়। তার প্রতিপক্ষ প্রার্থীরা নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এছাড়া প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসীরা তাকে ও ভোটারদের হুমকী দিচ্ছে বলে তিনি জানান।বারইয়ারহাট পৌরসভার বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মঈন উদ্দিন লিটনের প্রধান সমন্বয়কারী দিদারুল আলম মিয়াজী অভিযোগ করেন, ‘আওয়ামীলীগের প্রার্থী ভিপি নিজামের কর্মীরা তাদের প্রচারণায় বাধা দিচ্ছেন। শনিবার সন্ধ্যায় বারইয়ারহাট জোবেদা ফার্মেসীর সামনে আমাদের মাইক ও মেশিন ভেঙ্গে আগুন ধরিয়ে দেয়। নির্বাচনে কোন পরিবেশ নেই বারইয়াটে। প্রতিটি ওয়ার্ড ঝুঁকিপূর্ণ। সরকারী দলের লোকেরা প্রকাশ্যে আচরণবিধি লঙ্গন করলেও প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’

এদিকে মিরসরাইয়ের বিএনপি প্রার্থী এজেডএম রফিকুল ইসলাম পারভেজ বলেন, তিনি উপজেলা রির্টানিং অফিসার বরাবরে ২টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। গত ১৭ ডিসেম্বর তার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্ধি আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের লোকজন তার পোষ্টার, ব্যানার ছিড়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এছাড়াও তার নেতাকর্মীদের প্রচারণায় না থাকার জন্য হুমকি দেয়। ২০ ডিসেম্বর দেওয়া অভিযোগে বলেন, গত ১৮ ডিসেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় পৌরসভার কালামিয়া দোকান ও বটতল এলাকায় তার মাইক প্রচারকর্মীকে মেরে আহত করে তার কাছ থেকে মোবাইল, মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয় এবং মাইক, মেশিন ও সিএনজি ভাংচুর করে। ২০ ডিসেম্বর দুপুরে গোভনীয়া ও কালামিয়ার দোকান এলাকায়ও মাইক ভাংচুর করে মাইকম্যানদের মেরে তাদেরকে দিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রচারণায় বাধ্য করায়। এসময় তার ৩ কর্মী আহত হয়।

এদিকে মিরসরাই পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. জাফর ইকবাল (উটপাখি) রির্টানিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগে বলেন, তার প্রতিদ্বন্ধি কাউন্সিলর প্রার্থী নুরুল করিম ও নুরুল মোস্তফা তার পোষ্টার ছিড়ে ফেলে দিচ্ছে ও তার কর্মী সর্মথকদের প্রচারণা বাধা দিচ্ছে। একই পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল কাশেম (পাঞ্জাবী) রির্টানিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন তার প্রতিদ্বন্ধিরা তার পোষ্টার ব্যানার ছিড়ে ফেলছে এবং তার কর্মীদের প্রচারণায় বিরত থাকতে হুমকি দিচ্ছে। এছাড়া বারইয়ারহাট পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ইমাম হোসেনের ব্যানার ও পোষ্টার ছিঁেড়ছে সন্ত্রাসীরা।উপজেলা

আওয়ামীলীগে সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপির অভ্যন্তরীন কোন্দল এবং কাউন্সিল প্রার্থীদের মধ্যে চলমান বিরোধের কারণে বিভিন্ন স্থানে অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। এসব ঘটনা নিজেরা সংঘটিত করে আওয়ামী লীগের ওপর চাপিয়ে ফায়দা লুটতে চাচ্ছে। ৫ জানুয়ারী জ্বালাও পোড়ার কারণে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করছে।’

উপজেলা সহকারী রির্টানিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন বলেন, ‘মিরসরাই ও বারইয়ারহাট পৌরসভা নির্বাচনের জন্য নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা শীঘ্রই আসবেন। এছাড়া বিভিন্ন প্রার্থীদের দেওয়া অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত