টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সাতকানিয়ায় জামায়াত বিহীন পৌর নির্বাচন, তবুও শংকা

চট্টগ্রাম, ২০ ডিসেম্বর (সিটিজি টাইমস): চট্টগ্রামের জামায়াত-শিবির ঘাটি ঘোষিত সাতকানিয়ায় এবার পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী দেয়নি জামায়াত । সেই জন্য দৃশ্যমান প্রচার- প্রচচারনায় নেই দলটির নেতা-কর্মীরা। এরপরও এখানে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় থাকা আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি মনোনীত মেয়র প্রার্থীরা জানিয়েছেন ভিন্ন ভিন্ন আশংকার কথা।

বিএনপি প্রার্থীরা শংকা কারচূপির, আওয়ামীলীগের প্রার্থীর শংকা কলো টাকার দাপট আর জাতীয় পার্টির প্রার্থীর শংকা আছে ষড়যন্ত্রের।

সাতকানিয়া পৌর নির্বাচনে জাতীয় পার্টির হয়ে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন মো, ইউসুপ চৌধুরী । তিনি বলেন, এবারের পৌর নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে আমি মনে করি না । নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রশাসনকে আরো নিরপেক্ষ হওয়ার দাবি জানান তিনি।

লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী ইউসুপ চৌধুরী বলেন, আমার রাজনীতি জন্মসূত্রে পাওয়া । আমি ছোট বেলা থেকে রাজনীতি করে আসছি ।
তিনি বলেন, পৌর সভার ৮ নাম্বর ওয়ার্ডে আমার বাড়ি ৯ নাম্বর ওয়ার্ডে আমার নানার বাড়ি ও শশুর বাড়ি । তা সত্ত্বেও ৮ ও ৯ নাম্বার ওয়ার্ডের আমার পোষ্টার ছিড়ে ফেলছে, এটা কিন্তু ভাল কাজ নয়, নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে।

এদিকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে লড়ছেন মোহাম্মদ জোবাইর। পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী । নির্বাচনী প্রচারণায় কোথাও কোন বাধা নেই বলে মনে করেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত এই প্রার্থী । তবে বিএনপি দলীয় প্রার্থীরা কালো টাকার প্রলোভন দেখিয়ে মানুষদের কাছে ভোটের প্রতিশ্রুতি চাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মোহাম্মদ জোবাইর বলেন, দৃশমান ভাবে এলাকার জনগন আমাদের সাথে আছে, মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে । নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে বিপুল ভোটের ব্যাবধানে জয়লাভ করবেন বলেও আশা করেন নৌকা প্রতীকের প্রাথী জুবাইর ।

তবে তারা তিন জন প্রার্থী মনে করেন জামায়াত-শিবির নির্বাচন করছেনা তাদের নেতা-কর্মীরা কোন প্রকার প্রচার প্রচারনায়ও অংশ গ্রহণ করছেনা । তবে তিন প্রার্থীর আশা এলাকাবাসি ভোট কেন্দ্রে আসতে পারলে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ব্যালেটের মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে ।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সমর্থিত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিন্দ্বীতা করছে হাজী মোহাম্মদ রফিকুল আলম। তিনি পেশায় একজন প্রবাসী হলেও বছরের অর্ধেক সময় দেশে এবং বাকী অর্ধেক সময় প্রবাসে থাকেন। এছাড়াও দেশে বিভিন্ন রকমের ব্যবসা রয়েছে তার।

হাজী রফিকুল আলম বলেন, ‘সাতকানিয়া পৌরসভার যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জনগন ব্যালটের মাধমে আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবে।

বিএনপি এ প্রার্থী অভিযোগ করে বলেন, বিরুদ্ধী দলীয় প্রার্থীরা মাঠ পর্যায়ের দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা-হামলা ও প্রাণ নাশের দেয়ার হুমকি-ধামকি দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা বাধা দিচ্ছে। তবুও আমারা নির্বাচন করে যাবো। আর এলাকার মানুষ আমাদের সাথেই আছে ।

এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা তেমন ভালও বলা যায় না। নির্বাচন সুষ্টু হবে না মন্তব্য করেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হাজি রফিকুল আলম।

ঘোষিত তফসিল অনুসারে, আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ। সাতকানিয়া পৌরসভা নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩২ হাজার নয়’শ সত্তর জন। নয়টি ওয়ার্ড ও তিনটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বী কাউন্সিলর প্রার্থী ৩৭জন।

মতামত