টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে মিটারে অটোরিকশা চলাচল নিয়ে ফের অনিশ্চয়তা!

চট্টগ্রাম, ১৭ ডিসেম্বর (সিটিজি টাইমস):  সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে পহেলা জানুয়ারি থেকে চট্টগ্রামে মিটারে সিএনজি অটোরিকশা চলাচল বাধ্যতামূলক করেছে প্রশাসন। কিন্তু অটোরিকশা মালিকপক্ষ তাদের দাবি পূরণে অনড় থাকায় এখনো কোনো গাড়িতে মিটার লাগানো হচ্ছে না।

অথচ দ্বিতীয় দফায় বেঁধে দেওয়া দুই মাস সময়ের মধ্যে কেটে গেছে দেড় মাস। হাতে আছে মাত্র ১২দিন। ফলে নগরীতে চলাচলরত ১৩ হাজার সিএনজি অটোরিকশার মিটারে চলাচল নিয়ে ফের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

সিএমপির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নতুন বছরের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি থেকে মিটারে সিএনজি অটোরিকশা চলাচল বাধ্যতামূলক। কেউ মিটারে না চললে তার বিরুদ্ধে মামলা করাসহ আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

পুলিশ সিএনজি অটোরিকশা চালক-মালিকদের উদ্দেশ্যে জানিয়েছে, সরকার নির্ধারিত ভাড়া হিসাবে সিএনজি অটোরিকশা চালকরা প্রথম দুই কিলোমিটার ৪০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি কিলোমিটার ১২ টাকা করে আদায় করতে পারবে। বিরতিকালের জন্য ভাড়া প্রতি মিনিটে ২ টাকা হারে যোগ হবে। এছাড়া যে কোনো দূরত্বে নূন্যতম ভাড়া ৪০ টাকা আদায় করতে হবে।

সিএনজি অটোরিকশা চালকেরা এ নিয়ম না মানলে যাত্রীদেরকে পুলিশ প্রশাসন বরাবর অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। এজন্য ট্রাফিক পুলিশের কন্ট্রোল রুমের নাম্বারও (০১৯১৯-৯১১৯১১, ফোন-৬১৯৮৮০) দেয়া হয়েছে।

পুলিশ প্রশাসন এমন কঠোর অবস্থান থাকলেও বাস্তবে নগরীতে এখনো সিএনজি অটোরিকশায় মিটার সংযোজনের কাজ শুরুই করা হয়নি।

চট্টগ্রাম ও মহানগর সিএনজি অটোরিকশা চালক মালিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি হায়দার আজম চৌধুরী বলেন, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরাও আন্তরিক। অনেক আগে থেকে আমাদের একটাই দাবি। অনটেস্ট সিএনজি অটোরিকশাগুলোতেও মিটার লাগাতে হবে।

তিনি জানান, আমরা বিভিন্ন বৈঠকে প্রশাসনকে এ ব্যাপারে জানিয়েছি যে, অনটেস্ট গাড়িগুলো মিটারে না চললে যেসব বৈধ গাড়ি আছে সেগুলোর আর্থিক ক্ষতি হবে।

প্রশাসনের কঠোরতার বিষয়ে আজম বলেন, প্রয়োজনে আমরা নির্ধারিত সময়ে সিএনজিতে মিটার সংযোজন করে রাখব। কিন্তু দাবি পূরণ না হলে দরকার হলে আমরা রাস্তায় গাড়ি চালাবো না।

এদিকে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালকদের শ্রমিক সংগঠন চট্টগ্রাম অটোরিকশা অটোটে¤পু শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ স¤পাদক হারুনুর রশীদ বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে সিএনজি অটোরিকশায় মিটার সংযোজনের কাজ সম্ভব নয়। আরও সময় প্রয়োজন। এছাড়া মালিকের কাছে জমা ৯০০ টাকা করলে চালকেরা কখনো দেবে না। একটা বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে জমার টাকা নিয়ে। আগের ভাড়া ৬০০ টাকা দিতে চালকেরা আগ্রহী বলে তিনি জানান।

হারুনুর রশীদ আরও বলেন, সিএনজি অটোরিকশার বিষয়ে আমরা চট্টগ্রামের জন্য আলাদা একটা নীতিমালার দাবি তুলেছি প্রশাসনের কাছে। ১০ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসন, বিআরটিএ ও পুলিশ প্রশাসনকে দেয়া হয়েছে স্মারকলিপি।

এদিকে বিআরটিএ প্রশাসন এখনো মিটার লাগানোর কাজ শুরুই করতে পারছে না। এ নিয়ে তারা নানা অজুহাত দেখাচ্ছে। এ ব্যাপারে বিআরটিএর উপ-পরিচালক মো. শহীদুল্লাহ বলেন, দুয়েকদিনের মধ্যেই মিটার সংযোজনের কাজ শুরু করা হবে। আটটি কো¤পানি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় মিটার সংযোজনের কাজ করবে।

তিনি বলেন, কাগজে কলমে ১৩ হাজার সিএনজি অটোরিকশা রয়েছে। ৮ টি কোম্পানি দিনে ৩০০ গাড়িতে মিটার সংযোজন করতে সক্ষম। তাহলে একদিনেই আড়াই হাজারের মতো গাড়িতে মিটার লাগানো সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকার সম্প্রতি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করায় পরিবহন মালিকপক্ষের দাবির মুখে গত ১০ সেপ্টেম্বর সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এক বৈঠকে সিএনজি চালিত অটোরিকশার ভাড়া বৃদ্ধি করে। এটি কার্যকরের সময় ছিল গত ১ নভেম্বর। বর্ধিত ভাড়ায় ঢাকা ও চট্টগ্রামে চলাচলরত সিএনজি অটোরিকশার প্রথম দুই কিলোমিটার নূন্যতম ভাড়া ২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ টাকা করা হয়। এছাড়া মালিকের কাছে জমার পরিমাণ ৬০০ টাকার স্থলে ৯০০ টাকা করা হয়।

তখন সিএনজি অটোরিকশায় মিটার সংযোজন করার মতো সময় না থাকার অজুহাতে চট্টগ্রামে নির্ধারিত সময়ে বর্ধিত ভাড়া কার্যকর করতে পারেনি বিআরটিএ প্রশাসন। তবে ঢাকায় নির্ধারিত সময়ে এ বর্ধিত ভাড়া কার্যকর হয়েছে।

এদিকে নির্ধারিত সময়ে ভাড়া কার্যকর না হওয়ায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে সিএনজি অটোরিকশাগুলোতে আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে মিটার সংযোজন বাধ্যতামূলক করতে বলে নতুন বছরের ১ জানুয়ারি থেকে বর্ধিত ভাড়া কার্যকরের জন্য দ্বিতীয় দফায় নির্দেশনা দেয়। তখন থেকে এখনো পর্যন্ত সিএনজি অটোরিকশায় মিটার সংযোজনের কাজ শুরুই করতে পারেনি প্রশাসন!

মতামত