টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

আরও এক দফা কল রেট বাড়ছে!

চট্টগ্রাম, ১৭ ডিসেম্বর (সিটিজি টাইমস): চলতি অর্থবছর মোবাইল ফোনে কথা বলাসহ সব ধরণের সেবার উপর ৩ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার পর এবার উন্নয়ন সারচার্জ নামে আরও এক শতাংশ হারে নতুন মাশুল আরোপ করা হবে।

চলতি অর্থবছর মোবাইল ফোনে কথা বলাসহ সব ধরণের সেবার উপর ৩ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার পর এবার উন্নয়ন সারচার্জ নামে আরও এক শতাংশ হারে নতুন মাশুল আরোপ করা হবে। এই এক শতাংশ মাশুল বৃদ্ধির ফলে সরকার ১৪০ কোটি টাকা বেশি আয় করতে পারবে। উন্নয়ন সারচার্জ নামে এক শতাংশ হারে নতুন এ মাশুল আরোপের ফলে গ্রাহকের ব্যয় আরেক দফা বাড়বে। রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, মোবাইল ফোনের সব ধরণের সেবার উপর এ মাশুল আরোপের বিষয়ে একটি সারসংক্ষেপে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সম্প্রতি স্বাক্ষর করেছেন। এনবিআর এ মাশুল আরোপ ও আদায়ের লক্ষ্যে একটি খসড়া বিধিমালা চূড়ান্ত করেছে। এটি শিগগিরই আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। একটি সূত্র জানিয়েছে, ভেটিংয়ের পর এটি চলতি মাসেই কার্যকর হবে।

গত মার্চ মাসে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত এই বিলে বলা আছে, “সরকার মোবাইল অপরেটর কর্তৃক সিম বা রিম কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে প্রদত্ত সেবার বিনিময়ে প্রাপ্ত সমুদয় অর্থ বা আয়ের ওপর এক শতাংশ হারে সারচার্জ আদায় করবে।” সুনির্দিষ্ট কোনো খাতে জনগণের কাছ থেকে অর্থ তুলতে সারচার্জ আরোপ করে সরকার। এক সময় যমুনা সেতু (বঙ্গবন্ধু সেতু) তৈরিতে সরকার সারচার্জ আরোপ করেছিল। তখন বাস-ট্রেনের টিকিট, সিনেমার টিকিট কাটার সময় অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হত, যা যমুনা সেতুর তহবিলে যেত।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, “২০১৪-১৫ সালের বাজেট অধিবেশনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহান জাতীয় সংসদে প্রদত্ত বক্তৃতায় মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি সারচার্জ আরোপপূর্বক উক্ত সারচার্জের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ শিক্ষা উন্নয়ন খাতে ব্যয় করার স্বপক্ষে সদয় অভিমত ব্যক্ত করেন। “বিষয়টি পর্যালোচনায় দেখা যায়, মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীগণ যে সকল সেবা গ্রহণ করেন তার মূল্যের উপর মাত্র এক শতাংশ সারচার্জ আরোপ করা হলে তা কারো জন্য অধিক করভার হিসেবে বিচিত হবে না। মোবাইল কলচার্জ ও অন্যান্য সেবার উপর এক শতাংশ হারে উন্নয়ন সারচার্জ আরোপ করা হলে বছরে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা সারচার্জ আদায় করা সম্ভব হবে, যা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।”
২০১৫-১৬ অর্থ বছরে মোবাইল ফোনে কথা বলাসহ সব ধরণের সেবার উপর ৩ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়। গত জুন থেকে গ্রাহকে এক টাকা কথা বলার বিপরীতে ১৫ শতাংশ ভ্যাটের পর ৩ শতাংশ সম্পূরক শুল্কসহ ১ টাকা ১৮ পয়সা দিতে হচ্ছে। এবার মোবাইল ফোনে কথা বলাসহ সব ধরণের সেবার ওপর আরও এক শতাংশ উন্নয়ন সারচার্জ (মাশুল) শিগগিরই আরোপ হতে যাচ্ছে সরকার। মোবাইল ফোনের সিম বা রিম ব্যবহার করে ভয়েস কল ছাড়াও সব ধরণের ইন্টারনেট সার্ভিস, এসএমএস এবং অন্যান্য সেবার ক্ষেত্রেও এ বাড়তি মাশুল প্রযোজ্য হবে।

এর আগে ২০১৪ সালের ২৮ জুন সংসদে বাজেট বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম এ ধরনের একটি মাশুল আরোপের পরামর্শ দেন। এর ভিত্তিতে পরবর্তী জুলাই থেকে এটি কার্যকরের উপায় নিয়ে কাজ শুরু করে এনবিআর। এ নিয়ে বেশ কিছুদূর অগ্রগতি হওয়ার পর আইনি কিছু জটিলতা দেখা দেয়। ওই সময় আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, যে কোন ধরণের সারচার্জ বা মাশুল আরোপ করতে হলে সংসদে সংশ্লিষ্ট আইনের পরিবর্তন করতে হবে।

এর প্রেক্ষিতে গত ১৫ নভেম্বর দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন খাতে উন্নয়নমূলক সারচার্জ ও লেভী আরোপ, আদায় এবং আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিধান করেরোববার সংসদে উন্নয়ন সারচার্জ ও লেভী (আরোপ ও আদায়) বিল-পাস করা হয়। ওই দিন জাতীয় সংসদ ভবনে দশম জাতীয় সংসদের ৮ম অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন। বিলের প্রথম তফসিলের কলাম ২ এ বর্ণিত বিষয়ের ওপর কলাম ৩ এ উল্লেখিত হারে উন্নয়ন সারচার্জ আরোপের বিধান করা হয়। এক্ষেত্রে মোবাইল অপারেটর কর্তৃক সিম বা রিম কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে প্রদত্ত সেবার বিনিময়ে প্রাপ্ত সমুদয় অর্থ বা আয়ের ওপর ১ শতাংশ হারে সারচার্জ আরোপ করা হয়।

বিলের ২য় তফসিলে বর্ণিত বিষয়ের ওপর কলাম ৩ এ উল্লেখিত হারে লেভী আরোপের বিধান করা হয়। বিলে বলা হয়, সরকার গেজেট বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আরোপিত শর্তে ও নির্ধারিত মেয়াদে বিলে উল্লেখিত ধারা ৩ এর অধীন আরোপিত উন্নয়ন সারচার্জ ও লেভী আদায় করতে পারবে। সরকার সময় সময় গেজেট বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ তফসিল সংশোধন করতে পারবে।

সুত্রঃ প্রিয় টেক

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত